P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
পি. বি. শেলি (P. B. Shelley)-র 'ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড' (Ode to the West Wind) ইংরেজি রোমান্টিক সাহিত্যের একটি অগ্নিগর্ভ সৃষ্টি। ১৮১৯ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে একটি জঙ্গলে বসে শেলি এটি লিখেছিলেন। কিটসের কবিতা যেখানে সৌন্দর্যের আরাধনা করে, শেলির এই কবিতা সেখানে বিপ্লব, পরিবর্তন এবং আশাবাদের জয়গান গায়।
নিচে কবিতাটির বিষয়বস্তু এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে এর প্রভাব আলোচনা করা হলো:
১. বিষয়বস্তু আলোচনা
কবিতাটি পাঁচটি স্তবকে (Cantos) বিভক্ত এবং এটি টেরজা রিমা (Terza Rima) ছন্দে লেখা।
ধ্বংসকারী ও রক্ষাকর্তা (Destroyer and Preserver): শেলি পশ্চিমী ঝোড়ো বাতাসকে একই সঙ্গে ধ্বংসকারী এবং রক্ষাকর্তা বলেছেন। এটি মৃত পাতাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় (ধ্বংস), আবার বীজের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে বসন্তের অপেক্ষায় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে (রক্ষণ)।
প্রকৃতির ওপর প্রভাব: শেলি দেখিয়েছেন কীভাবে এই বাতাস আকাশ (মেঘ), সমুদ্র (আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর) এবং বনের ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করে। বাতাসের তাণ্ডবে সমুদ্রের তলদেশের উদ্ভিদও ভয়ে কেঁপে ওঠে।
কবির প্রার্থনা: ব্যক্তিগত জীবনে শেলি তখন শোকাতুর এবং সমাজ সংস্কারে ব্যর্থ হয়ে হতাশ। তিনি বাতাসের কাছে প্রার্থনা করেন— "Make me thy lyre, even as the forest is"। তিনি চান বাতাস যেন তাঁর মৃতপ্রায় চিন্তাধারাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়।
বিখ্যাত আশাবাদ: কবিতার শেষ পঙক্তিটি বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পঙক্তি:
"If Winter comes, can Spring be far behind?"
অর্থাৎ, দুঃখের পর সুখ বা ধ্বংসের পর নতুন সৃষ্টি অনিবার্য।
২. পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
শেলির এই কবিতা পাশ্চাত্য রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক মহলে এক গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিপ্লবী চেতনা: উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক ও বিপ্লবী কবিদের কাছে শেলি ছিলেন এক আদর্শ। তাঁর এই কবিতাটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতীকবাদ (Symbolism): প্রকৃতির শক্তিকে মানুষের অন্তরাত্মার শক্তির সাথে তুলনা করার যে কৌশল শেলি দেখিয়েছেন, তা পরবর্তীকালে ডব্লিউ. বি. ইয়েটস (W. B. Yeats)-এর মতো কবিদের প্রভাবিত করেছে।
ছন্দের প্রভাব: ইতালীয় 'টেরজা রিমা' ছন্দকে ইংরেজিতে সফলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে শেলির এই কবিতাটি একটি মাইলফলক।
৩. প্রাচ্য সাহিত্যে প্রভাব
বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে আধুনিক কবিতার উন্মেষলগ্নে শেলির প্রভাব ছিল অপরিসীম।
কাজী নজরুল ইসলাম: নজরুলের 'বিদ্রোহী' বা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় শেলির 'West Wind'-এর সেই ধ্বংসাত্মক অথচ সৃজনশীল শক্তির স্পষ্ট ছায়া দেখা যায়। নজরুলও জরাজীর্ণ সমাজকে ধ্বংস করে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা হুবহু শেলির দর্শনের সাথে মিলে যায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতায় (বিশেষ করে 'বর্ষশেষ' বা 'বলাকা') ঝড়ের যে রূপ আমরা দেখি, তা শেলির গতিময়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথও বিশ্বাস করতেন যে সুন্দরের আগমনের আগে রুদ্রের তাণ্ডব প্রয়োজন।
