Edmund Spenser: The Faerie Queene

 


Edmund Spenser: The Faerie Queene

এডমন্ড স্পেন্সারের 'দ্য ফেয়ারি কুইন' (The Faerie Queene) ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যিক রূপক (Allegory)। এটি মূলত রানী এলিজাবেথ-কে উৎসর্গ করে লেখা হয়েছিল।

নিচে কাব্যটির বিষয়বস্তু সহজভাবে আলোচনা করা হলো:


১. মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

স্পেন্সার চেয়েছিলেন এই কাব্যের মাধ্যমে একজন আদর্শ ভদ্রলোক বা মহান চরিত্র (A Noble Person) গড়ে তোলার শিক্ষা দিতে। তিনি ১২টি চারিত্রিক গুণ বা 'Virtue' নিয়ে ১২টি খণ্ড লিখতে চেয়েছিলেন, যদিও তিনি মাত্র ৬টি খণ্ড এবং ৭ম খণ্ডের কিছু অংশ শেষ করতে পেরেছিলেন।

২. রূপক কাহিনী (Allegory)

এই কাব্যের কাহিনী দু’টি স্তরে চলে:

  • আক্ষরিক স্তর: বীর নাইটদের অ্যাডভেঞ্চার, ড্রাগন হত্যা এবং দানবদের সাথে যুদ্ধ।

  • রূপক স্তর: প্রতিটি নাইট বা বীর একেকটি নৈতিক গুণের প্রতীক। যেমন— সততা, পবিত্রতা বা ন্যায়বিচার।

৩. প্রধান খণ্ডগুলোর বিষয়বস্তু

খণ্ড (Book)

প্রধান চরিত্র (Knight)

গুণের প্রতীক (Virtue)

কাহিনীর সারসংক্ষেপ

Book I

রেডক্রস নাইট (Redcrosse Knight)

Holiness (পবিত্রতা/ধর্মনিষ্ঠা)

তিনি উনা (Una) নামক রাজকুমারীকে বাঁচাতে ড্রাগন হত্যা করেন এবং ভণ্ডামি ও পাপের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

Book II

স্যার গাইয়ন (Sir Guyon)

Temperance (সংযম)

তিনি কামনার মোহজাল এবং অনৈতিক বিলাসিতা (Bower of Bliss) ধ্বংস করে নিজেকে ও অন্যদের সংযমী করেন।

Book III

ব্রিটমার্ট (Britomart)

Chastity (সতীত্ব/পবিত্র প্রেম)

তিনি একজন নারী যোদ্ধা, যিনি সত্যিকরের প্রেম এবং পবিত্রতার শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন।

Book IV

ক্যাম্বেল ও ট্রায়ামন্ড

Friendship (বন্ধুত্ব)

এটি প্রকৃত বন্ধুত্বের গুরুত্ব এবং সামাজিক বন্ধনের কথা বলে।

Book V

স্যার আরতেগাল (Sir Artegall)

Justice (ন্যায়বিচার)

তিনি অন্যায়ের বিনাশ করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।

Book VI

স্যার ক্যালডোর (Sir Calidore)

Courtesy (ভদ্রতা/শিষ্টাচার)

তিনি ‘ব্লাট্যান্ট বিস্ট’ (Blatant Beast) নামক এক দানবকে দমন করেন যা মূলত পরচর্চা ও অসভ্যতার প্রতীক।


৪. গ্লোরিয়ানা ও আর্থার

  • গ্লোরিয়ানা (Gloriana): তিনি হলেন 'ফেয়ারি কুইন', যিনি বাস্তবে রানী এলিজাবেথের প্রতীক। তাঁর রাজত্বেই সব নাইটরা তাদের বীরত্ব প্রমাণ করতে বের হন।

  • প্রিন্স আর্থার (Prince Arthur): তিনি সব খণ্ডেই আবির্ভূত হন। তিনি হলেন সব গুণের সমন্বয় এবং পূর্ণতা। বিপদের সময় তিনি অন্যান্য নাইটদের সাহায্য করেন।

৫. স্পেন্সেরিয়ান স্ট্যাঞ্জা

এই কাব্যটি স্পেন্সারের নিজস্ব একটি বিশেষ ছন্দে লেখা, যাকে Spenserian Stanza বলা হয়। এর রাইম স্কিম হলো: ababbcbcc।


