ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস : অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ
ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের আদি এবং ভিত্তিপ্রস্তর হলো অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ, যাকে Old English Period-ও বলা হয়। এই যুগের ব্যাপ্তি আনুমানিক ৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০৬৬ খ্রিস্টাব্দ (নরমান বিজয়) পর্যন্ত।
এই যুগটি মূলত বীরত্ব, যুদ্ধ, ধর্ম এবং প্রকৃতির রুক্ষতার সংমিশ্রণ। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সাহিত্যকর্মগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে উত্তর ইউরোপের তিনটি জার্মানিক উপজাতি— অ্যাঙ্গলস (Angles), স্যাক্সন (Saxons) এবং জুটস (Jutes)—ব্রিটেন আক্রমণ করে এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে। তাদের কথ্য ভাষাই কালক্রমে 'ওল্ড ইংলিশ' বা প্রাচীন ইংরেজিতে রূপান্তরিত হয়।
২. অ্যাংলো-স্যাক্সন সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য
মৌখিক ঐতিহ্য: শুরুর দিকে এই সাহিত্য লিখিত ছিল না। 'স্কপ' (Scop) নামক চারণকবিরা রাজদরবারে গান গেয়ে বীরত্বগাথা শোনাতেন।
বীরত্ব এবং সম্মান: যুদ্ধের ময়দানে বীরত্ব প্রদর্শন এবং নেতার প্রতি আনুগত্য ছিল এই সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য।
বিষণ্ণতা (Melancholy): এই যুগের কবিতায় এক ধরনের বিষণ্ণ সুর এবং জীবনের নশ্বরতার কথা বারবার উঠে এসেছে।
খ্রিস্টধর্মের প্রভাব: শুরুর দিকে সাহিত্য পৌত্তলিক (Pagan) থাকলেও পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্মের প্রসারের ফলে বাইবেলের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
অলঙ্কার: অনুপ্রাস বা Alliteration ছিল এই কবিতার প্রধান ছন্দ। এছাড়া 'Kenning' (যেমন: সমুদ্রকে 'Whale-road' বলা) ছিল অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৩. উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
কাব্য (Poetry)
এই যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো 'বেওউলফ' (Beowulf)। এটি ইংরেজি সাহিত্যের প্রাচীনতম মহাকাব্য।
গদ্য (Prose)
গদ্য সাহিত্যের বিকাশে দুজন ব্যক্তির অবদান অনস্বীকার্য:
রাজা আলফ্রেড দ্য গ্রেট (King Alfred the Great): তাকে ইংরেজি গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি ল্যাটিন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই ইংরেজিতে অনুবাদ করান।
দ্য অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল (The Anglo-Saxon Chronicle): এটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের একটি ধারাবাহিক দলিল, যা রাজা আলফ্রেডের নির্দেশে সংকলিত হয়েছিল।
৪. যুগের অবসান
১০৬৬ সালে হেস্টিংসের যুদ্ধে (Battle of Hastings) উইলিয়াম দ্য কনকারার অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজা হ্যারল্ডকে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমেই ইংল্যান্ডে ফরাসি প্রভাব শুরু হয় এবং ওল্ড ইংলিশ যুগের সমাপ্তি ঘটে, যা জন্ম দেয় 'মিডল ইংলিশ' বা মধ্যযুগের।
অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো 'বেওউলফ' (Beowulf)। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র বা অনুরাগী হিসেবে এই মহাকাব্যটি সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।
নিচে 'বেওউলফ' মহাকাব্যের সংক্ষিপ্ত সারমর্ম এবং গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
বেওউলফ (Beowulf): আদি মহাকাব্য
