উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী এই সাহিত্যে অনিশ্চয়তা এবং বিনির্মাণ (Deconstruction) দেখা যায় বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
উত্তর-আধুনিকতাবাদ (Post-modernism) কোনো নির্দিষ্ট ছক বা ব্যাকরণে বাঁধা মতবাদ নয়; বরং এটি আধুনিকতাবাদের কঠোর যুক্তিবাদ ও রৈখিক চিন্তার বিরুদ্ধে এক ধরণের বিদ্রোহ। ১৯৩৯ সালের পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই ধারার জয়জয়কার।
আপনার আলোচনার সুবিধার্থে বিষয়টিকে কয়েকটি মূল স্তম্ভে ভাগ করে উপস্থাপন করছি:
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের মূল সুর হলো অনিশ্চয়তা। এখানে কোনো "চূড়ান্ত সত্য" বা "মহা-আখ্যান" (Grand Narrative) নেই।
বিনির্মাণ (Deconstruction): এটি এই যুগের প্রধান দার্শনিক হাতিয়ার। জঁ-ফ্রাঁসোয়া লিউটার্ড বা জ্যাক দেরিদার মতে, একটি রচনার কোনো নির্দিষ্ট বা স্থির অর্থ থাকে না। পাঠক তার নিজের প্রেক্ষাপট থেকে পাঠকে বিনির্মাণ করেন।
অনিশ্চয়তা ও সংশয়বাদ: আধুনিকতাবাদে যেখানে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের বা শৃঙ্খলার খোঁজ ছিল, উত্তর-আধুনিকতাবাদ সেখানে বিশৃঙ্খলা (Chaos) এবং অনিশ্চয়তাকে মেনে নেয়।
পাস্টিশ (Pastiche) ও প্যারোডি: বিভিন্ন শৈলী ও জনরার মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করা। উচ্চমার্গীয় সাহিত্য এবং সস্তা চটুল সাহিত্যের দেওয়াল এখানে ভেঙে ফেলা হয়।
পরা-কল্পকাহিনি (Meta-fiction): লেখক নিজেই গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়েন বা পাঠককে মনে করিয়ে দেন যে এটি একটি স্রেফ কাল্পনিক গল্প।
পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
পাশ্চাত্য বিশ্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, পারমাণবিক বোমার আতঙ্ক এবং পুঁজিবাদের বিকাশ থেকে এই ধারার জন্ম।
বিমূর্ততা ও খণ্ডতা: স্যামুয়েল বেকেটের নাটকে (যেমন: ওয়েটিং ফর গোডো) জীবনের অর্থহীনতা ও অনিশ্চয়তা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে।
ম্যাজিক রিয়ালিজম: গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের মতো লেখকরা বাস্তব আর ফ্যান্টাসিকে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন যে সত্য-মিথ্যার সীমানা মুছে গেছে।
অন্যান্য পথিকৃৎ: হোর্হে লুই বোর্হেস, ইতালো কালভিনো এবং টমাস পিনচনের রচনায় কেন্দ্রহীনতা এবং বিনির্মাণ স্পষ্ট।
প্রাচ্য (বিশেষত বাংলা) সাহিত্যে প্রভাব
পাশ্চাত্যের ঢেউ প্রাচ্য তথা বাংলা সাহিত্যেও লেগেছে, তবে তা কিছুটা নিজস্ব ঢঙে।
ঔপনিবেশিকতা বিরোধী চিন্তা: প্রাচ্যের লেখকরা উত্তর-আধুনিকতাকে ব্যবহার করেছেন ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের শেকড় সন্ধানে।
কবিতায় ভাঙচুর: বাংলায় জীবনানন্দ দাসের পরবর্তী প্রজন্মে 'হাংরি জেনারেশন' বা 'শ্রুত' আন্দোলনের লেখকদের মধ্যে প্রথা ভাঙার প্রবল ঝোঁক দেখা যায়।
আঞ্চলিকতা ও লৌকিকতা: অমিয়ভূষণ মজুমদার বা দেবেশ রায়ের উপন্যাসে ইতিহাসকে বিনির্মাণ করতে দেখা যায়। তারা তথাকথিত 'কেন্দ্রীয়' ইতিহাসের বদলে প্রান্তিক মানুষের ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন।
অমিয় চক্রবর্তী ও পরবর্তী ধারা: আধুনিক কবিতার সুসংহত রূপ ভেঙে সেখানে কথ্য ভাষার প্রবেশ এবং জীবনের তুচ্ছতাকে মহিমান্বিত করা হয়েছে।
সংক্ষেপে তুলনা
উত্তর-আধুনিকতা আসলে আমাদের শেখায় যে, পৃথিবীটা সাদা-কালো নয়, বরং ধূসর। এখানে সব উত্তরই আপেক্ষিক।