সহজ কথায়: এটি কেবল তলোয়ার চালানোর গল্প নয়, বরং মানুষের মনের ভেতরের ভালো এবং মন্দের চিরন্তন যুদ্ধের এক কাব্যিক রূপ।

১. ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Historical Context)

'দ্য ফেয়ারি কুইন' কোনো বিচ্ছিন্ন কাল্পনিক গল্প নয়, বরং এটি ১৬শ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন।

  • রানী এলিজাবেথের স্তুতি: কাব্যটির কেন্দ্রীয় চরিত্র 'গ্লোরিয়ানা' (Gloriana) সরাসরি রানী এলিজাবেথকে নির্দেশ করে। স্পেন্সার চেয়েছিলেন রানীর গুণগান গেয়ে তাঁর রাজকীয় অনুগ্রহ লাভ করতে।

  • ধর্মীয় সংঘাত (Protestantism vs. Catholicism): সেই সময়ে ইংল্যান্ডে প্রটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যে প্রবল দ্বন্দ্ব ছিল। স্পেন্সার প্রটেস্ট্যান্ট ধর্মের সমর্থক ছিলেন। কাব্যে 'উনা' (Una) চরিত্রটি সত্য প্রটেস্ট্যান্ট চার্চের প্রতীক এবং 'ডুয়েসা' (Duessa) চরিত্রটি ক্যাথলিক চার্চের (যাকে স্পেন্সার ভণ্ড হিসেবে দেখিয়েছেন) প্রতীক।

  • রেনেসাঁ ও মানবতাবাদ: কাব্যটিতে গ্রিক ও রোমান পুরাণ এবং খ্রিস্টীয় দর্শনের এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়, যা রেনেসাঁ যুগের মানবতাবাদের পরিচয় দেয়।


২. কাব্যটির গঠন ও রূপক কাঠামো

স্পেন্সার এই মহাকাব্যের প্রতিটি খণ্ডকে নৈতিক গুণের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছিলেন। নিচের ডায়াগ্রামটি আপনাকে এর মূল কাঠামো বুঝতে সাহায্য করবে:

৩. গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর গভীরে

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের বিস্তারিত জানতে চান, তবে নিচের দুটি চরিত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:

  • রেডক্রস নাইট (Redcrosse Knight): তিনি প্রথম খণ্ডের নায়ক। তিনি মূলত একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে শুরু করেন এবং পরে সংগ্রামের মাধ্যমে 'সেন্ট জর্জ' (ইংল্যান্ডের রক্ষাকর্তা) হিসেবে আবির্ভূত হন। এটি মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির যাত্রাকে নির্দেশ করে।

  • ব্রিটমার্ট (Britomart): তিনি এই মহাকাব্যের সবচেয়ে শক্তিশালী নারী চরিত্র। তিনি 'সতীত্বের' (Chastity) প্রতীক হলেও তাকে একজন বর্মধারী বীর যোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি তৎকালীন সমাজে নারীর শক্তির এক অনন্য উপস্থাপন।


৪. স্পেন্সেরিয়ান স্ট্যাঞ্জা (ছন্দ বিশ্লেষণ)

স্পেন্সার এই মহাকাব্যের জন্য একটি নতুন ছন্দ আবিষ্কার করেন। প্রতিটি স্তবকে ৯টি লাইন থাকে:

  1. প্রথম ৮টি লাইন Iambic Pentameter (১০টি অক্ষর)।

  2. শেষ লাইনটি Alexandrine বা Iambic Hexameter (১২টি অক্ষর)।

রাইম স্কিম: $ababbcbcc$

অবশ্যই! প্রথম খণ্ডের (Book I) কাহিনীটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং প্রতীকী গল্প। এটি মূলত রেডক্রস নাইট (Redcrosse Knight) এবং তার আধ্যাত্মিক যাত্রার কাহিনী।

নিচে ড্রাগন যুদ্ধ এবং তার বীরত্বের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:


১. অভিযানের সূচনা (The Quest)

গল্পের শুরুতে আমরা দেখি এক তরুণ যোদ্ধা, যার বর্মে একটি লাল ক্রুশ (Red Cross) আঁকা। তিনি রাজকুমারী উনা (Una)-এর অনুরোধে একটি বিশাল ড্রাগনকে হত্যা করতে যাচ্ছেন, যে ড্রাগনটি উনার বাবা-মায়ের রাজ্য দখল করে রেখেছে। উনা এখানে 'সত্য' (Truth) এবং রেডক্রস নাইট 'ধর্মনিষ্ঠা' (Holiness)-এর প্রতীক।

