পিতামাতার সেবা বনাম স্ত্রীর অধিকার: এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ইসলামি পদ্ধতি যা পবিত্র অল কোরআনে উল্লেখিত :
আসসালামুয়ালাইকুম মোমেনগন 🙋♂️🙋♂️🙋♂️ পবিত্র অল্ কোরাআন কেবল মাত্র ধর্ম গ্রন্থ নয়। বিশ্ব মানব কল্যাণে উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক পরিপুরক গ্রন্থ। পবিত্র “রমজান মাসে অল্ কোরআনের সাথে” অর্থ না বুঝে কেবল মাত্র আরবি উচ্চারণ আর নয় চলুন আরবি উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলা অর্থ বুঝার ও আমল করার চেষ্টা করি :
ইসলামি জীবনদর্শনে পিতামাতার সেবা এবং স্ত্রীর অধিকার—উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি করে না, বরং উভয়কে স্ব-স্ব স্থানে মর্যাদাবান করেছে। এদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিছু দিকনির্দেশনা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পিতামাতার অধিকার ও মর্যাদা
পিতামাতার অবাধ্য হওয়াকে ইসলামে শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে দেখা হয়। তাদের সাথে সদাচরণ করা মহান আল্লাহর নির্দেশ।
আল-কুরআনের দলিল:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
> وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
উচ্চারণ: ওয়া কাদা রাব্বুকা আল্লা তা‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু وبالوالدين ইহসানা।
অর্থ: "আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।" (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৩)
করণীয়:
* তাদের বার্ধক্যে সেবার মাধ্যমে জান্নাত অন্বেষণ করা।
* তাদের সাথে কথা বলার সময় নম্রতা বজায় রাখা (কখনো ‘উফ’ না বলা)।
* তাদের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা।
২. স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা
স্ত্রীকে আল্লাহর দেওয়া এক মহান আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়। তার মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্ব।
আল-কুরআনের দলিল:
পারিবারিক শান্তি ও স্ত্রীর মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
উচ্চারণ: ওয়া আ-শিরূহুন্না বিল মা‘রূফ।
অর্থ: "এবং তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে উত্তম ও ন্যায়সঙ্গতভাবে জীবন অতিবাহিত করো।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে:
> وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
উচ্চারণ: ওয়ালাহুন্না মিছলুল্লাযী ‘আলাইহিন্না বিল মা‘রূফ।
অর্থ: "নারীদেরও তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে পুরুষদের ওপর, যেমন পুরুষদের অধিকার আছে নারীদের ওপর।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২৮)
করণীয়:
* সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম বাসস্থান, খাবার ও পোশাক নিশ্চিত করা।
* তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মতামতের সম্মান দেওয়া।
* অহেতুক সন্দেহ বা কঠোর আচরণ না করা।
৩. ভারসাম্য বজায় রাখার ইসলামি পদ্ধতি
পিতামাতা ও স্ত্রীর মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:
👉 ভরণ-পোষণ | বাবা ও মা যদি তারা অক্ষম হন, তবে সন্তান হিসেবে খরচ বহন করা ফরজ। | সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর খোরপোশ দেওয়া স্বামীর আবশ্যিক দায়িত্ব।
👉 বাসস্থান | সাধ্য থাকলে মা-বাবার কাছাকাছি থাকা। | স্ত্রীর জন্য একটি স্বতন্ত্র কামরা বা (সামর্থ্য থাকলে) পৃথক আবাসের ব্যবস্থা করা।
👉 আনুগত্য | পিতা ও মাতার প্রতি আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন সব বিষয়ে তাদের মান্য করা। | স্ত্রীর ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা।
ভারসাম্যের মূলমন্ত্র:
১. ন্যায়বিচার (আদল): একজনের অধিকার দিতে গিয়ে অন্যজনের হক নষ্ট করা যাবে না। স্ত্রীকে ভালোবাসলে মা-বাবাকে অবহেলা করা যাবে না, আবার মা-বাবার অন্ধ ভক্তিতে স্ত্রীর ওপর জুলুম করা যাবে না।
২. স্বতন্ত্র আবাসন: অনেক ক্ষেত্রে ঝগড়া বিবাদ এড়াতে সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীকে পৃথক থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া (পিতামাতার সেবায় বিঘ্ন না ঘটিয়ে) একটি কার্যকর সমাধান।
৩. বিচক্ষণতা: উভয়ের অভিযোগ ধৈর্য সহকারে শোনা এবং কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা।
পিতামাতা আপনার জান্নাতের দরজা, আর স্ত্রী আপনার অর্ধাঙ্গিনী ও ঘরের আমানত। একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে আপনাকে উভয়ের মাঝেই ইনসাফ কায়েম করতে হবে।
তফসীর বা অর্থ প্রকাশে যদি কোনো ভ্রান্তি থাকে জানান আমার আগ্রহ জানার। ভালো লাগলে অবশ্য আমাকে ফ্লো করুন। লাইক-শেয়ার-কমেন্ট করুন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নিজে জানুন আমল করুন ও অপর কে শেয়ার করে জানানোর ব্যবস্থা করলে সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ হাফিজ।। আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐পাঁশকুড়া।। মুসলিম সমাজের সমস্যা ও সমাধানে আল্লাহর বিধান প্রতি দিন 10 টি পোস্ট রমজান মাসের এই কটি দিন সবাই মিলে আমল করার চেষ্টা করি।। আল্লাহ আমাদের কে ইসলামের বিধানের মধ্যে কার্যকর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।।
📌 Click Icon সাবস্ক্রাইব করুন:
Click Topics and Read Thank you visit again
19.
20.
0 Comments