ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে রেনেসাঁ (Renaissance) বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০) হলো এক অনন্য স্বর্ণযুগ। মধ্যযুগের অন্ধকার কাটিয়ে এটি ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প এবং সাহিত্যের এক নতুন জন্ম। 'Renaissance' শব্দটির অর্থই হলো 'Rebirth' বা পুনর্জন্ম।
এই দীর্ঘ সময়কালকে সহজে বোঝার জন্য কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়:
১. প্রস্তুতির যুগ (Preparation Period: ১৫০০–১৫৫৮)
এই সময়ে ইতালীয় রেনেসাঁসের প্রভাব ইংল্যান্ডে আসতে শুরু করে। স্যার থমাস ওয়ায়াট (Sir Thomas Wyatt) এবং আর্ল অফ সারে (Earl of Surrey) ইতালীয় 'সনেট' (Sonnet) ফর্মে ইংরেজি কবিতা লেখা শুরু করেন।
২. এলিজাবেথান যুগ (Elizabethan Age: ১৫৫৮–১৬০৩)
এটি ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে গৌরবময় সময়। রাণী এলিজাবেথের শাসনামলে স্থিতি ও সমৃদ্ধি আসায় সাহিত্য চরম শিখরে পৌঁছায়।
নাটক: উইলিয়াম শেক্সপিয়র, ক্রিস্টোফার মার্লো এবং বেন জনসন এই সময়ের প্রধান নাট্যকার।
কবিতা: এডমন্ড স্পেন্সার (The Faerie Queene) এবং শেক্সপিয়রের সনেট।
বৈশিষ্ট্য: দেশপ্রেম, অজানাকে জানার আগ্রহ এবং মানুষের অসীম ক্ষমতার জয়গান।
৩. জ্যাকোবিয়ান যুগ (Jacobean Age: ১৬০৩–১৬২৫)
রাজা প্রথম জেমসের নামানুসারে এই যুগের নামকরণ। এই সময়ে সাহিত্যের সুর কিছুটা গম্ভীর ও হতাশাবাদী হয়ে ওঠে।
উল্লেখযোগ্য কাজ: বাইবেলের 'Authorized Version' বা 'King James Bible' (১৬১১)।
জন ডান (John Donne): মেটাফিজিক্যাল কবিতার সূচনা করেন।
ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon): ইংরেজি প্রবন্ধের জনক হিসেবে পরিচিতি পান।
৪. ক্যারোলাইন যুগ (Caroline Age: ১৬২৫–১৬৪৯)
রাজা প্রথম চার্লসের শাসনকাল। এই সময় 'Cavalier Poets' বা রাজদরবারের কবিদের উত্থান ঘটে (যেমন: রবার্ট হেরিক)। মিল্টন এই সময়েই তাঁর প্রাথমিক কাব্যচর্চা শুরু করেন।
৫. কমনওয়েলথ যুগ (Commonwealth Period: ১৬৪৯–১৬৬০)
এই সময়ে ইংল্যান্ডে কোনো রাজা ছিল না, অলিভার ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে পিউরিটান শাসন চলে। থিয়েটার বা নাট্যশালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই যুগের প্রধান লেখক ছিলেন জন মিল্টন।
রেনেসাঁ যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
এই যুগের কয়েকজন দিকপাল
উইলিয়াম শেক্সপিয়র: সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার (Hamlet, Macbeth)।
ক্রিস্টোফার মার্লো: ব্ল্যাঙ্ক ভার্স বা অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক (Doctor Faustus)।
জন মিল্টন: মহাকবি (Paradise Lost)।
ফ্রান্সিস বেকন: আধুনিক বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক এবং প্রাবন্ধিক।