২. পথে বাধা ও ভুল পথে চালিত হওয়া

ড্রাগনের কাছে পৌঁছানোর আগে রেডক্রস নাইটকে অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়:

  • এরর (Error): তিনি গুহায় এক বিশাল নারী-সর্প দানবীর (Error) সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাকে পরাজিত করেন। এটি বুঝায় যে ধর্মের পথে চলতে গেলে প্রথমে ভুল বা ভ্রান্তিকে দূর করতে হয়।

  • আর্কিমেগো ও ডুয়েসা (Archimago & Duessa): এক জাদুকর (Archimago) তাকে বিভ্রান্ত করে উনার প্রতি সন্দেহ তৈরি করে। এরপর তিনি ডুয়েসা (ভণ্ডামির প্রতীক) নামক এক সুন্দরীর মোহে পড়েন এবং নিজের পথ থেকে বিচ্যুত হন।

৩. পতন ও পুনরুত্থান

রেডক্রস নাইট তার ভুলের কারণে অর্গলিও (Orgoglio) নামক এক দানবের কাছে বন্দী হন। পরে প্রিন্স আর্থার এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি 'হাউস অফ হোলিনেস' (House of Holiness)-এ গিয়ে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন এবং আধ্যাত্মিক শক্তি ফিরে পান।


৪. ড্রাগনের সাথে মহাযুদ্ধ (The Final Battle)

তিন দিন ধরে এই ভয়ংকর যুদ্ধ চলে, যা মূলত যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের রূপক:

  • প্রথম দিন: ড্রাগনটি ছিল পাহাড়ের মতো বিশাল এবং তার শরীর লোহার বর্মের মতো শক্ত। ড্রাগনের আগুনে নাইট দগ্ধ হন, কিন্তু পাশেই থাকা 'লাইফ অফ ওয়েল' (Well of Life)-এ পড়ে তিনি পুনরায় শক্তি ফিরে পান।

  • দ্বিতীয় দিন: ড্রাগনটি আবার তাকে আক্রমণ করে। এবার তিনি 'ট্রি অফ লাইফ' (Tree of Life)-এর নিচে আশ্রয় নেন, যার রস তার ক্ষত সারিয়ে তোলে।

  • তৃতীয় দিন: অবশেষে নাইট ড্রাগনের খোলা মুখের ভেতর তলোয়ার ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করেন। রাজ্যটি শয়তানের হাত থেকে মুক্ত হয়।


৫. পরিণাম

ড্রাগন হত্যার পর রেডক্রস নাইটের সাথে রাজকুমারী উনার বিয়ে ঠিক হয়। এখানে প্রকাশ পায় যে, দীর্ঘ সংগ্রামের পর 'পবিত্রতা' (Holiness) এবং 'সত্য' (Truth) একীভূত হয়েছে। রেডক্রস নাইট শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষাকর্তা সেন্ট জর্জ (Saint George) হিসেবে পরিচিতি পান।


এই কাহিনীটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্পেন্সার এই যুদ্ধের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ঈশ্বরের অনুগ্রহ (Grace) ছাড়া সে শয়তান বা পাপকে জয় করতে পারে না। লাইফ অফ ওয়েল এবং ট্রি অফ লাইফ এখানে ধর্মীয় পবিত্রতার প্রতীক।

অবশ্যই! দ্বিতীয় খণ্ডের (Book II) কাহিনীটি নৈতিকভাবে যেমন গভীর, তেমনি বর্ণনায় অত্যন্ত রূপময়। এখানে প্রধান চরিত্র হলেন স্যার গাইয়ন (Sir Guyon), যিনি 'Temperance' বা 'আত্মসংযম'-এর প্রতীক।

এই খণ্ডের সবচেয়ে নাটকীয় এবং বিখ্যাত অংশ হলো 'বাওয়ার অফ ব্লিস' (Bower of Bliss) ধ্বংস করার অভিযান। নিচে এর বিস্তারিত কাহিনী দেওয়া হলো:


১. স্যার গাইয়নের যাত্রা ও পালমার (The Palmer)

স্যার গাইয়ন একা নন, তার সাথে থাকেন একজন অভিজ্ঞ বৃদ্ধ যাকে বলা হয় 'পালমার' (Palmer)। এই পালমার আসলে বিবেক বা যুক্তির (Reason) প্রতীক। মানুষের ইন্দ্রিয় যখন মোহের বশে বিপথে যেতে চায়, তখন পালমার গাইয়নকে সংযত থাকতে সাহায্য করেন।

২. বাওয়ার অফ ব্লিস (বিলাসিতার উদ্যান) কী?