যুগসন্ধিক্ষণের কবিরা: মোহিতলাল মজুমদার বা যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কবিতায় শেলির সেই নাস্তিক্যবাদ এবং অদম্য প্রাণশক্তির লড়াইয়ের প্রতিফলন দেখা যায়।
৪. কিটস বনাম শেলি: একটি সংক্ষিপ্ত তুলনা
শেলির এই কবিতাটি আসলে কেবল বাতাসের বর্ণনা নয়, এটি মানুষের অজেয় মানসিক শক্তি এবং ভবিষ্যতের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের এক দলিল।
শেলির 'ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড' (Ode to the West Wind) কবিতাটি কারিগরি দিক থেকে যেমন নিখুঁত, তেমনি ভাবনার দিক থেকে এক বৈপ্লবিক দলিল। আপনি যদি এর 'টেরজা রিমা' ছন্দের বুনন এবং নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের কবিতার সাথে এর আত্মিক মিল দেখেন, তবে বুঝবেন কেন শেলিকে 'কবিদের কবি' বলা হয়।
নিচে এই দুটি বিষয়ই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. 'টেরজা রিমা' (Terza Rima) ছন্দের গঠন
শেলি এই কবিতায় ইতালীয় কবি দান্তের (Dante) বিখ্যাত ছন্দ 'টেরজা রিমা' ব্যবহার করেছেন। ইংরেজিতে এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ছন্দ, কিন্তু শেলি একে এক অনন্য গতিশীলতা দিয়েছেন।
গঠনশৈলী: এটি তিন লাইনের স্তবক (Tercet) নিয়ে গঠিত। এর বিশেষত্ব হলো এর ইন্টারলকিং রাইম স্কিম (Interlocking Rhyme Scheme), অর্থাৎ এক স্তবকের মিল পরের স্তবকে গিয়ে মিশে যায়।
মিলবিন্যাস (Rhyme Scheme): $ABA$ / $BCB$ / $CDC$ / $DED$ ... এবং শেষে একটি Rhyming Couplet ($EE$) দিয়ে শেষ হয়।
একটি উদাহরণ (কবিতা থেকে):
Thou wild West Wind, thou breath of Autumn's being, (A)
Thou, from whose unseen presence the leaves dead (B)
Are driven, like ghosts from an enchanter fleeing, (A)
(পরের স্তবকে 'B' মিলটি প্রধান হয়ে উঠবে: dead -> red -> bed)
এই ছন্দের চেইন বা শিকলের মতো গঠনটি বাতাসের অবিরাম বয়ে চলা এবং তার অদম্য শক্তিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. শেলি বনাম নজরুল: 'বিদ্রোহী' ও 'প্রলয়োল্লাস'
বাংলা সাহিত্যে শেলির সবচেয়ে সার্থক উত্তরসূরি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। শেলির 'West Wind' যেমন পুরনোকে ধ্বংস করে নতুনের বীজ বপন করে, নজরুলের 'প্রলয়োল্লাস' ঠিক একই সুরে কথা বলে।
ধ্বংস ও সৃষ্টি: শেলি বলেছেন বাতাস হলো "Destroyer and Preserver"। নজরুল ঠিক একইভাবে বলেছেন— "তোরা সব জয়ধ্বনি কর! / আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশায় নৃত্য-পাগল"। নজরুলের কাছেও ধ্বংস মানেই সুন্দরের আগমনের পথ প্রশস্ত করা।
অজেয় শক্তি: শেলি বাতাসের সাথে একাত্ম হতে চেয়েছেন— "Be thou, Spirit fierce, / My spirit! Be thou me, impetuous one!"। নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতায় সেই একই অদম্য 'আমি'র প্রকাশ ঘটে, যা সমস্ত বাধা ভেঙে চুরমার করে দেয়।
৩. শেলি বনাম রবীন্দ্রনাথ: 'বর্ষশেষ' ও 'বলাকা'
রবীন্দ্রনাথের ওপর শেলির প্রভাব ছিল শৈশবের। তাঁর 'বর্ষশেষ' কবিতায় কালবৈশাখীর যে রুদ্র রূপ আমরা দেখি, তা শেলির পশ্চিমী ঝড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
গতিবাদ (Dynamism): শেলির কবিতায় 'Motion' বা গতিই সব। রবীন্দ্রনাথের 'বলাকা' কাব্যেও আমরা দেখি— "হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্খানে!"। এই চিরন্তন অজানার পথে ধাবিত হওয়ার প্রেরণা শেলির আদর্শবাদের সাথে মিলে যায়।