এটি প্রায় ৩,১৮২ লাইনের একটি দীর্ঘ কবিতা। মজার ব্যাপার হলো, এর মূল রচয়িতা কে তা আজও অজানা (Anonymous)।
১. কাহিনীর তিনটি মূল পর্যায়
কাহিনীটি ডেনমার্ক এবং সুইডেনের প্রেক্ষাপটে রচিত:
গ্রেন্ডেল বধ: ডেনমার্কের রাজা রথগার (Hrothgar) একটি বিশাল সভাঘর (Heorot) তৈরি করেন। কিন্তু গ্রেন্ডেল নামক এক নরখাদক দানব প্রতি রাতে সেখানে আক্রমণ করে সৈনিকদের হত্যা করত। গিটস (Geats) জাতির বীর যোদ্ধা বেওউলফ খবর পেয়ে ডেনমার্কে আসেন এবং কোনো অস্ত্র ছাড়াই খালি হাতে লড়াই করে গ্রেন্ডেলের হাত ছিঁড়ে ফেলেন। গ্রেন্ডেল আহত অবস্থায় পালিয়ে গিয়ে মারা যায়।
গ্রেন্ডেলের মা: ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গ্রেন্ডেলের মা আক্রমণ চালায়। বেওউলফ একটি জাদুকরী তলোয়ার দিয়ে পানির নিচে গিয়ে তাকেও হত্যা করেন।
ড্রাগন যুদ্ধ ও মৃত্যু: অনেক বছর পর, যখন বেওউলফ নিজের দেশের রাজা, তখন একটি ড্রাগন তার রাজ্যে তাণ্ডব শুরু করে। বৃদ্ধ বয়সেও বেওউলফ ড্রাগনটিকে মারতে সক্ষম হন, কিন্তু লড়াইয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তিনি প্রাণ হারান।
২. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সংস্কৃতির প্রতিফলন: এটি তৎকালীন সমাজের বীরত্ব, আনুগত্য এবং ভাগ্যের (Wyrd) প্রতি বিশ্বাসের চিত্র তুলে ধরে।
খ্রিস্টধর্ম ও পৌত্তলিকতার মিশ্রণ: কবিতাটিতে একদিকে যেমন দানব ও শক্তির লড়াই আছে, অন্যদিকে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের সুরও আছে।
এই যুগের উল্লেখযোগ্য কবিগণ
যদিও অধিকাংশ কবিতা বেনামী, তবুও দুজন কবির নাম ইতিহাসে বিশেষভাবে পাওয়া যায়:
ক্যাডমন (Caedmon): তাকে প্রথম ইংরেজি ধর্মীয় কবি বলা হয়। তার বিখ্যাত সৃষ্টি 'Hymn'। লোককথা অনুযায়ী, তিনি এক অলৌকিক স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে কবিতা লেখার শক্তি পেয়েছিলেন।
সিনেউলফ (Cynewulf): তিনি তার কবিতার শেষে 'রান' (Runic) অক্ষরে নিজের নাম সই করতেন। তার বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে 'Christ' এবং 'Elene' অন্যতম।
আপনি কি জানেন?
বিখ্যাত 'লর্ড অফ দ্য রিংস' (The Lord of the Rings) এর লেখক জে.আর.আর. টলকিন এই বেওউলফ দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তার অনেক সৃষ্টিতেই এই অ্যাংলো-স্যাক্সন বীরত্বগাথার প্রভাব স্পষ্ট।
১. বেওউলফের আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক দ্বন্দ্ব
এই মহাকাব্যে আমরা দুই ধরনের প্রভাব দেখি:
পৌত্তলিকতা (Paganism): এখানে বীরত্ব, প্রতিশোধ এবং 'ভাগ্যের' (যাকে তারা Wyrd বলত) ওপর অটল বিশ্বাস দেখা যায়। দানব গ্রেন্ডেল বা ড্রাগন এখানে অশুভ শক্তির প্রতীক।
খ্রিস্টধর্ম (Christianity): কবিতাটি যখন লিখিত রূপ পায়, তখন ইংল্যান্ডে খ্রিস্টধর্ম ছড়িয়ে পড়েছে। তাই বেওউলফকে মাঝে মাঝে একজন 'ত্রাতা' বা 'যিশু'-র আদলে দেখা হয়, যিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রজাদের রক্ষা করেন।
২. পরবর্তী যুগ: মিডল ইংলিশ পিরিয়ড (১০৬৬ – ১৫০০)
যদি আপনি সামনে এগোতে চান, তবে এই যুগটি আপনার জন্য খুব ইন্টারেস্টিং হবে। কারণ:
চসারের আগমন: যাকে 'ইংরেজি কবিতার জনক' বলা হয়। তার 'Canterbury Tales' তৎকালীন সমাজের এক জীবন্ত দলিল।
ভাষার পরিবর্তন: ফরাসি বিজয়ের ফলে ইংরেজি ভাষা অনেক বেশি মার্জিত ও শব্দসমৃদ্ধ হতে শুরু করে।
নাইট ও রোমান্স: বীরত্বের গল্পের পাশাপাশি এই যুগে রোমান্টিক প্রেম এবং বীর নাইটদের (Knights) কাহিনী প্রাধান্য পায়।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা

0 Comments