এটি হলো জাদুকরী অ্যাক্রাসিয়া (Acrasia)-এর এক কৃত্রিম স্বর্গ। এটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর, ফুলে-ফলে ভরা এবং সুগন্ধে মাতাল করা এক বাগান। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সত্য:

  • এখানে যারা আসে, তারা আলস্য এবং কামনার মোহে নিজেদের বীরত্ব ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে।

  • অ্যাক্রাসিয়া তার প্রেমে মুগ্ধ পুরুষদের পশুর মতো দাসে পরিণত করে।

৩. উদ্যানের প্রলোভন ও নাটকীয়তা

গাইয়ন যখন এই বাগানে প্রবেশ করেন, তাকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করা হয়:

  • সুন্দরী ললনাদের জলকেলি: দুই সুন্দরী যুবতী স্বচ্ছ জলাশয়ে স্নান করতে করতে গাইয়নকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে।

  • বিলাসী মদ্যপান: একজন নারী তাকে সোনার পেয়ালায় আঙ্গুরের রস (মদ) পান করতে দেয়।

গাইয়ন শুরুতে একটু বিচলিত হলেও, তার সঙ্গী পালমারের যুক্তিবাদী উপদেশে নিজেকে সামলে নেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, এই সৌন্দর্য আসলে মিথ্যে এবং এটি মানুষকে ধ্বংস করার একটি ফাঁদ।

৪. অ্যাক্রাসিয়ার পরাজয় ও উদ্যান ধ্বংস

অবশেষে গাইয়ন এবং পালমার সেই কুঠিরে পৌঁছান যেখানে অ্যাক্রাসিয়া তার নতুন শিকারের সাথে প্রেমমগ্ন ছিল।

  1. আটকে ফেলা: গাইয়ন একটি সূক্ষ্ম জালের মাধ্যমে জাদুকরী অ্যাক্রাসিয়াকে বন্দী করেন।

  2. বিধ্বংসী রূপ: এরপর ঘটে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। গাইয়ন শুধু জাদুকরীকে বন্দী করেই থামেননি, তিনি চরম ক্রোধে (righteous anger) সেই বিলাসিতার উদ্যান—তার গাছপালা, ঝর্ণা, এবং ঘরবাড়ি—সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

  3. মানুষের রূপান্তর: পালমার তার জাদুর কাঠি দিয়ে সেই বাগানে পশু হয়ে থাকা পুরুষদের পুনরায় মানুষের রূপ ফিরিয়ে দেন।


৫. এই কাহিনীর গভীর তাৎপর্য

স্পেন্সার এখানে দেখিয়েছেন যে, কেবল সুন্দর বা মনোরম হলেই কিছু ভালো হয় না। অতিরিক্ত বিলাসিতা (Excess) মানুষকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে। স্যার গাইয়ন যখন বাগানটি ধ্বংস করেন, তখন তিনি প্রমাণ করেন যে প্রকৃত বীর হতে হলে নিজের ইন্দ্রিয় এবং রিপুকে দমন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।


সারসংক্ষেপ: প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য

প্রথম খণ্ড (Book I)

দ্বিতীয় খণ্ড (Book II)

চরিত্র

রেডক্রস নাইট (Holiness)

স্যার গাইয়ন (Temperance)

শত্রু

বিশাল ড্রাগন (শয়তান/পাপ)

অ্যাক্রাসিয়া (ইন্দ্রিয়সুখ/মোহ)

সহযোগী

উনা (সত্য)

পালমার (যুক্তি/বিবেক)

অবশ্যই! তৃতীয় খণ্ড (Book III) হলো এই মহাকাব্যের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ, কারণ এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ব্রিটমার্ট (Britomart)। তিনি কেবল একজন নারী যোদ্ধা নন, তিনি হলেন 'Chastity' বা 'পবিত্র প্রেমের' প্রতীক।

স্পেন্সার এখানে দেখিয়েছেন যে, পবিত্রতা মানে শুধু নিস্পৃহ থাকা নয়, বরং এটি একটি সক্রিয় এবং অপরাজেয় শক্তি। নিচে তার বীরত্বপূর্ণ কাহিনী তুলে ধরা হলো:


১. কেন তিনি যুদ্ধে নামলেন?