ইংরেজি সাহিত্যের রেনেসাঁ কেবল একটি সময়কাল নয়, এটি ছিল মানুষের চিন্তার জগতের এক বিশাল বিপ্লব।
ইংরেজি সাহিত্যের রেনেসাঁ যুগ হলো প্রতিভার খনি। আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো লেখক সম্পর্কে জানতে চান, তবে নিচের চারজন লেখকের যেকোনো একজনকে বেছে নিতে পারেন, যাঁদের কাজ ইংরেজি সাহিত্যকে চিরস্থায়ী রূপ দিয়েছে:
১. উইলিয়াম শেক্সপিয়র (William Shakespeare)
তাঁকে বলা হয় "Bard of Avon"। তিনি কেবল নাট্যকার নন, বরং মানুষের মনস্তত্ত্বের শ্রেষ্ঠ রূপকার।
বিখ্যাত কাজ: Hamlet, King Lear, Othello, Macbeth (ট্র্যাজেডি) এবং তাঁর ১৫৪টি সনেট।
কেন পড়বেন: আধুনিক ইংরেজি ভাষার অনেক শব্দ ও বাগধারা তিনিই তৈরি করেছেন।
২. ক্রিস্টোফার মার্লো (Christopher Marlowe)
শেক্সপিয়রের সমসাময়িক এবং তাঁর ওপর গভীর প্রভাব বিস্তারকারী। তিনি 'Blank Verse' বা অমিত্রাক্ষর ছন্দের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।
বিখ্যাত কাজ: Doctor Faustus—যেখানে মানুষ শয়তানের কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করে দেয় সীমাহীন জ্ঞানের আশায়।
কেন পড়বেন: রেনেসাঁ যুগের অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা বুঝতে তাঁর নাটক অতুলনীয়।
৩. ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon)
তাঁকে বলা হয় "Father of English Essays"। তাঁর প্রবন্ধগুলো ছিল ছোট কিন্তু জ্ঞানের গভীরতায় ঠাসা।
বিখ্যাত কাজ: Of Studies, Of Truth, Of Revenge।
কেন পড়বেন: বাস্তববাদী চিন্তা এবং কীভাবে যুক্তিনির্ভর জীবন যাপন করতে হয়, তা শিখতে তাঁর লেখা আজও প্রাসঙ্গিক।
৪. জন মিল্টন (John Milton)
রেনেসাঁ যুগের শেষ দিকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম সেরা মহাকাব্য রচনা করেন।
বিখ্যাত কাজ: Paradise Lost—যেখানে আদম ও হাওয়ার স্বর্গচ্যুতির কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
কেন পড়বেন: ধ্রুপদী মহাকাব্যের গাম্ভীর্য এবং শয়তানের (Satan) চরিত্রের জটিলতা বুঝতে এটি পড়া জরুরি।
সনেট' (Sonnet) এবং এই যুগের অন্যতম শক্তিশালী ধারা 'মেটাফিজিক্যাল পোয়েট্রি' (Metaphysical Poetry) সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দিচ্ছি:
১. সনেট (Sonnet): ১৪ লাইনের জাদুকরী কবিতা
রেনেসাঁ যুগে সনেট ছিল কবিদের আবেগ প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। ইতালীয় কবি পেত্রার্কের হাত ধরে এর শুরু হলেও ইংরেজিতে এটি নতুন রূপ পায়।
পেত্রার্কান সনেট: এটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল—অক্টেভ (৮ লাইন) এবং সেস্টেট (৬ লাইন)। মূলত প্রেমের বিরহ ও আকুতি প্রকাশ পেত এতে।
শেক্সপিয়রীয় সনেট: শেক্সপিয়র একে বদলে দেন। তিনি ৩টি কোয়াট্রেন (৪ লাইনের স্তবক) এবং শেষে একটি কাপলেট (২ লাইনের জোড়া) ব্যবহার করতেন।
বিখ্যাত উদাহরণ: শেক্সপিয়রের Sonnet 18 ("Shall I compare thee to a summer’s day?").
