যৌথ পরিবারের ভাঙন সম্পর্কে কোরআনের বানী 🙅♂️✨🌐
আসসালামুয়ালাইকুম মোমেনগন 🙋♂️🙋♂️🙋♂️ পবিত্র অল্ কোরাআন কেবল মাত্র ধর্ম গ্রন্থ নয়। বিশ্ব মানব কল্যাণে উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক পরিপুরক গ্রন্থ। পবিত্র “রমজান মাসে অল্ কোরআনের সাথে” অর্থ না বুঝে কেবল মাত্র আরবি উচ্চারণ আর নয় চলুন আরবি উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলা অর্থ বুঝার চেষ্টা করি :
যৌথ পরিবার বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পবিত্র কোরআনে পরিবারের ঐক্য বজায় রাখার ওপর যেমন জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনি পরিবার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার পরিণাম সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে।
নিচে এ বিষয়ে কোরআনের বার্তা ও তার বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নিসার প্রথম আয়াতেই আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি সচেতন হতে বলেছেন।
আরবি:
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
উচ্চারণ:
ওয়াত্তাকুল্লা হাল্লাজি তাসা-আলুনা বিহি ওয়াল আরহাম; ইন্নাল্লাহা কানা ‘আলাইকুম রকিবা।
বাংলা অর্থ:
"আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১)
২. বন্ধন ছিন্ন করার ভয়াবহ পরিণাম
পরিবার ভেঙে দেওয়া বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে কোরআনে বিপর্যয় সৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আরবি:
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَىٰ أَبْصَارَهُمْ
উচ্চারণ:
ফাহাল ‘আসাইতুম ইন তাওয়াল্লাইতুম আন তুফসিদু ফিল আরদি ওয়া তুকাতিউ আরহামাকুম। উলাইকাল্লাজিনা লা‘আনাহুমুল্লাহু ফাআসাম্মাহুম ওয়া আ‘মা আবসারহুম।
বাংলা অর্থ:
"ক্ষমতা পেলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদেরকেই আল্লাহ অভিশপ্ত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।" (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২২-২৩)
৩. ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ঐক্য
ইসলাম মনে করে, পরিবারের ভাঙ্গন মানে সমাজের ভিত্তি দুর্বল হওয়া। কোরআন অনুযায়ী:
* পারস্পরিক ভালোবাসা: পরিবার হচ্ছে প্রশান্তির জায়গা। আল্লাহ দয়া ও মায়া দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হৃদয় জুড়ে দেন।
* অভিশাপের কারণ: যারা অহেতুক কারণে পরিবারের ঐক্য নষ্ট করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের জন্য পরকালে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
* ক্ষমা ও ধৈর্য: যৌথ পরিবারে বসবাস করতে গেলে মান-অভিমান হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বারবার নির্দেশ দিয়েছেন একে অপরকে ক্ষমা করতে এবং ধৈর্য ধারণ করতে যাতে বন্ধন অটুট থাকে।
সারকথা: ইসলাম একক বা ছোট পরিবারকে নিষিদ্ধ করে না, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা বা একে অপরের অধিকার খর্ব করে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করে।
যৌথ পরিবারে মূলত এই বিষয়গুলো যেমন :
পিতামাতার সেবা বনাম স্ত্রীর অধিকার: এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ইসলামি পদ্ধতি।
ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তির সঠিক বন্টন: যা নিয়ে অনেক সময় পরিবারের ভাঙ্গন শুরু হয়।
পারিবারিক কলহ নিরসনে মধ্যস্থতা: কোরআন অনুযায়ী পরিবারের বড়দের ভূমিকা কী হওয়া উচিত।
স্বামীর আত্মীয়দের প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব এবং সীমা: যৌথ পরিবারে পারস্পরিক সম্মানের বিধান।
তফসীর বা অর্থ প্রকাশে যদি কোনো ভ্রান্তি থাকে জানান আমার আগ্রহ জানার অনেক । ভালো লাগলে অবশ্য আমাকে ফ্লো করুন। লাইক-শেয়ার-কমেন্ট করুন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নিজে জানুন আমল করুন ও অপর কে শেয়ার করে জানানোর ব্যবস্থা করলে সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ হাফিজ।। আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐পাঁশকুড়া।। মুসলিম সমাজের সমস্যা ও সমাধানে আল্লাহর বিধান প্রতি দিন 10 টি পোস্ট রমজান মাসের এই কটি দিন সবাই মিলে আমল করার চেষ্টা করি।। আল্লাহ আমাদের কে ইসলামের বিধানের মধ্যে কার্যকর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন 📚📚📚📚📚📚📚
📌 Click Icon সাবস্ক্রাইব করুন:
0 Comments