ব্রিটমার্ট ছিলেন একজন ব্রিটিশ রাজকুমারী। একদিন তার বাবার জাদুকরী আয়নায় (Magic Mirror) তিনি এক বীর যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি দেখেন, যার নাম স্যার আরতেগাল (Sir Artegall)। সেই মুহূর্তেই তিনি তার প্রেমে পড়েন। কিন্তু এটি কেবল সাধারণ মোহ ছিল না, এটি ছিল একটি পবিত্র গন্তব্যের ডাক। তাই তিনি পুরুষ যোদ্ধার ছদ্মবেশ ধারণ করে, বর্ম পরে এবং একটি জাদুকরী বর্শা (Magic Spear) নিয়ে তার প্রিয়তমের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।

২. তার বিশেষ ক্ষমতা: জাদুকরী বর্শা

ব্রিটমার্টের কাছে একটি বিশেষ বর্শা ছিল যা দিয়ে তিনি যে কাউকে ঘোড়া থেকে ফেলে দিতে পারতেন। এমনকি শক্তিশালী নাইটরাও তার শক্তির সামনে টিকতে পারতেন না। এটি বুঝায় যে, পবিত্রতা (Chastity) যখন কোনো কিছুর সংকল্প করে, তখন কোনো জাগতিক শক্তি তাকে বাধা দিতে পারে না।

৩. বুসিরেনের প্রাসাদ (The House of Busirane)

তৃতীয় খণ্ডের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা হলো জাদুকর বুসিরেনের প্রাসাদ থেকে আমোরেট (Amoret) নাম্নী এক নারীকে উদ্ধার করা।

  • অগ্নিপ্রাচীর: প্রাসাদের প্রবেশপথে এক বিশাল আগুনের প্রাচীর ছিল। অন্য কোনো নাইট সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। কিন্তু ব্রিটমার্ট যেহেতু পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, তাই সেই আগুন তার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

  • জাদুকরকে পরাস্ত করা: তিনি প্রাসাদের ভেতরে ঢুকে দেখেন বুসিরেন জাদুর সাহায্যে আমোরেটকে কষ্ট দিচ্ছে। ব্রিটমার্ট তাকে তলোয়ারের আঘাতে ধরাশায়ী করেন এবং তাকে বাধ্য করেন তার জাদুর বাঁধন খুলে দিতে।


৪. ব্রিটমার্টের চরিত্রের গুরুত্ব

  • নারী শক্তির প্রতীক: ১৬শ শতাব্দীতে একজন নারীকে বর্ম পরে যুদ্ধ করতে দেখানো ছিল অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। স্পেন্সার এর মাধ্যমে রানী এলিজাবেথের শৌর্য-বীর্যকেই ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • প্রেম ও পবিত্রতার সমন্বয়: ব্রিটমার্ট দেখিয়েছেন যে প্রেম এবং পবিত্রতা একে অপরের বিরোধী নয়। তিনি আরতেগালকে ভালোবাসতেন, কিন্তু সেই ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত মার্জিত এবং শক্তিশালী।


৫. একটি মজার তথ্য

ব্রিটমার্ট যখন তার হেলমেট খুলতেন, তখন তার দীর্ঘ সোনালি চুল ছড়িয়ে পড়ত। এটি দেখে অনেক নাইটই অবাক হয়ে যেতেন যে, এতক্ষণ তারা একজন নারীর কাছে পরাজিত হচ্ছিলেন!


৩য় খণ্ডের মূল শিক্ষা:

পবিত্রতা মানে দুর্বলতা নয়; বরং এটি এমন এক শক্তি যা আগুনের ওপর দিয়েও হেঁটে যেতে পারে এবং জাদুকরী মোহকে পরাজিত করতে পারে।

পঞ্চম খণ্ড (Book V) নিয়ে আলোচনা করি, যেখানে 'ন্যায়বিচার' (Justice)-এর এক কঠোর ও শক্তিশালী রূপ ফুটে উঠেছে। এই খণ্ডের নায়ক হলেন স্যার আরতেগাল (Sir Artegall)।

মজার ব্যাপার হলো, এই আরতেগালই সেই বীর যাকে ব্রিটমার্ট তার জাদুকরী আয়নায় দেখেছিলেন এবং যার প্রেমে পড়েছিলেন।


১. স্যার আরতেগাল ও অ্যাস্ট্রেয়া (Astraea)

গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, অ্যাস্ট্রেয়া হলেন ন্যায়বিচারের দেবী। তিনি আরতেগালকে ছোটবেলা থেকে লালন-পালন করেন এবং তাকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে হয়। তিনি আরতেগালকে একটি বিশেষ তলোয়ার দিয়েছিলেন যার নাম 'ক্রাইসাওর' (Chrysaor)। এই তলোয়ারটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি যে কোনো ধাতু ভেদ করতে পারত।

২. তালুস (Talus): লোহার মানুষ

৫ম খণ্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র হলো তালুস। তিনি আরতেগালের অনুগত সহকারী।

  • বিবরণ: তালুস আসলে মানুষের মতো দেখতে একটি লোহার রোবট। তার হাতে থাকে একটি বিশালাকার লোহার মুগুর (Flail)।

  • প্রতীক: তালুস হলো আইনের কঠোর প্রয়োগের (Execution of Law) প্রতীক। আরতেগাল যখন বিচার করেন, তালুস তখন সেই বিচার কার্যকর করেন। তালুসের কোনো আবেগ নেই, দয়া নেই—সে শুধু জানে অপরাধীকে শাস্তি দিতে।


৩. বিখ্যাত কিছু বিচার ও যুদ্ধ

  • দানব ও দাঁড়িপাল্লা (The Giant and the Scales): আরতেগাল পথে এক দানবের দেখা পান, যে দাবি করছিল সে পৃথিবীর সবকিছু সমান করে দেবে (যেমন পাহাড় সমান করে সমুদ্র ভরাট করা)। আরতেগাল তাকে বোঝান যে, প্রকৃতির ভারসাম্যই হলো আসল ন্যায়বিচার। যখন দানবটি শোনেনি, তখন তালুস তাকে তার মুগুর দিয়ে সমুদ্রের অতল গহ্বরে ফেলে দেয়।

  • রেডিগান্ড (Radigund): আরতেগাল একবার আমাজন রানী রেডিগান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে বন্দী হন। রেডিগান্ড তাকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে ঘরকন্নার কাজ করতে বাধ্য করেন। পরে ব্রিটমার্ট এসে আরতেগালকে উদ্ধার করেন। এটি ছিল আরতেগালের জন্য এক বড় শিক্ষা—যেখানে বীরত্ব দয়ার কাছে হেরে যায়।


৪. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

৫ম খণ্ডটি স্পেন্সারের সময়ের আয়ারল্যান্ডের বিদ্রোহ এবং রানী এলিজাবেথের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে লেখা। আরতেগালের চরিত্রের মাধ্যমে স্পেন্সার বলতে চেয়েছেন যে, সমাজকে শান্ত রাখতে হলে মাঝে মাঝে ন্যায়বিচারকে কঠোর হতে হয়।


৫. ৫ম খণ্ডের মূল শিক্ষা

ন্যায়বিচার কেবল দয়া নয়, বরং অপরাধীকে সঠিক শাস্তি দেওয়া এবং সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো প্রকৃত 'জাস্টিস'।

চতুর্থ খণ্ডের (Book IV) সেই অদ্ভুত এবং রোমাঞ্চকর যুদ্ধের কাহিনী শুনি, যেখানে শত্রুতা শেষ পর্যন্ত এক অমর 'বন্ধুত্বে' (Friendship) রূপ নেয়। এই খণ্ডের মূল নায়ক হলেন দুজন— স্যার ক্যাম্বেল (Cambell) এবং স্যার ট্রায়ামন্ড (Triamond)।

এই গল্পটি স্পেন্সারের অন্যতম প্রিয় বন্ধুত্বের উদাহরণ। নিচে এর কাহিনী তুলে ধরা হলো:


১. যুদ্ধের কারণ: ক্যানাসি (Canacee)

ক্যাম্বেলের বোন ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং বিদুষী ক্যানাসি। অনেক বীর যোদ্ধা তাকে বিয়ে করতে চাইতেন, কিন্তু ক্যাম্বেল একটি শর্ত দিলেন— যে বীর তাকে যুদ্ধে পরাজিত করতে পারবে, সেই কেবল ক্যানাসিকে বিয়ে করতে পারবে। অনেক নাইট এগিয়ে এলেন, কিন্তু তারা সবাই ব্যর্থ হলেন। অবশেষে তিন ভাই— প্রিয়ামন্ড, ডায়ামন্ড এবং ট্রায়ামন্ড— ক্যাম্বেলকে চ্যালেঞ্জ জানালেন।