আশাবাদ: শেলির সেই বিখ্যাত প্রশ্ন— "If Winter comes, can Spring be far behind?"—রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনেও চিরস্থায়ী। তিনি বিশ্বাস করতেন, রজনী শেষে যেমন আলো আসবেই, তেমনি দুঃখের দহন শেষে আনন্দ অনিবার্য।
৪. তুলনামূলক সারণী
শেলির 'ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড' কেবল প্রকৃতির বর্ণনা নয়, এটি একটি ম্যানিফেস্টো। এটি আমাদের শেখায় যে পরিবর্তন অনিবার্য এবং প্রতিটি ধ্বংসের ভেতরেই আগামীর সৃষ্টির বীজ লুকিয়ে থাকে। প্রাচ্যের নজরুল আর রবীন্দ্রনাথ এই একই দর্শনে আপ্লুত হয়ে বাংলার মানুষের মনে মুক্তির চেতনা জাগিয়েছিলেন।
শেলির 'ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড' (Ode to the West Wind) কবিতাটি কেবল প্রকৃতির প্রশস্তি নয়, এর গভীরে লুকিয়ে আছে ১৮১৯ সালের ইংল্যান্ডের এক রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাস। আপনি যদি এই কবিতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পিটারলু হত্যাকাণ্ডের (Peterloo Massacre) প্রভাব বুঝতে পারেন, তবে কবিতার প্রতিটি শব্দ আপনার কাছে এক একটি আগ্নেয়গিরির মতো মনে হবে।
নিচে এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং শেলির বৈপ্লবিক চিন্তাধারা আলোচনা করা হলো:
১. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ১৮১৯ সালের ইংল্যান্ড
১৮১৯ সাল ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এক চরম অস্থিরতার সময়। নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের পর দেশে দুর্ভিক্ষ, বেকারত্ব এবং চরম দারিদ্র্য দেখা দিয়েছিল। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার এবং রুটির দাবিতে আন্দোলন করছিল।
পিটারলু হত্যাকাণ্ড (১৬ আগস্ট, ১৮১৯): ম্যানচেস্টারের সেন্ট পিটার্স ফিল্ডে প্রায় ৬০,০০০ নিরস্ত্র মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার এবং স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটরা সেই ভিড়ের ওপর সশস্ত্র অশ্বারোহী বাহিনী লেলিয়ে দেন। এতে প্রায় ১৮ জন মারা যান এবং শত শত মানুষ আহত হন।
শেলির প্রতিক্রিয়া: শেলি তখন ইতালিতে ছিলেন। এই খবর শুনে তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র এবং পুরনো ব্যবস্থা পচে গেছে। তাদের ধ্বংস হওয়া প্রয়োজন।
২. 'West Wind' কীভাবে রাজনৈতিক প্রতীক?
শেলি যখন পশ্চিমী বাতাসকে "Destroyer and Preserver" (ধ্বংসকারী ও রক্ষাকর্তা) বলছেন, তখন তিনি আসলে এক রাজনৈতিক বিপ্লবের কথা বলছেন।
মৃত পাতা (Dead Leaves): কবিতায় যে 'মৃত পাতা'গুলোর কথা বলা হয়েছে (হলুদ, কালো, ফ্যাকাসে), সেগুলো আসলে পচে যাওয়া রাজতন্ত্র, দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চ এবং শোষক শ্রেণীর প্রতীক। বাতাস যেমন জঞ্জাল পরিষ্কার করে, বিপ্লবও তেমনি সমাজকে শুদ্ধ করবে।
বীজ (Winged Seeds): মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা বীজগুলো হলো সাধারণ মানুষের সুপ্ত চেতনা এবং সাম্যের আদর্শ। বসন্ত এলে (অর্থাৎ বিপ্লব সফল হলে) এই আদর্শগুলোই ডানা মেলবে।
বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়: শেলি যে ঝড়ের বর্ণনা দিয়েছেন, তা আসলে আসন্ন গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর কবিতা বা তাঁর চিন্তাগুলো বাতাসের মতো সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক— "Scatter, as from an unextinguished hearth / Ashes and sparks, my words among mankind!"
