Alexander Pope: The Rape of the Lock
আলেকজান্ডার পোপের 'The Rape of the Lock' ইংরেজি সাহিত্যের একটি কালজয়ী 'মক-হিরোইক' (Mock-heroic) বা ব্যঙ্গাত্মক মহাকাব্য। এটি মূলত তৎকালীন উচ্চবিত্ত সমাজের তুচ্ছ ঘটনাকে মহাকাব্যের গাম্ভীর্যে উপস্থাপন করে সমাজকে একচোট ব্যঙ্গ করার জন্য লেখা হয়েছিল।
নিচে কাব্যটির বিষয়বস্তু সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
১. মূল প্রেক্ষাপট
কাব্যটি একটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা। লর্ড পেটর (Lord Petre) নামক এক তরুণ আরবেলা ফারমার (Arabella Fermor) নামক এক সুন্দরীর চুল থেকে একগুচ্ছ অলক্ষ্যে কেটে নিয়েছিলেন। এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিবাদ শুরু হয়। পোপের বন্ধু জন ক্যারিল তাকে অনুরোধ করেন এই ঘটনা নিয়ে কিছু একটা লিখে দুই পরিবারের মধ্যে হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে মিটমাট করে দিতে।
২. কাহিনীর সারসংক্ষেপ (The Plot)
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সুন্দরী বেলিন্ডা (Belinda)।
সকাল ও প্রসাধন: বেলিন্ডা সকালে ঘুম থেকে ওঠে এবং তার রূপচর্চায় মগ্ন হয়। পোপ এখানে বেলিন্ডার সাজগোজকে মহাকাব্যের বীরদের যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতির মতো করে বর্ণনা করেছেন।
সিলফ বা অদৃশ্য আত্মা: বেলিন্ডাকে রক্ষা করার জন্য 'এরিয়েল' (Ariel) নামক এক প্রধান সিলফ এবং তার অধীনে হাজার হাজার ক্ষুদ্র আত্মা নিয়োজিত থাকে। এরিয়েল বেলিন্ডাকে স্বপ্নে সতর্ক করে যে, সেদিন তার ওপর কোনো বিপদ আসতে পারে।
লর্ড পেটরের পরিকল্পনা: 'ব্যারন' (The Baron) নামক এক যুবক বেলিন্ডার চুলের কার্ল বা বেণীর প্রেমে পড়ে যায় এবং যেকোনো মূল্যে তা কেটে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে।
হ্যাম্পটন কোর্টে আড্ডা: বেলিন্ডা টেমস নদী দিয়ে নৌকা ভ্রমণ করে হ্যাম্পটন কোর্ট প্রাসাদে পৌঁছায়। সেখানে সবাই চা পান এবং 'ওম্ব্রে' (Ombre) নামক তাসের খেলায় মেতে ওঠে।
চুল কাটা (The Rape): তাসের খেলার পর ব্যারন কাঁচি নিয়ে বেলিন্ডার চুলের একটি গোছা (Lock) কেটে দেয়। এরিয়েল তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল, কিন্তু যখন সে দেখল বেলিন্ডার মনে অন্য এক পুরুষের প্রতি দুর্বলতা জন্মেছে, তখন সে তাকে রক্ষা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে।
বেলিন্ডার প্রতিক্রিয়া: চুল কাটার পর বেলিন্ডা প্রচণ্ড রেগে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে। তার বান্ধবী থালেস্ট্রিস (Thalestris) তাকে আরও উসকে দেয়।