২. মেটাফিজিক্যাল পোয়েট্রি (Metaphysical Poetry)
জ্যাকোবিয়ান যুগে (১৬০৩-১৬২৫) এই ধারার উদ্ভব হয়। এর প্রধান পুরুষ ছিলেন জন ডান (John Donne)। এই কবিতাগুলো সাধারণ প্রেমের কবিতার মতো সহজ-সরল ছিল না।
বৈশিষ্ট্য: এতে আবেগ আর বুদ্ধির এক অদ্ভুত মিশ্রণ থাকে। কবিরা 'Conceit' বা অদ্ভুত সব তুলনা ব্যবহার করতেন। যেমন: প্রেমিক-প্রেমিকাকে তুলনা করা হতো একটি কম্পাসের দুই কাঁটার সাথে।
প্রধান কবি: জন ডান, অ্যান্ড্রু মার্ভেল, জর্জ হার্বার্ট।
কেন আলাদা: এগুলো ছিল যুক্তিনির্ভর এবং কিছুটা জটিল, যা পাঠককে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে।
রেনেসাঁ যুগের এই দুটি সৃষ্টিই ইংরেজি সাহিত্যের একেকটি স্তম্ভ, তবে এদের স্বাদ সম্পূর্ণ আলাদা। আপনার কৌতূহল মেটাতে আমি সংক্ষেপে দুটিরই সারমর্ম নিচে তুলে ধরছি:
১. রোমান্টিক ট্র্যাজেডি: Romeo and Juliet (উইলিয়াম শেক্সপিয়র)
এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত প্রেমের গল্প, যা রেনেসাঁ যুগের তীব্র আবেগ এবং পারিবারিক সংঘাতকে তুলে ধরে।
কাহিনী: ইতালির ভেরোনা শহরের দুটি অভিজাত পরিবার—মন্টাগু এবং ক্যাপুলেট—দীর্ঘদিন ধরে চরম শত্রুতায় লিপ্ত। রোমিও (মন্টাগু) এবং জুলিয়েট (ক্যাপুলেট) একে অপরের প্রেমে পড়ে এবং গোপনে বিয়ে করে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুজনেরই করুণ মৃত্যু ঘটে।
রেনেসাঁ বৈশিষ্ট্য: এখানে ভালোবাসা কেবল একটি অনুভূতি নয়, বরং সামাজিক দেয়াল ভেঙে ফেলার এক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এটি দেখায় যে মানুষের আবেগ কখনো কখনো সামাজিক রীতিনীতির চেয়েও বড়।
মূল বার্তা: "Death lies on her like an untimely frost." — অর্থাৎ, অকাল মৃত্যু কীভাবে সুন্দর জীবনকে কেড়ে নেয়।
২. মহাকাব্যিক লড়াই: Paradise Lost (জন মিল্টন)
এটি কেবল একটি কবিতা নয়, এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং ভালো-মন্দের লড়াইয়ের এক বিশাল ক্যানভাস।
কাহিনী: এটি শুরু হয় শয়তানের (Satan) স্বর্গ থেকে পতন দিয়ে। শয়তান ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পরাজিত হয়ে নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। এরপর সে ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের (আদম ও হাওয়া) ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে এবং তাদের নিষিদ্ধ ফল খাইয়ে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে।
বিখ্যাত উক্তি: শয়তানের সেই অমর সংলাপ—"Better to reign in Hell, than serve in Heav'n." (স্বর্গে দাসত্ব করার চেয়ে নরকে রাজত্ব করা ভালো)।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: মিল্টন এখানে মানুষের ইচ্ছাশক্তি (Free Will) এবং অবাধ্যতার পরিণাম দেখিয়েছেন। এটি রেনেসাঁ যুগের শেষ দিকের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
অবশ্যই! জন ডান (John Donne) ছিলেন মেটাফিজিক্যাল পোয়েট্রি-র সম্রাট। তাঁর কবিতাগুলো অনেকটা ধাঁধার মতো—প্রথমে কঠিন মনে হলেও গভীরে ঢুকলে দারুণ সব যুক্তি পাওয়া যায়।
তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজবোধ্য একটি কবিতা হলো "The Flea" (মাছিটি)। চলুন এর মূল বিষয়বস্তু খুব সহজে বুঝে নিই:
কবিতার প্রেক্ষাপট: The Flea
এই কবিতায় কবি তাঁর প্রেমিকাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সরাসরি প্রেমের কথা না বলে একটি 'মাছি' (Flea)-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রেনেসাঁ যুগে এটি ছিল এক অদ্ভুত এবং বুদ্ধিদীপ্ত তুলনা (যাকে বলা হয় Conceit)।
কবিতার মূল যুক্তি (ধাপে ধাপে):
রক্তের মিলন: কবি একটি মাছি দেখিয়ে প্রেমিকাকে বলছেন, "দেখো, এই মাছিটি প্রথমে আমাকে কামড়েছে, তারপর তোমাকে। এখন আমাদের দুজনের রক্ত এই মাছির পেটে মিশে এক হয়ে গেছে।"
পাপ নয়: কবি যুক্তি দিচ্ছেন যে, আমাদের রক্ত যদি মাছির ভেতরে মিশে যেতে পারে এবং সেটা যদি পাপ না হয়, তবে আমাদের মিলন কেন পাপ হবে? মাছিটি তো আমাদের বিয়ের আগেই আমাদের এক করে ফেলেছে!