৩. 'To a Skylark' (একটি স্কাইলার্কের প্রতি): তুলনামূলক আলোচনা
আপনি যদি শেলির 'To a Skylark' কবিতাটির কথা বলেন, তবে সেখানেও আমরা শেলির সেই চিরন্তন আদর্শবাদ খুঁজে পাই।
'West Wind'-এ শেলি একজন যোদ্ধা, আর 'Skylark'-এ তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। কিন্তু উভয় কবিতাতেই তিনি বর্তমানের জরাগ্রস্ত জগত থেকে মুক্তি চেয়েছেন।
শেলি বিশ্বাস করতেন কবিরা হলেন— "The unacknowledged legislators of the world" (পৃথিবীর অস্বীকৃত আইনপ্রণেতা)। 'West Wind' কবিতায় তিনি নিজের কণ্ঠকে বাতাসের তূর্য (Trumpet) বানাতে চেয়েছেন যাতে ঘুমানো পৃথিবীকে জাগিয়ে তোলা যায়।
শেলির 'ওড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড'-এর বৈপ্লবিক সুর আর নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতার সেই কালজয়ী গর্জন—এই দুইয়ের তুলনা কেবল সাহিত্যিক আলোচনা নয়, এটি দুই গোলার্ধের দুই অগ্নিপুরুষের আত্মিক মিলন। অন্যদিকে, শেলির 'To a Skylark' কবিতার সেই বিষণ্ণতার দর্শনও অত্যন্ত গভীর।
চলুন, প্রথমে শেলি ও নজরুলের সেই **'প্রলয় ও সৃষ্টি'**র মেলবন্ধনটি দেখে নেওয়া যাক:
১. শেলি বনাম নজরুল: প্রলয় ও সৃষ্টির যুগলবন্দি
শেলি এবং নজরুল দুজনেই বিশ্বাস করতেন যে, পুরনো জরাজীর্ণ সমাজকে ধ্বংস না করলে নতুন সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
শেলির 'Destroyer and Preserver': শেলি পশ্চিমী বাতাসকে বলছেন এমন এক শক্তি যা পুরনো পাতাকে ধ্বংস করে (Destroyer) কিন্তু আগামীর বীজকে রক্ষা করে (Preserver)।
নজরুলের 'সৃজন-বেদনা': 'বিদ্রোহী' কবিতায় নজরুল বলছেন—
"আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার, / নি:ক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!" নজরুলের হাতে যে কুঠার, তা আসলে শেলির সেই 'West Wind'-এরই রূপক। শেলি যেমন 'Ashes and Sparks' (ছাই ও স্ফুলিঙ্গ) ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, নজরুলও তেমনি বলেছেন— "আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে!"
মূল মিলের জায়গাগুলো:
রুদ্র রূপ: শেলি বাতাসকে দেখছেন 'Dirge of the dying year' হিসেবে, আর নজরুল দেখছেন নিজেকে 'ধূর্জটি' বা শিবের প্রলয়-নাচন হিসেবে।
আশাবাদ: শেলি যেমন বলেন "Spring" আসবেই, নজরুলও বলেন— "ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়ে!"