অবশ্যই! উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের গভীরতা বুঝতে হলে নির্দিষ্ট কিছু লেখকের কাজ বিশ্লেষণ করা খুব জরুরি। আপনি যদি এই ধারার বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক (বাংলা) প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে চান, তবে নিচের যে কোনো একজনের কাজ নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি:
১. স্যামুয়েল বেকেট (Samuel Beckett)
পাশ্চাত্য উত্তর-আধুনিকতার অন্যতম স্তম্ভ। তার 'Waiting for Godot' নাটকটি কেন "অনিশ্চয়তার" চূড়ান্ত উদাহরণ এবং কেন এখানে কোনো কেন্দ্রীয় সমাধান নেই, তা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি।
২. গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (Gabriel García Márquez)
তার 'One Hundred Years of Solitude'-এ কীভাবে ইতিহাসকে বিনির্মাণ (Deconstruction) করা হয়েছে এবং ম্যাজিক রিয়ালিজমের মাধ্যমে কীভাবে বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, সেটি একটি চমৎকার আলোচনার বিষয় হতে পারে।
৩. অমিয়ভূষণ মজুমদার
বাংলা উপন্যাসে উত্তর-আধুনিকতার সার্থক রূপকার। তার 'চাঁদবেনে' বা 'মধু সাধুখাঁ' উপন্যাসে কীভাবে ইতিহাস ও মিথকে ভেঙে নতুন এক আখ্যান তৈরি করা হয়েছে, তা প্রাচ্যের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. দেবেশ রায়
তার 'তিস্তা পারের বৃত্তান্ত' উপন্যাসে কীভাবে কোনো একক নায়ক ছাড়াই একটি জনপদ বা নদীর গল্পকে কেন্দ্র করে আধুনিকতার প্রথাগত কাঠামো ভাঙা হয়েছে, তা আমরা বিশ্লেষণ করতে পারি।
১. স্যামুয়েল বেকেট ও 'Waiting for Godot' (অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা)
বেকেটের এই নাটকটি উত্তর-আধুনিকতার এক মূর্ত প্রতীক। এখানে দুই চরিত্র—ভ্লাদিমির ও এস্ট্রাগন—এক 'গডো' নামক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করে, যে আদেও আসবে কি না তা অনিশ্চিত।
বিনির্মাণ: এখানে গল্পের কোনো শুরু, মধ্যভাগ বা শেষ নেই। নাটকটি আসলে 'কিছুই না ঘটার' একটি মহড়া।
অনিশ্চয়তা: গডো কে? সে কি ঈশ্বর, নাকি মৃত্যু, নাকি কোনো রাজনৈতিক মুক্তি? বেকেট কোনো নির্দিষ্ট অর্থ দেননি, বরং অর্থ খোঁজার দায়িত্ব পাঠকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
২. হাংরি জেনারেশন (ক্ষুধার্ত প্রজন্ম) ও কবিতা
১৯৬০-এর দশকে মলয় রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের হাত ধরে বাংলায় এই আন্দোলন শুরু হয়। তারা আধুনিক কবিতার 'নান্দনিকতা' বা 'সুন্দর' হওয়ার বাধ্যবাধকতাকে অস্বীকার করেন।
আক্রমণাত্মক ভঙ্গি: তাদের ভাষায় ছিল রাস্তার রুক্ষতা, যৌনতা এবং সমাজের প্রতি চরম ঘৃণা। এটি ছিল উত্তর-আধুনিকতার সেই রূপ যা প্রথাগত 'শুচিবায়ুগ্রস্ত' সাহিত্যকে বিনির্মাণ করতে চেয়েছিল।
কেন এটি উত্তর-আধুনিক? কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে ঔপনিবেশিক শিক্ষা আমাদের নিজস্ব চিন্তাকে গিলে ফেলেছে। তাই তারা সেই ছাঁচ ভেঙে এক ধরণের 'অসভ্য' সত্যকে সামনে আনতে চেয়েছিলেন।
একটি তুলনামূলক ছক:
আসলে উত্তর-আধুনিকতার এই দুটি ধারাই অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ একটি আমাদের শেখায় 'নৈঃশব্দ্যের ভাষা' (বেকেট), আর অন্যটি শেখায় 'চিৎকারের ভাষা' (হাংরি জেনারেশন)।