তিনটি প্রাণ একদেহে: যখন প্রেমিকা মাছিটিকে মারতে উদ্যত হন, কবি বাধা দিয়ে বলেন, "থামো! এই মাছির ভেতরে তুমি, আমি এবং এই মাছি নিজে—তিনটি প্রাণ বাস করছে। একে মারা মানে হলো আমাদের ভালোবাসাকে হত্যা করা এবং আত্মহত্যার সমান পাপ করা।"
শেষ চমক (The Twist): প্রেমিকা শেষ পর্যন্ত মাছিটিকে নখ দিয়ে মেরে ফেলেন। তখন কবি হার না মেনে উল্টো যুক্তি দেন— "দেখো, মাছিটি মরে যাওয়ার পর তো তোমার কোনো ক্ষতি হলো না। তার মানে, তুমি মিছিমিছি ভয় পাচ্ছিলে। ঠিক তেমনি, আমাদের মিলন হলেও তোমার সম্মানের কোনো ক্ষতি হবে না।"
কেন এই কবিতাটি বিখ্যাত?
অদ্ভুত তুলনা: প্রেম নিবেদনের জন্য 'মাছি'-র মতো একটি তুচ্ছ পতঙ্গকে ব্যবহার করা ছিল সেই সময়ের পাঠকদের জন্য এক বিরাট চমক।
তীক্ষ্ণ বুদ্ধি (Wit): কবি এখানে আবেগ দিয়ে নয়, বরং যুক্তি দিয়ে প্রেমিকার মন জয়ের চেষ্টা করেছেন।
কবিতার একটি বিখ্যাত লাইন:
"It suck'd me first, and now sucks thee, / And in this flea our two bloods mingled be;" (এটি প্রথমে আমাকে চুষেছে, এখন তোমাকে; আর এই মাছির ভেতরেই আমাদের দুই রক্ত মিলেমিশে একাকার।)
জন ডানের 'The Flea' কবিতাটি আসলেই বেশ মজার এবং কিছুটা অদ্ভুত, তাই না? একজন প্রেমিক তার প্রেমিকার মন জয় করার জন্য একটি সাধারণ মাছিকে যে এভাবে "যুক্তি" হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তা কেবল জন ডানের মতো মেটাফিজিক্যাল কবির পক্ষেই সম্ভব ছিল। এটি মূলত বুদ্ধির খেলা বা 'Wit'।
তবে আপনি যদি রেনেসাঁ যুগের গভীর জীবনদর্শন এবং আধ্যাত্মিক সাহস বুঝতে চান, তবে "Death, Be Not Proud" (সনেট ১০) কবিতাটি অতুলনীয়। চলুন এর মূল সারমর্মটি খুব সহজভাবে দেখে নিই:
"Death, Be Not Proud": মৃত্যুকে কবির চ্যালেঞ্জ
সাধারণত মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। কিন্তু এই কবিতায় জন ডান মৃত্যুকে একজন সাধারণ মানুষের মতো সম্বোধন করে তাকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন।
১. মৃত্যুকে অহংকার করতে মানা করা
কবি শুরুতেই মৃত্যুকে বলছেন, "তুমি নিজেকে খুব শক্তিশালী আর ভয়ানক মনে করো, কিন্তু আসলে তুমি তা নও।" তিনি মৃত্যুকে বলছেন যে, যাদের তুমি মারো বলে মনে করো, তারা আসলে মরে না।
২. মৃত্যু আসলে একটি দীর্ঘ ঘুম
ডানের যুক্তি হলো—যদি সাধারণ ঘুম আমাদের শান্তি দেয়, তবে মৃত্যু তো এক দীর্ঘ ঘুম, যা আমাদের আরও বেশি শান্তি দেবে। তিনি মৃত্যুকে তুলনা করেছেন বিশ্রাম বা ঘুমের সাথে, যা আমাদের আত্মাকে মুক্তি দেয়।
৩. মৃত্যু নিজেই পরাধীন
কবি মৃত্যুকে বিদ্রূপ করে বলছেন, "মৃত্যু, তুমি তো স্বাধীন নও! তুমি বরং ভাগ্য, সুযোগ, রাজা এবং অপরাধীদের দাস।" কারণ মৃত্যু একা আসতে পারে না; তাকে বিষ, যুদ্ধ বা অসুখের ওপর নির্ভর করতে হয়।
৪. মৃত্যুর নিজেরই মৃত্যু হবে (The Paradox)
কবিতার শেষ লাইনটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিখ্যাত লাইন:
"And death shall be no more; Death, thou shalt die." (এবং মৃত্যু আর থাকবে না; মৃত্যু, তোমারই মৃত্যু হবে।)
সহজ ব্যাখ্যা: খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষ যখন চিরস্থায়ী জীবনে (পরকালে) প্রবেশ করবে, তখন আর কেউ মরবে না। যেহেতু এরপর আর কেউ মরবে না, তাই মৃত্যুর আর কোনো কাজ থাকবে না—অর্থাৎ মৃত্যুরই মৃত্যু ঘটবে।
কেন এই কবিতাটি আলাদা?