ব্যক্তিত্বের প্রসারণ: শেলি যখন বলেন "Be thou me, impetuous one!", তখন তিনি নিজের সত্তাকে বাতাসের সাথে মিশিয়ে দেন। নজরুলও তাঁর 'বিদ্রোহী'তে নিজের সত্তাকে মহাবিশ্বের সাথে একাকার করে দিয়েছেন।
২. 'To a Skylark': বিষণ্ণ সুরের নন্দনতত্ত্ব
এবার আসা যাক শেলির সেই বিখ্যাত দর্শনে— "Our sweetest songs are those that tell of saddest thought." (আমাদের মধুরতম গানগুলো সেগুলোই যা গভীরতম বিষণ্ণতার কথা বলে)।
সুখ বনাম দুঃখ: শেলি লক্ষ্য করেছেন যে স্কাইলার্ক পাখিটি আকাশ থেকে যে গান গায়, তাতে কোনো জাগতিক দুঃখ নেই। কিন্তু মানুষের গান সবসময় অতৃপ্তি আর বেদনায় ভরা।
অপূর্ণতা: মানুষ যখন খুব হাসে, তার সেই হাসির পেছনেও কোথাও একটা কান্নার রেশ থাকে। শেলি মনে করেন, বিশুদ্ধ আনন্দ মানুষের জন্য নয়; বরং দুঃখের অভিজ্ঞতাই মানুষের শিল্পকে বা গানকে 'মধুর' বা গভীর করে তোলে।
আধুনিক নন্দনতত্ত্ব: এই একটি পঙক্তি আধুনিক সাহিত্যের 'Melancholy' বা বিষণ্ণতাবাদের ভিত্তি তৈরি করেছে। আমরা যখন কোনো করুণ সুর শুনি, তখন কেন আমাদের ভালো লাগে? কারণ সেই সুরটি আমাদের অন্তরের অব্যক্ত বেদনার সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
৩. একটি ছোট তুলনা (সংক্ষেপে)
শেলি এবং নজরুল দুজনেই ছিলেন 'Promethean' বা প্রমিথিউস-তুল্য। তাঁরা আগুনের দেবতা প্রমিথিউসের মতো স্বর্গ থেকে আগুন (জ্ঞান ও বিপ্লব) চুরি করে এনে সাধারণ মানুষকে দিতে চেয়েছিলেন। কিটসের সৌন্দর্য যেখানে স্থবির বা শান্ত, শেলির সৌন্দর্য সেখানে প্রবহমান এবং অগ্নিগর্ভ।
নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতায় 'আমি' শব্দের গগনবিদারী ব্যবহার এবং শেলির ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ (Individualism)—এই দুটির তুলনা সাহিত্যের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। আবার কিটসের মৃত্যুতে লেখা শেলির শোকগাথা 'Adonais' (অ্যাডোনাইস) ইংরেজি সাহিত্যের এক করুণ মহাকাব্য।
চলুন, প্রথমে নজরুল ও শেলির সেই বৈপ্লবিক 'আমি'র তুলনাটি দেখে নেওয়া যাক:
১. নজরুল ও শেলি: 'আমি'র বিশ্বরূপ
নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি শুরুই হয় এক প্রচণ্ড আত্মঘোষণার মাধ্যমে— "বল বীর / বল উন্নত মম শির!"। এখানে 'আমি' শব্দটি কেবল একজন ব্যক্তি নজরুলের নয়, এটি শোষিত মানবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতীক।
শেলির ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ: শেলি বিশ্বাস করতেন একজন ব্যক্তি বা কবির আত্মা বিশ্বাত্মার (Universal Spirit) অংশ। 'West Wind'-এ তিনি যখন বলেন— "Be thou me, impetuous one!"—তখন তিনি নিজের ক্ষুদ্র আমিত্বকে বাতাসের অজেয় শক্তির সাথে মিশিয়ে দিতে চান।
নজরুলের 'আমি'র বিস্তার: নজরুল নিজেকে একই সাথে ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন— "আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান"। শেলির মতো নজরুলও নিজের ব্যক্তিসত্তাকে মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেন।