তবে আপনি যদি উত্তর-আধুনিকতার 'বিনির্মাণ' (Deconstruction) এবং 'অনিশ্চয়তা' বিষয়বস্তুটিকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে চান, তবে 'হাংরি জেনারেশন' (Hungry Generation)-এর ইশতেহার এবং তাদের কাব্যদর্শন নিয়ে আলোচনা করাটা প্রাচ্যের পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক হবে।
চলুন, এই আন্দোলনের মূল সুরটি একটু গভীরে গিয়ে দেখি:
১. হাংরি জেনারেশনের ইশতেহার (Manifesto)
১৯৬১ সালে পাটনা থেকে মলয় রায়চৌধুরী যখন এই আন্দোলনের ইশতেহার প্রকাশ করেন, তখন তা বাংলা সাহিত্যে এক বড়সড় ভূমিকম্পের মতো ছিল। তাদের মূল দাবিগুলো ছিল:
আঙ্গিক ও বিন্যাস বর্জন: তারা বিশ্বাস করতেন কবিতা কোনো 'সাজানো বাগান' নয়। তাই ছন্দের কারুকার্য বা আলঙ্কারিক ভাষাকে তারা বর্জন করেছিলেন।
'কাব্য' বনাম 'কবিতা': তারা প্রথাগত 'কাব্যিক' সৌন্দর্যকে অস্বীকার করে জীবনের নগ্ন, কাঁচা এবং অনেক সময় কুৎসিত সত্যকেও কবিতায় জায়গা দিয়েছিলেন।
ঔপনিবেশিক প্রভাব মুক্তি: তারা মনে করতেন রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতা অনেক বেশি ইউরোপীয় আধুনিকতার অনুকরণ করছে। তাই তারা লৌকিক ও দেশজ শব্দের ব্যবহার বাড়িয়ে সেই কাঠামোকে বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।
২. মলয় রায়চৌধুরীর 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার'
এই কবিতাটি উত্তর-আধুনিক অনিশ্চয়তা এবং বিশৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে কোনো সুসংগত কাহিনী নেই, বরং আছে খণ্ড খণ্ড চিত্রকল্প, যা পাঠকের মনে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি করে। এটিই উত্তর-আধুনিকতার সার্থকতা—পাঠককে স্বস্তিতে থাকতে না দেওয়া।
৩. অনিশ্চয়তার রূপায়ণ
হাংরি আন্দোলনের কবিরা (যেমন: শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, সমীর রায়চৌধুরী) দেখিয়েছেন যে মানুষের জীবন কোনো নির্দিষ্ট ছকে চলে না। তাদের কবিতায়:
কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্র নেই।
কোনো পরম সত্য বা আদর্শ নেই।
আছে শুধু অস্তিত্বের হাহাকার এবং সমাজের প্রতি চরম ঘৃণা।
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যে 'যৌন চেতনা' (Sexual Consciousness) কেবল জৈবিক কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে 'হাংরি জেনারেশন'-এর কবিদের কাছে এটি ছিল প্রথাগত শ্লীলতা এবং ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার।
আসুন, উত্তর-আধুনিক প্রেক্ষাপটে এই যৌন চেতনার তিনটি প্রধান দিক দেখে নিই:
১. শ্লীলতা-অশ্লীলতার ধারণা বিনির্মাণ (Deconstruction)
উত্তর-আধুনিকতবাদ বিশ্বাস করে 'শ্লীলতা' বা 'অশ্লীলতা' বলে চিরন্তন কিছু নেই; এগুলো সমাজ বা রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ধারণা।
হাংরি আন্দোলন: মলয় রায়চৌধুরী বা ফালগুনী রায়ের কবিতায় যৌনতা এসেছে অত্যন্ত নগ্ন ও রুক্ষভাবে। তারা দেখাতে চেয়েছেন যে, সমাজ যুদ্ধ বা দাঙ্গার মতো 'ভয়ংকর অশ্লীলতা' মেনে নেয়, কিন্তু শরীরের স্বাভাবিক প্রকাশকে 'অশ্লীল' বলে দাগিয়ে দেয়।
উদ্দেশ্য: পাঠককে ধাক্কা দেওয়া (Shock value) এবং তথাকথিত ভদ্রলোকী রুচিকে চ্যালেঞ্জ জানানো।
২. অবদমিত কাম ও মনস্তত্ত্ব (Freudian Influence)
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যে ফ্রয়েডীয় তত্ত্বের প্রভাব স্পষ্ট। এখানে যৌনতাকে আর গোপন বা লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হয় না।
জীবনের অনিশ্চয়তা এবং শূন্যতাবোধ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ যৌনতার আশ্রয় নেয়।