লড়াই ও পরিণতি: দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও এক কাল্পনিক 'যুদ্ধ' শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চুলের গোছাটি হারিয়ে যায়। পোপ দাবি করেন যে, চুলের সেই গোছাটি আকাশে উঠে গিয়ে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছে, যা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
৩. কাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য
ব্যঙ্গ বা স্যাটায়ার: পোপ দেখাতে চেয়েছেন যে, তখনকার অভিজাত সমাজের মানুষ কতটা অসার ছিল। যেখানে একটি সামান্য চুল কাটা নিয়ে তারা মহাযুদ্ধের মতো আচরণ করছে, অথচ দেশের বড় বড় সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
মহাকাব্যের অনুকরণ: মহাকাব্যে যেমন দেব-দেবীরা যুদ্ধ করেন, এখানে তেমনি সিলফরা (ক্ষুদ্র আত্মা) বেলিন্ডাকে রক্ষা করে। বড় যুদ্ধের বদলে এখানে আছে তাসের লড়াই এবং তলোয়ারের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে কাঁচি ও নস্যি (Snuff)।
আলেকজান্ডার পোপের এই কাব্যে 'সিলফ' (Sylphs) বা অলৌকিক চরিত্রগুলোর অন্তর্ভুক্তি ছিল একটি মাস্টাকস্ট্রোক। তিনি তৎকালীন রোসিক্রুসিয়ান (Rosicrucian) মতবাদ থেকে এই ধারণাটি নিয়েছিলেন।
পোপের মতে, মহাকাব্যে যেমন দেব-দেবীরা বীরদের সাহায্য করেন, তেমনি এই 'মক-হিরোইক' কাব্যে ক্ষুদ্র এই আত্মারা বেলিন্ডার মতো সুন্দরীদের রক্ষা করে।
১. সিলফদের পরিচয় ও উৎস
পোপ ব্যাখ্যা করেছেন যে, জীবিত অবস্থায় যেসব নারীদের স্বভাব যেমন ছিল, মৃত্যুর পর তারা সেই অনুযায়ী বিশেষ আত্মায় পরিণত হয়:
সিলফ (Sylphs): যারা জীবিত অবস্থায় চপল বা একটু আমুদে ছিল, তারা বাতাসে সিলফ হয়ে ওড়ে।
নম (Gnomes): যারা গম্ভীর ও অহংকারী ছিল, তারা পৃথিবীর ভেতরে 'নম' হয়ে বাস করে।
নিম্ফ (Nymphs): যারা নরম স্বভাবের ছিল, তারা জলে 'নিম্ফ' হয়ে থাকে।
সালাম্যান্ডার (Salamanders): রাগী নারীরা আগুনের 'সালাম্যান্ডার' হয়ে যায়।
২. সিলফদের প্রধান কাজ
বেলিন্ডার প্রধান রক্ষক হলো এরিয়েল (Ariel)। তার অধীনে কয়েক হাজার সিলফ থাকে যাদের কাজ হলো:
সৌন্দর্য রক্ষা: বেলিন্ডার পাউডার, মেকআপ, লিপস্টিক এবং তার বহুমূল্য পোশাকগুলো রক্ষা করা।
সতর্ক করা: কোনো বিপদ আসার আগে বেলিন্ডাকে স্বপ্নের মাধ্যমে বা মনের ভেতর সংকেত দেওয়া।
শাস্তি: যদি কোনো সিলফ তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তবে তাকে পারফিউমের শিশিতে বন্দি করে রাখা বা সূঁচ দিয়ে বিদ্ধ করার মতো বিচিত্র শাস্তির বিধান আছে।
৩. কেন তারা বেলিন্ডাকে রক্ষা করতে পারল না?