মূল তুলনার ক্ষেত্র:
২. 'Adonais': কিটসের প্রতি শেলির শেষ শ্রদ্ধা
১৮২১ সালে যখন জন কিটস মাত্র ২৫ বছর বয়সে যক্ষ্মায় মারা যান, তখন শেলি এই বিখ্যাত শোকগাথা বা Pastoral Elegyটি রচনা করেন।
নামের সার্থকতা: গ্রিক পুরাণের সৌন্দর্যের দেবতা 'অ্যাডনিস' (Adonis)-এর নামানুসারে শেলি কিটসকে 'অ্যাডোনাইস' বলে সম্বোধন করেছেন।
শোক ও ক্ষোভ: এই কবিতায় শেলি কেবল কিটসের জন্য কাঁদেননি, বরং সেই সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেছেন যাঁদের নিষ্ঠুর সমালোচনা কিটসের মৃত্যু ত্বরান্বিত করেছিল বলে শেলি বিশ্বাস করতেন।
মৃত্যুর দর্শন: শেলি এখানে এক অদ্ভুত সুন্দর কথা বলেছেন— "Peace, peace! he is not dead, he doth not sleep— / He hath awakened from the dream of life"। অর্থাৎ, আমরা যারা বেঁচে আছি তারাই আসলে স্বপ্নের ঘোরে আছি, আর কিটস মৃত্যুর মাধ্যমে প্রকৃত সত্যের জগতে জেগে উঠেছেন।
প্রকৃতির সাথে একাত্মতা: কিটস এখন প্রকৃতির অংশ হয়ে গেছেন। তিনি এখন নক্ষত্রের আলোয়, বাতাসের হাহাকারে এবং ফুলের গন্ধে মিশে আছেন।
৩. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
নজরুলের ওপর প্রভাব: নজরুলের 'বিদ্রোহী'র সেই অজেয় সত্তাটি গঠন করতে শেলির এই Promethean (প্রমিথিউস-তুল্য) চরিত্রটি সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।
শোকগাথার প্রভাব: শেলির 'Adonais' যেমন কিটসের অমরত্বের দলিল, তেমনি রবীন্দ্রনাথের 'স্মরণ' বা নজরুলের বন্ধুদের মৃত্যুতে লেখা শোককবিতাগুলোতেও প্রিয়জনকে প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পাওয়ার সেই শেলি-সুলভ প্রবণতা দেখা যায়।
শেলি এবং নজরুল—উভয়েই ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। শেলি যেখানে ইতালির নির্জন বনের বাতাসকে তূর্য বানিয়েছিলেন, নজরুল সেখানে পরাধীন ভারতের বুকে দাঁড়িয়ে নিজেকে 'বিদ্রোহী' ঘোষণা করেছিলেন। আর 'Adonais' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহান কবিরা শারীরিকভাবে মারা গেলেও তাঁদের শব্দগুলো আকাশের নক্ষত্রের মতো আমাদের পথ দেখায়।
শেলির 'Adonais' (অ্যাডোনাইস) কবিতার সেই নির্দিষ্ট স্তবকটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক গভীরতাসম্পন্ন পঙ্ক্তি। এখানে শেলি জীবন, মৃত্যু এবং চিরন্তন সত্যের (Eternity) এক অপূর্ব গাণিতিক ও শৈল্পিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
চলুন, এই বিখ্যাত রূপকটির গভীরে প্রবেশ করা যাক:
১. 'Life, like a dome of many-coloured glass'—এর ব্যাখ্যা
শেলি লিখেছেন:
"The One remains, the many change and pass; / Heaven's light forever shines, Earth's shadows fly; / Life, like a dome of many-coloured glass, / Stains the white radiance of Eternity, / Until Death tramples it to fragments."