২. জাদুকরী আংটি ও অদ্ভুত যুদ্ধ

ক্যাম্বেলের কাছে একটি জাদুকরী আংটি (Magic Ring) ছিল, যা পরলে শরীর থেকে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যেত এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যেত।

  • যুদ্ধে প্রথম দুই ভাই (প্রিয়ামন্ড ও ডায়ামন্ড) মারা যান।

  • কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে— তাদের আত্মা ও শক্তি ছোট ভাই ট্রায়ামন্ডের শরীরে প্রবেশ করে।

  • ফলে ট্রায়ামন্ড এখন তিনজনের সমান শক্তিশালী!

ক্যাম্বেল এবং ট্রায়ামন্ডের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। আংটির জাদুতে ক্যাম্বেল মরছিলেন না, আর ট্রায়ামন্ডের ভেতরে ছিল তিন প্রাণের শক্তি। কেউ কাউকে হারাতে পারছিলেন না।

৩. ক্যাম্বিনা (Cambina) ও বন্ধুত্বের পানীয়

যখন যুদ্ধ চরম পর্যায়ে, তখন ট্রায়ামন্ডের বোন ক্যাম্বিনা এক রথে চড়ে সেখানে উপস্থিত হন। তার হাতে ছিল একটি জাদুকরী কাপ, যাতে ছিল 'নেপেনথে' (Nepenthe) নামক এক পানীয়।

  • এই পানীয়টি পান করলে মানুষের মনের রাগ, ঘৃণা এবং দুঃখ সব ধুয়ে মুছে যায়।

  • ক্যাম্বেল এবং ট্রায়ামন্ড দুজনেই সেই পানীয় পান করলেন।

  • মুহূর্তের মধ্যে তাদের শত্রুতা শেষ হয়ে গেল এবং তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন।


৪. মিলনের আনন্দ

এই যুদ্ধের পর এক চমৎকার মিলন মেলা ঘটে:

  • ট্রায়ামন্ড বিয়ে করেন ক্যাম্বেলের বোন ক্যানাসিকে।

  • ক্যাম্বেল বিয়ে করেন ট্রায়ামন্ডের বোন ক্যাম্বিনাকে। তারা চারজন সারাজীবন পরম সুখে এবং গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে কাটিয়ে দেন।


৫. চতুর্থ খণ্ডের মূল শিক্ষা

স্পেন্সার এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রকৃত বন্ধুত্ব কেবল ভালো সময়ে হয় না; অনেক সময় কঠিন বিবাদ বা যুদ্ধের মাধ্যমেই একে অপরের শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জন্মায়। আর ক্যাম্বিনা এখানে 'শান্তি' ও 'যুক্তির' প্রতীক, যা মানুষের পশুত্বকে জয় করে তাকে বন্ধুত্বের পথে নিয়ে আসে।


সারসংক্ষেপ: চতুর্থ খণ্ড কেন আলাদা?

অন্যান্য খণ্ডে আমরা একজন একক নাইটের বীরত্ব দেখি, কিন্তু চতুর্থ খণ্ডে স্পেন্সার দেখিয়েছেন কীভাবে দুই বা ততোধিক মানুষ একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। এটি সামাজিক সংহতি ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

অবশ্যই! ষষ্ঠ খণ্ড (Book VI) স্পেন্সারের এই মহাকাব্যের সমাপ্তি অংশ (সম্পূর্ণ খণ্ডগুলোর মধ্যে), যেখানে আমরা পরিচিত হই স্যার ক্যালডোর (Sir Calidore)-এর সাথে। তিনি হলেন 'Courtesy' বা 'শিষ্টাচার ও ভদ্রতা'-এর প্রতীক।

এই খণ্ডের কাহিনীটি যতটা বীরত্বের, ততটাই শান্ত ও মনোরম। নিচে এর রোমাঞ্চকর বিবরণ দেওয়া হলো:


১. ব্লাট্যান্ট বিস্ট (The Blatant Beast) কী?

এই খণ্ডের প্রধান শত্রু কোনো সাধারণ ড্রাগন বা দানব নয়। এটি হলো 'ব্লাট্যান্ট বিস্ট'—যার এক হাজারটি জিহ্বা আছে!