কাব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলো যখন ব্যারন বেলিন্ডার চুল কাটতে যায়। এরিয়েল বেলিন্ডার মনের গভীরে উঁকি দিয়ে দেখতে পায় যে, বেলিন্ডা গোপনে একজন পার্থিব পুরুষের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছে।
পোপের মতে, সিলফরা ততক্ষণই একজন নারীকে রক্ষা করতে পারে যতক্ষণ তার মন সম্পূর্ণ "পবিত্র" বা পার্থিব ভালোবাসা মুক্ত থাকে। বেলিন্ডার মনে পুরুষের প্রতি দুর্বলতা দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই এরিয়েল তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ব্যারন সফল হয়।
৪. আমব্রিয়েল (Umbriel) - নেতিবাচক ভূমিকা
এরিয়েল যখন ব্যর্থ হয়, তখন আমব্রিয়েল নামক এক 'নম' (Gnome) পাতালপুরীতে ('Cave of Spleen') যায়। সে সেখান থেকে দীর্ঘশ্বাস, কান্না এবং ক্রোধের একটি থলি নিয়ে আসে এবং বেলিন্ডার ওপর ঢেলে দেয়। এর ফলেই বেলিন্ডা চুল কাটার পর প্রচণ্ড উন্মাদনা ও কান্নাকাটি শুরু করে।
সহজ কথায়: পোপ এই চরিত্রগুলো ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে তৎকালীন নারীদের জীবন কতটা বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং কৃত্রিমতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এমনকি তাদের রক্ষক দেবতারাও শুধু তাদের প্রসাধন আর পোশাক নিয়েই ব্যস্ত থাকত!
হ্যাঁ, অবশ্যই! আলেকজান্ডার পোপের 'The Rape of the Lock' কাব্যের তৃতীয় পর্বে (Canto III) এই 'ওম্ব্রে' (Ombre) তাসের খেলার বর্ণনাটি অত্যন্ত চমৎকার। পোপ একটি সাধারণ তাসের খেলাকে যেভাবে মহাকাব্যিক যুদ্ধের রূপ দিয়েছেন, তা সত্যিই অদ্বিতীয়।
নিচে যুদ্ধের ঢঙে তাসের খেলার বর্ণনাটি দেওয়া হলো:
১. যুদ্ধের ময়দান (The Game Board)
বেলিন্ডা এবং ব্যারন যখন হ্যাম্পটন কোর্টে বসে তাসের প্যাকেট খোলেন, পোপ তাকে বর্ণনা করেছেন যেন দুই বীর যোদ্ধা যুদ্ধের ময়দানে নেমেছেন। তাসের বোর্ডটি যেন একটি রণক্ষেত্র, যেখানে তাসের কার্ডগুলো হলো একেকজন সশস্ত্র সৈন্য।
২. সৈন্যদের কুচকাওয়াজ (The Cards as Warriors)
পোপ প্রতিটি তাসকে জীবন্ত যোদ্ধার রূপ দিয়েছেন:
রাজা, রানী এবং গোলামরা (Kings, Queens, and Knaves): এরা হলো উচ্চপদস্থ সেনাপতি।
অন্যান্য কার্ড: এরা হলো সাধারণ পদাতিক সৈন্য।
ম্যাটাডোরস (Matadors): ওম্ব্রে খেলায় সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি তাসকে (Spadillio, Menillio, Basto) পোপ 'তিনজন মহান বীর' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৩. যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি (The Battle)
বেলিন্ডার আক্রমণ: শুরুতে বেলিন্ডা খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে আক্রমণ করেন। তার হাতে থাকা শক্তিশালী তাসগুলোর ('Spadillio' বা ইস্কাপনের টেক্কা) মাধ্যমে তিনি একে একে ব্যারনের তাসগুলোকে পরাজিত করতে থাকেন। পোপ এখানে যুদ্ধের ভাষারীতি ব্যবহার করেছেন—যেমন "কার্ডগুলো একে একে নিহত হয়ে ময়দানে লুটিয়ে পড়ছে।"
ব্যারনের পাল্টা আক্রমণ: খেলার মাঝপথে ব্যারন শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তিনি বেলিন্ডার রাজাদের একের পর এক হারিয়ে দিতে থাকেন। বেলিন্ডার মনে ভয় জাগে যে তিনি বোধহয় হেরে যাচ্ছেন। পোপ একে বর্ণনা করেছেন একজন পরাজিত সেনাপতির হাহাকারের মতো।
চূড়ান্ত জয়: শেষ মুহূর্তে বেলিন্ডার কাছে একটি শক্তিশালী তাস ('Ace of Hearts') ছিল, যার মাধ্যমে তিনি ব্যারনের শেষ তাসটিকে পরাজিত করেন। বেলিন্ডার এই জয়কে পোপ এমনভাবে উদযাপন করেছেন যেন কোনো মহান সম্রাট বিশ্বজয় করেছেন।
৪. মক-হিরোইক (Mock-heroic) গুরুত্ব
পোপ কেন এই বর্ণনাটি দিলেন?