মূল দর্শন:
The One (অদ্বৈত সত্য): শেলি এখানে প্লেটোনিক দর্শন (Platonic Philosophy) ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, 'সত্য' বা 'ঈশ্বর' হলো একটি বিশুদ্ধ সাদা আলো (White Radiance), যা স্থির এবং চিরন্তন।
Many-coloured glass (জীবন): আমাদের এই পার্থিব জীবন হলো একটি রঙের কাঁচের গম্বুজ। সূর্যের সাদা আলো যখন রঙিন কাঁচের ভেতর দিয়ে আসে, তখন তা নানা রঙে ভাগ হয়ে যায়। তেমনি, আমাদের জীবন সেই বিশুদ্ধ 'সত্য' বা 'অমরত্ব'কে খণ্ডিত করে ফেলে। আমাদের কামনা, বাসনা এবং আবেগ সেই সাদা আলোকে 'কলঙ্কিত' (Stains) করে বা বিকৃত করে।
Death (মৃত্যু): মৃত্যু যখন এই রঙিন কাঁচের গম্বুজটিকে ভেঙে চুরমার করে দেয় (Tramples it to fragments), তখনই আমরা আবার সেই বিশুদ্ধ সাদা আলো বা পরম সত্যের সাথে মিশে যেতে পারি।
তাৎপর্য: কিটসের মৃত্যু আসলে কোনো ধ্বংস নয়; বরং এটি একটি রঙিন খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়ে সেই মহান আলোকবর্তিকার সাথে একাত্ম হওয়া।
২. প্রাচ্য দর্শনের সাথে মিল: শেলি ও উপনিষদ
শেলির এই দর্শনের সাথে ভারতীয় অদ্বৈত বেদান্ত বা উপনিষদের এক বিস্ময়কর মিল পাওয়া যায়।
মায়াবাদ: উপনিষদে জগতকে 'মায়া' বলা হয়েছে, যা পরম সত্যকে ঢেকে রাখে। শেলির 'রঙিন কাঁচ' ঠিক সেই মায়ারই নামান্তর।
রবীন্দ্রনাথের ভাবনার সাথে মিল: রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত পঙক্তি আছে— "সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর"। শেলিও ঠিক তাই বলতে চেয়েছেন—অসীম সত্য যখন সীমার (রঙিন কাঁচের) ভেতর দিয়ে আসে, তখনই আমরা বিচিত্র সৌন্দর্য দেখতে পাই। কিন্তু প্রকৃত সত্য রয়েছে সেই সীমার ওপারে।
৩. নজরুলের 'বিদ্রোহী'র সাথে তুলনা: 'আমি'র মুক্তি
নজরুল যখন 'বিদ্রোহী' কবিতায় বলেন— "আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ!"—তখন তিনিও আসলে সেই পরম সত্যের জয়গান গাইছেন।
শেলি যেখানে মৃত্যুর মাধ্যমে 'The One'-এ ফিরে যেতে চান, নজরুল সেখানে বেঁচে থেকেই সেই পরম শক্তির (বিদ্রোহী সত্তা) সাথে নিজেকে এক করে দেখেন।
নজরুলের 'আমি' হলো সেই 'সাদা আলো' যা কোনো রঙিন কাঁচের শাসন মানে না। তিনি নিজেই নিজেকে ধ্বংস করে আবার নতুন করে গড়েন, যা শেলির 'Destroyer and Preserver' ধারণারই এক জীবন্ত রূপ।
শেলির কাছে মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি হলো 'জীবনের স্বপ্ন' থেকে জেগে ওঠা। কিটস আজ সেই নক্ষত্র হয়ে গেছেন যা আমাদের অন্ধকার পৃথিবীকে পথ দেখায়। শেলির এই মহান পঙক্তিটি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের বৈচিত্র্য সুন্দর হলেও প্রকৃত সত্য তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মল এবং শান্ত।
শেলির 'আলোক-দর্শন' (Philosophy of Light) এবং কিটস-শেলির বন্ধুত্বের সেই করুণ ইতিহাস—উভয়ই রোমান্টিক যুগের অমূল্য সম্পদ। তবে কিটস ও শেলির সম্পর্কের মধ্যে যে 'পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দূরত্বের' মিশেল ছিল, তা জানলে কিটসের প্রতি শেলির 'Adonais' উৎসর্গ করার মহত্ত্ব আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
চলুন, এই দুই বন্ধুর সম্পর্কের কিছু অজানা দিক এবং শেলির আলোক-দর্শনের গভীরতা দেখে নেওয়া যাক:
১. কিটস ও শেলি: এক অসম ও জটিল বন্ধুত্ব