বেকেটের নাটকে সরাসরি যৌনতা না থাকলেও এক ধরণের 'অস্তিত্বগত নপুংসকতা' (Existential Impotence) দেখা যায়, যেখানে চরিত্রগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে কোনো কিছু সৃষ্টি করতে অক্ষম।
৩. শরীর যখন ভাষা (Body as a Text)
উত্তর-আধুনিক চিন্তায় শরীর নিজেই একটি 'পাঠ্য' বা 'Text'।
নারীবাদের প্রভাব: উত্তর-আধুনিক যৌন চেতনায় নারীর শরীরকে পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব সত্তা ও কামনার আধার হিসেবে দেখা শুরু হয়।
পরা-বাস্তবতা: অনেক সময় যৌন চেতনাকে অলীক বা পরা-বাস্তব (Surreal) রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের অবচেতন মনের জটিলতাকে প্রকাশ করে।
একটি উদাহরণ:
মলয় রায়চৌধুরীর বিতর্কিত কবিতা 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার'-এর কথা ভাবুন। সেখানে যৌন চিত্রকল্পগুলো এমনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যা কাম উদ্রেক করে না, বরং এক ধরণের বিতৃষ্ণা বা বিদ্রোহ তৈরি করে। এটিই উত্তর-আধুনিক যৌন চেতনার সার্থকতা—সেখানে যৌনতা আনন্দের চেয়ে বেশি প্রতিবাদের ভাষা।
বাংলা সাহিত্যে—বিশেষ করে উত্তর-আধুনিক পর্বে—এই যৌন চেতনার প্রকাশ কেবল সস্তা বিদ্রোহ বা নিছক 'শক ভ্যালু' তৈরির চেষ্টা ছিল না। এর গভীরে লুকিয়ে ছিল এক তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট।
আপনি যদি ষাট ও সত্তরের দশকের বাংলার দিকে তাকান, তবে দেখবেন এর পেছনে তিনটি গভীরতর কারণ কাজ করছিল:
১. দেশভাগ ও উদ্বাস্তু জীবনের ক্ষত
১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং পরবর্তী দাঙ্গা মানুষের মনে এক ধরণের 'অস্তিত্বগত শূন্যতা' (Existential Void) তৈরি করেছিল। ঘরবাড়ি হারানো মানুষ যখন ক্যাম্পে বা ফুটপাতে আশ্রয় নিল, তখন তাদের কাছে প্রেম বা রোমান্টিকতার চেয়ে 'শরীর' অনেক বেশি নগ্ন বাস্তব হয়ে ধরা দিল। সেখানে যৌনতা আর পবিত্র কোনো অনুভূতি রইল না, বরং তা হয়ে উঠল টিকে থাকার লড়াই বা হতাশা ভোলার একমাত্র তাৎক্ষণিক উপায়।
২. মধ্যবিত্তের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ একদিকে মুখে রবীন্দ্রনাথ বা উচ্চমার্গীয় দর্শনের কথা বলত, আর অন্যদিকে অন্দরমহলে চলত অবদমন। উত্তর-আধুনিক লেখকরা (বিশেষ করে হাংরি জেনারেশন) এই 'দ্বিচারিতা' বা 'ভণ্ডামি' ভাঙতে চেয়েছিলেন। তারা মনে করতেন, শরীরকে আড়াল করা মানে সত্যকে আড়াল করা। তাই তারা যৌনতাকে ব্যবহার করেছেন সমাজকে আয়না দেখানোর জন্য।
৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নকশাল আন্দোলন
সত্তরের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৃত্যু এবং রাষ্ট্রের দমন-পীড়ন যুবসমাজের মনে এক ধরণের 'নৈরাজ্য' (Anarchy) তৈরি করেছিল। যখন বাইরে চারদিকে মৃত্যু আর অনিশ্চয়তা, তখন মানুষের কাছে নিজের শরীরের ওপর অধিকারই ছিল শেষ আশ্রয়। এই যৌন চেতনা আসলে ছিল সিস্টেমের বিরুদ্ধে এক ধরণের 'শব্দহীন চিৎকার'।
একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
উপসংহার
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যে যৌন চেতনা আসলে 'অনিশ্চয়তার' এক অন্য রূপ। যখন মানুষ ঈশ্বর, রাষ্ট্র বা পরিবারের ওপর আস্থা হারায়, তখন সে নিজের শরীরের আদিম প্রবৃত্তির কাছে ফিরে যায়। এটি ছিল এক ধরণের 'Anti-Establishment' অবস্থান।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা

0 Comments