তুচ্ছতাকে বড় করা: একটি সাধারণ খেলাকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মতো বর্ণনা করে পোপ বোঝাতে চেয়েছেন যে, সেই সময়ের উচ্চবিত্ত সমাজের কাছে তাসের জয়-পরাজয়ই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।
ভাগ্যের পরিহাস: খেলার এই জয় বেলিন্ডাকে এক ধরনের মিথ্যা অহংকার দেয়। ঠিক এই জয়ের আনন্দ উপভোগ করার মুহূর্তেই ব্যারন সুযোগ বুঝে কাঁচি দিয়ে বেলিন্ডার চুলের গোছাটি কেটে নেন। অর্থাৎ, তাসের যুদ্ধে জিতলেও বাস্তব জীবনের 'যুদ্ধে' (চুল হারানো) বেলিন্ডা পরাজিত হন।
এই তাসের খেলার পরই কাব্যটির সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত অর্থাৎ 'The Rape of the Lock' (চুল কাটা) ঘটে।
হ্যাঁ, এটি এই কাব্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক। এরিয়েল (Ariel) এবং তার হাজার হাজার সিলফ সৈন্য থাকা সত্ত্বেও কেন তারা বেলিন্ডাকে রক্ষা করতে পারল না, তার পেছনে পোপ কিছু মজাদার ও ব্যঙ্গাত্মক কারণ দেখিয়েছেন:
১. সিলফদের শক্তির সীমাবদ্ধতা
সিলফরা ততক্ষণই একজন নারীকে রক্ষা করতে পারে যতক্ষণ সেই নারী মানসিকভাবে 'পবিত্র' বা অন্য কোনো পুরুষের প্রতি অনুরাগী না হয়। পোপের তত্ত্বে, সিলফরা হলো নারীদের কুমারীত্ব বা সতীত্বের (Chastity) প্রতীক।
২. বেলিন্ডার মনের পরিবর্তন
ব্যারন যখন কাঁচি নিয়ে বেলিন্ডার চুলের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন প্রধান সিলফ এরিয়েল বেলিন্ডার মনের গভীরে উঁকি দেয়। সে দেখতে পায় যে:
বেলিন্ডার মনে একজন "পার্থিব পুরুষের" (Earthly Lover) প্রতি গোপন আকর্ষণ বা প্রেমের উদয় হয়েছে।
যেহেতু বেলিন্ডার মন আর সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ছিল না, তাই অলৌকিক সিলফরা তাদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
পোপ লিখেছেন যে, যখনই কোনো নারী অন্য কোনো পুরুষের কথা ভাবতে শুরু করে, তখন তার "সম্মান" রক্ষা করার দায়িত্ব থেকে সিলফরা পদত্যাগ করে।
৩. শেষ চেষ্টা ও ব্যর্থতা
সিলফরা কিন্তু একেবারে চেষ্টা করেনি তা নয়:
তারা শত শত বার বেলিন্ডার কানের দুল কাঁপিয়ে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল।
তারা বেলিন্ডার ঘাঘরা (Petticoat) এবং চুলের ওপর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এমনকি একটি সাহসী সিলফ ব্যারনের কাঁচির ধারের মাঝখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল! কিন্তু কাঁচিটি সেই সিলফকে দুই টুকরো করে ফেলে (অবশ্যই সিলফরা অমর, তাই সে আবার জোড়া লেগে গিয়েছিল)।
৪. ভাগ্যের লিখন (Fate)
পোপ এখানে মহাকাব্যের একটি নিয়ম ব্যবহার করেছেন—নিয়তি বা Fate। যখন কোনো ঘটনা ঘটার জন্য ভাগ্য নির্ধারিত থাকে, তখন দেবতারা (বা এখানে সিলফরা) চাইলেও তা আটকাতে পারে না। ব্যারনের জেদ এবং বেলিন্ডার মনের চপলতা মিলে এই দুর্ঘটনাকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