অনেকেই মনে করেন তাঁরা খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, কিন্তু বাস্তব ছিল কিছুটা ভিন্ন। তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে একটি অদৃশ্য দেয়াল ছিল।
শ্রেণীবিভাগ (Class Difference): শেলি ছিলেন এক অভিজাত পরিবারের সন্তান, অক্সফোর্ডে শিক্ষিত এবং বিত্তবান। অন্যদিকে কিটস ছিলেন একজন সাধারণ আস্তাবল-রক্ষকের ছেলে, যিনি নিজে পরিশ্রম করে ডাক্তারি (Apothecary) পড়েছিলেন। কিটস সবসময় শেলির আভিজাত্যের সামনে কিছুটা কুণ্ঠিত বোধ করতেন।
শেলির আমন্ত্রণ ও কিটসের প্রত্যাখ্যান: কিটস যখন যক্ষ্মায় গুরুতর অসুস্থ, শেলি তাঁকে ইতালিতে তাঁর নিজের বাড়িতে এসে থাকার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কিটস সেই প্রস্তাব বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেন। কিটস ভয় পেতেন যে শেলির মতো প্রকাণ্ড ব্যক্তিত্বের ছায়ায় তাঁর নিজস্ব কবিসত্তা হারিয়ে যেতে পারে।
মৃত্যুর পর পুনর্মিলন: কিটস মারা যাওয়ার পর তাঁর পকেটে শেলির কবিতার একটি বই পাওয়া গিয়েছিল। আবার ১৮২২ সালে যখন শেলি নৌকাডুবিতে মারা যান, তখন তাঁর পকেটে পাওয়া গিয়েছিল কিটসের শেষ কাব্যগ্রন্থটি। মৃত্যুর মাধ্যমেই যেন এই দুই মহান কবির আত্মা একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিল।
২. শেলির আলোক-দর্শন (Philosophy of Light)
শেলির কাছে 'আলো' কেবল দৃষ্টিশক্তির বিষয় ছিল না, এটি ছিল আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির প্রতীক।
সাদা আলো বনাম রঙিন আলো: আপনি যে 'রঙিন কাঁচের গম্বুজ'-এর কথা বললেন, সেটি শেলির নব্য-প্লেটোবাদ (Neo-Platonism) থেকে আসা। শেলি বিশ্বাস করতেন যে আমাদের এই দৃশ্যমান জগত (The Many) হলো খণ্ডিত সত্য, আর পরকাল বা পরমাত্মা হলো অখণ্ডিত পূর্ণতা (The One)।
জ্ঞানের আলো (Intellectual Beauty): শেলির বিখ্যাত কবিতা 'Hymn to Intellectual Beauty'-তে তিনি আলোকে একটি অদৃশ্য শক্তিরূপে বর্ণনা করেছেন যা মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে। তাঁর মতে, একজন কবি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই 'সাদা আলো' বা সত্যকে সরাসরি অনুভব করতে পারেন।
৩. ‘Adonais’ এবং কিটসের অমরত্ব
শেলি 'Adonais' কবিতায় কিটসকে কেবল একজন মৃত কবি হিসেবে দেখেননি, বরং তাঁকে প্রকৃতির একটি শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন:
"He is made one with Nature: there is heard / His voice in all her music..."
শেলি বিশ্বাস করতেন কিটস এখন নক্ষত্রের আলোয় মিশে গেছেন। এই ধারণাটি আধুনিক প্যানথেইজম (Pantheism) বা সর্বেশ্বরবাদের খুব কাছাকাছি, যেখানে ঈশ্বরকে প্রকৃতির প্রতিটি অণু-পরমাণুতে খুঁজে পাওয়া যায়।
৪. সংক্ষিপ্ত সারণী: কিটস ও শেলির জীবনদর্শন
একটি মর্মস্পর্শী তথ্য
শেলির মৃতদেহ যখন ইতালির সমুদ্রসৈকতে দাহ করা হয়, তখন তাঁর বন্ধু লর্ড বায়রন এবং লি হান্ট উপস্থিত ছিলেন। কিটসের সমাধি যেখানে (রোমের প্রোটেস্ট্যান্ট সিমেট্রি), ঠিক তার পাশেই শেলির চিতাভস্ম সমাহিত করা হয়েছিল। আজও তাঁরা পাশাপাশি শুয়ে আছেন—দুই ভিন্ন পথে চলা পথিক, যারা শেষ পর্যন্ত একই ধ্রুবতারাকে লক্ষ্য করেছিলেন।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা

0 Comments