সাহস: যেখানে মানুষ মৃত্যুকে যমদূত বা ভয়ের প্রতীক মনে করে, সেখানে কবি তাকে "বেচারা মৃত্যু" (Poor Death) বলে উপহাস করছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস: এখানে রেনেসাঁ যুগের শেষ দিকের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গভীরতা ফুটে উঠেছে।
আসলে দুটি বিষয়ই রেনেসাঁ যুগের দুটি ভিন্ন রূপকে ফুটিয়ে তোলে। একদিকে রোমিও-জুলিয়েট দিয়ে আমরা দেখি মানুষের আবেগের জয়গান, অন্যদিকে শয়তানের (Satan) চরিত্র দিয়ে দেখি অদম্য বিদ্রোহ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ।
যেহেতু আপনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন, চলুন এই দুটি জনপ্রিয় বিষয়ই সংক্ষেপে কিন্তু গভীরভাবে বুঝে নিই:
১. রোমিও-জুলিয়েট: সেই অমর 'বালকনি সিন' (Act 2, Scene 2)
এটি বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে রোমান্টিক দৃশ্য হিসেবে পরিচিত। এখানে শেক্সপিয়র দেখিয়েছেন যে, সত্যিকারের ভালোবাসা কোনো পারিবারিক শত্রুতা বা সামাজিক নাম মানে না।
বিখ্যাত উক্তি: জুলিয়েট যখন ওপর থেকে বলে, "O Romeo, Romeo! wherefore art thou Romeo?"—এর অর্থ "তুমি কেন রোমিও হলে?" (অর্থাৎ, তুমি কেন আমার শত্রুপক্ষ মন্টাগু পরিবারে জন্মালে?)।
নামের গুরুত্ব: জুলিয়েট যুক্তি দেয় যে, নামে কিছু যায় আসে না— "What’s in a name? That which we call a rose / By any other name would smell as sweet." (গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক, তার সুগন্ধ একই থাকবে)।
বৈশিষ্ট্য: এই দৃশ্যে রোমিও ও জুলিয়েট একে অপরের কাছে চিরকাল পাশে থাকার শপথ নেয়, যা রেনেসাঁ যুগের 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতার' এক বড় উদাহরণ।
২. প্যারাডাইস লস্ট: শয়তানের চরিত্র কেন এত আকর্ষণীয়?
জন মিল্টনের Paradise Lost-এ শয়তান (Satan) অনেকটা 'অ্যান্টি-হিরো' (Anti-hero) হিসেবে ধরা দেয়। কেন পাঠকরা শয়তানের প্রতি এক ধরণের সহানুভূতি বা আকর্ষণ বোধ করেন?
অদম্য জেদ: শয়তান যখন বলে, "Better to reign in Hell, than serve in Heav'n", তখন তার মধ্যে একজন বিদ্রোহীর রূপ ফুটে ওঠে যে কোনো অবস্থাতেই মাথা নত করতে রাজি নয়।
মানুষের মতো আবেগ: মিল্টনের শয়তান কেবল নিরেট শয়তান নয়; তার মধ্যে দুঃখ, ঈর্ষা এবং হেরে যাওয়ার গ্লানি আছে, যা তাকে রক্ত-মাংসের মানুষের মতো করে তোলে।
রেনেসাঁ স্পিরিট: রেনেসাঁ যুগের মানুষ অজানাকে জয় করতে চাইত এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলত। শয়তানের এই 'বিদ্রোহী' সত্তা সেই যুগের মানুষের অবদমিত আকাঙ্ক্ষাকেই যেন প্রতিনিধিত্ব করে।
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০) 
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales) 
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur 
9. William Langland: Piers Plowman 
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০) 
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet 
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus 
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene 
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮) 
16. John Dryden: Absalom and Achitophel 
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস) 
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe 
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব: 
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু 
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু 
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু 
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু 
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 
একটি মজার তুলনা:
রোমিও লড়েছে পারিবারিক প্রথার বিরুদ্ধে ভালোবাসার জন্য, আর শয়তান লড়েছে সৃষ্টিকর্তার শাসনের বিরুদ্ধে তার নিজের স্বাধীনতার জন্য। দুটিই আসলে রেনেসাঁ যুগের 'ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ'-এর দুটি ভিন্ন দিক। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

0 Comments