হ্যাঁ, চুলের সেই গোছাটি (Lock) হারানো বেলিন্ডার কাছে ছিল এক মহাপ্রলয়ের মতো! পোপ এখানে বীর যোদ্ধাদের শোকের সাথে বেলিন্ডার শোককে তুলনা করে দারুণ ব্যঙ্গ করেছেন।
চুল কাটার পর বেলিন্ডার অবস্থা এবং অ্যামব্রিয়েল (Umbriel) নামক সেই কুটিল চরিত্রের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বেলিন্ডার আকাশছোঁয়া চিৎকার
চুলটি কাটাামাত্রই বেলিন্ডা এমন এক চিৎকার দিলেন যা আকাশ কাঁপিয়ে দিল। পোপ মজা করে লিখেছেন— কোনো প্রিয় পোষা কুকুর মারা গেলে বা কোনো দামী চিনা মাটির পাত্র (China jar) ভেঙে গেলে উচ্চবিত্ত নারীরা যেমন আর্তনাদ করেন, বেলিন্ডার চিৎকার ছিল ঠিক তেমনই।
২. কুটিল চরিত্র 'অ্যামব্রিয়েল' (Umbriel)
যখন প্রধান সিলফ এরিয়েল ব্যর্থ হয়ে বিদায় নিল, তখন দৃশ্যে প্রবেশ করল অ্যামব্রিয়েল। সে হলো একজন 'নম' (Gnome)— যারা মাটির নিচে বাস করে এবং মানুষের মনে নেতিবাচক চিন্তা উসকে দেয়।
বিষণ্ণতার গুহা (Cave of Spleen): অ্যামব্রিয়েল উড়ে গেল এক রহস্যময় জায়গায়, যার নাম 'কেভ অফ স্প্লিন'। এটি হলো মানুষের রাগ, দুঃখ, আর অলসতার উৎস।
উপহারের ব্যাগ: সেখান থেকে সে একটি ব্যাগে করে নারীদের দীর্ঘশ্বাস, কান্না, আর গালিগালাজ ভরে নিয়ে এল। আর একটি শিশিতে (Vial) নিয়ে এল চোখের জল আর মন খারাপ।
৩. আগুনের ওপর ঘি ঢালা
অ্যামব্রিয়েল ফিরে এসে বেলিন্ডার মাথার ওপর সেই ব্যাগটি খুলে দিল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো:
বেলিন্ডার রাগ এবং দুঃখ কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
তার বান্ধবী থালেস্ট্রিস (Thalestris) তাকে আরও উত্তেজিত করে তুলল। সে বলতে লাগল, "এখন তো সবাই তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে! তোমার সম্মান সব শেষ!"
বেলিন্ডা দুঃখে ভেঙে পড়লেন এবং ব্যারনকে গালমন্দ করতে শুরু করলেন।
৪. স্যার প্লাম (Sir Plume)-এর মধ্যস্থতা
বেলিন্ডার পক্ষ হয়ে স্যার প্লাম (যিনি থালেস্ট্রিসের প্রেমিক) ব্যারনের কাছে গিয়ে চুলটি ফেরত চাইলেন। কিন্তু তিনি এতই বোকা ছিলেন যে তার কথা কেউ কানেই নিল না। ব্যারন দম্ভ করে বললেন যে, তিনি এই ট্রফি (চুলের গোছা) কোনোদিন ফেরত দেবেন না।
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা
36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু
37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু
উপসংহার:
'The Rape of the Lock' আমাদের শেখায় যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিবাদ করা কতটা হাস্যকর হতে পারে। পোপের জাদুকরী লেখনীতে একটি ছোট ঘটনা সাহিত্যের অমর সৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

0 Comments