  • প্রতীক: এই দানবটি মূলত পরচর্চা (Gossip), নিন্দা (Slander) এবং কটু কথার প্রতীক।

  • ক্ষমতা: এর কামড় বিষাক্ত। এটি মানুষের সম্মান ও চরিত্র নষ্ট করে দেয়। স্যার ক্যালডোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এই দানবটিকে খুঁজে বের করে বন্দী করার।

২. ক্যালডোরের যাত্রা ও রাখালদের গ্রাম

দানবটিকে খুঁজতে খুঁজতে ক্যালডোর এক শান্ত রাখাল পল্লীতে (Pastoral World) এসে পৌঁছান। সেখানে তিনি তাঁর যুদ্ধের বর্ম খুলে রাখালদের পোশাক পরেন।

  • সেখানে তিনি পাস্তোরেলা (Pastorella) নামক এক সুন্দরী রাখাল কন্যার প্রেমে পড়েন।

  • এই অংশে স্পেন্সার দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত 'ভদ্রতা' বা 'শিষ্টাচার' কেবল রাজপ্রাসাদে নয়, বরং গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতার মধ্যেও থাকতে পারে।

৩. মাউন্ট অ্যাসিডেল (Mount Acidale): নৃত্যরত পরীরা

একটি অত্যন্ত সুন্দর দৃশ্যে ক্যালডোর দেখেন যে, পাহাড়ে তিন 'গ্রেস' (Graces) এবং একদল পরী নাচছে। এটি ছিল শিল্প, সৌন্দর্য এবং সৌজন্যের এক স্বর্গীয় রূপ। কিন্তু ক্যালডোর যখন সামনে এগিয়ে যান, পরীরা অদৃশ্য হয়ে যায়—যার অর্থ হলো, সৌন্দর্য এবং শিল্প খুব সূক্ষ্ম, জোর করে একে ধরা যায় না।


৪. চূড়ান্ত যুদ্ধ ও দানব দমন

অবশেষে ক্যালডোর সেই হাজার জিহ্বাওয়ালা ব্লাট্যান্ট বিস্ট-এর দেখা পান। দানবটি গির্জা, রাজপ্রাসাদ এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছিল।

  • লড়াই: ক্যালডোর তার অসীম ধৈর্য এবং শক্তি দিয়ে দানবটিকে পরাস্ত করেন।

  • বন্দী করা: তিনি দানবটির মুখ লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং তাকে টেনে নিয়ে যান।


Read More (Index-)

1. ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস  

2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 

3.  অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস

4.  মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ

5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০১০৬৬)

6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬১৫০০

7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)  

8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur   

9. William Langland: Piers Plowman 

10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০১৬৬০

11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet  

12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus   

13.Edmund Spenser: The Faerie Queene     

14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০১৭৯৮

16. John Dryden: Absalom and Achitophel   

17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 

18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)   

19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe  

20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮১৮৩২) : আবেগপ্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 

21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads  :  বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২১৯০১শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন

26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;

27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 

28. Robert Browning: My Last Duchess  বিষয়বস্তু

29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles   বিষয়বস্তু 

30. আধুনিক যুগ (১৯০১১৯৩৯প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 

31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড)  বিষয়বস্তু 

32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু  

33. James Joyce: Ulysses  :বিষয়বস্তু 

34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 

35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯বর্তমানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 

36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু 

37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু  

৫. একটি দুঃখজনক উপসংহার

গল্পের শেষে স্পেন্সার একটি কঠিন সত্য তুলে ধরেন। ক্যালডোর দানবটিকে বন্দী করলেও, সেটি একসময় শিকল ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। আজ অবধি সেই দানবটি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মানুষের নামে নিন্দা বা পরচর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্পেন্সার বোঝাতে চেয়েছেন যে, দুষ্ট কথা বা নিন্দাকে চিরতরে স্তব্ধ করা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।


ষষ্ঠ খণ্ডের মূল শিক্ষা:

শিষ্টাচার বা ভদ্রতা কেবল সুন্দর করে কথা বলা নয়, বরং এটি হলো অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিজের চারিত্রিক দৃঢ়তা বজায় রাখা।


উপসংহার: 'দ্য ফেয়ারি কুইন'-এর সমাপ্তি

স্পেন্সার ১২টি খণ্ড লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি কেবল এই ৬টিই শেষ করতে পেরেছিলেন। তবুও, এই মহাকাব্যটি ইংরেজি সাহিত্যের একটি মাইলফলক হয়ে আছে। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

Post a Comment

0 Comments