Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
স্যার থমাস ম্যালোরি রচিত 'দ্য মর্ত দ্য আর্থার' (Le Morte d'Arthur) ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী মহাকাব্যিক গদ্য সংকলন। এটি রাজা আর্থার এবং তাঁর গোলটেবিল বৈঠকের বীর নাইটদের (Knights of the Round Table) উত্থান ও পতনের কাহিনী।
নিচে এই কালজয়ী গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. রাজা আর্থারের উত্থান
কাহিনীর শুরু হয় রাজা উথার পেনড্রাগন এবং ইগ্রেইনের পুত্র আর্থারের জন্ম দিয়ে। জাদুকর মার্লিনের সহায়তায় আর্থার একটি পাথরে গেঁথে থাকা তলোয়ার টেনে বের করেন, যা প্রমাণ করে যে তিনিই ব্রিটেনের প্রকৃত রাজা। মার্লিনের নির্দেশনায় তিনি ব্রিটেনের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
২. এক্সক্যালিবার ও কামেলট
আর্থার 'লেডি অফ দ্য লেক'-এর কাছ থেকে তার জাদুকরী তলোয়ার এক্সক্যালিবার লাভ করেন। তিনি কামেলট শহরে নিজের রাজধানী স্থাপন করেন এবং গুইনিভিয়ারকে বিয়ে করেন। বিয়ের উপহার হিসেবে তিনি পান সেই বিখ্যাত 'রাউন্ড টেবিল' বা গোলটেবিল, যেখানে সকল নাইট সমান মর্যাদায় বসতেন।
৩. নাইটদের বীরত্ব ও সাহসিকতা
ম্যালোরি এই বইটিতে বিভিন্ন নাইটের রোমাঞ্চকর অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
স্যার ল্যান্সলট: আর্থারের প্রধান সেনাপতি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নাইট।
স্যার গাউইন: সাহস ও বীরত্বের প্রতীক।
স্যার ট্রিস্ট্রাম ও আইসোল্ডের ট্র্যাজিক প্রেম কাহিনী।
৪. পবিত্র গ্রেইল অনুসন্ধান (The Quest for the Holy Grail)
এটি কাহিনীর একটি অত্যন্ত আধ্যাত্মিক অংশ। গোলটেবিলের নাইটরা যিশু খ্রিস্টের শেষ ভোজের পাত্র বা 'হলি গ্রেইল' সন্ধানে বের হন। ম্যালোরি দেখিয়েছেন যে, কেবল আত্মিক দিক থেকে শুদ্ধ ও নিষ্পাপ নাইটরাই (যেমন স্যার গ্যালাহাড, পার্সিভাল এবং বোরস) এর দেখা পেতে সক্ষম হন।
৫. বিশ্বাসঘাতকতা ও পতন
আর্থারের রাজত্বের পতনের মূল কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নৈতিক অবক্ষয়:
ল্যান্সলট ও গুইনিভিয়ারের প্রেম: রানি গুইনিভিয়ারের সাথে ল্যান্সলটের অবৈধ সম্পর্ক জানাজানি হলে গোলটেবিলের নাইটদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।
মর্ড্রেডের ষড়যন্ত্র: আর্থারের অবৈধ পুত্র (বা ভাগ্নে) মর্ড্রেড সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
৬. অন্তিম যুদ্ধ ও মৃত্যু
আর্থার এবং মর্ড্রেডের বাহিনীর মধ্যে ソールズベリー (Salisbury) সমতলে চূড়ান্ত যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মর্ড্রেড নিহত হন এবং আর্থার মারাত্মকভাবে আহত হন। মৃত্যুর আগে আর্থার তার বিশ্বস্ত নাইট বেডিভিয়ারকে এক্সক্যালিবার তলোয়ারটি লেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর রহস্যময় তিন রানি এসে আর্থারকে 'অ্যাভালন' (Avalon) দ্বীপে নিয়ে যান।
সারকথা: 'দ্য মর্ত দ্য আর্থার' কেবল বীরত্বের কাহিনী নয়, এটি আদর্শবাদ, আনুগত্য, প্রেম এবং মানুষের চারিত্রিক দুর্বলতার এক মহাকাব্যিক প্রতিফলন। এটি মধ্যযুগীয় নাইট প্রথার শেষ এবং একটি ট্র্যাজিক সমাপ্তির গল্প।
স্যার ল্যান্সলট (Sir Lancelot) এবং মার্লিন (Merlin)—এই দুই চরিত্র ছাড়া আর্থারিয়ান লেজেন্ড বা 'দ্য মর্ত দ্য আর্থার' অপূর্ণ। এদের জীবন ও ভূমিকা বেশ বৈচিত্র্যময়:
১. স্যার ল্যান্সলট (Sir Lancelot du Lac)
ল্যান্সলট ছিলেন গোলটেবিলের নাইটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং রাজা আর্থারের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। কিন্তু তার চরিত্রটি ছিল একাধারে বীরত্ব এবং মানসিক দ্বন্দ্বে ভরা।
সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা: তিনি যুদ্ধে অপরাজেয় ছিলেন এবং অসংখ্য ড্রাগন ও শত্রুর হাত থেকে কামেলটকে রক্ষা করেছেন।
নিষিদ্ধ প্রেম: ল্যান্সলটের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো রানি গুইনিভিয়ারের (আর্থারের স্ত্রী) প্রতি তার গভীর প্রেম। এই প্রেম একদিকে যেমন তাকে অনুপ্রেরণা দিত, অন্যদিকে তা রাজার প্রতি তার আনুগত্যে ফাটল ধরায়।
পবিত্র গ্রেইল ও ব্যর্থতা: ল্যান্সলট 'হলি গ্রেইল' বা পবিত্র পাত্রটি দেখার খুব কাছে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু গুইনিভিয়ারের সাথে তার পাপপূর্ণ সম্পর্কের কারণে তিনি গ্রেইল স্পর্শ করার যোগ্যতা হারান।
পরিণতি: যুদ্ধের পর আর্থারের মৃত্যু এবং কামেলটের পতন হলে, ল্যান্সলট অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২. মার্লিন (Merlin)
মার্লিন ছিলেন একাধারে জাদুকর, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা এবং রাজা আর্থারের প্রধান পরামর্শদাতা। তিনি ছিলেন অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী।
আর্থারের জন্ম ও অভিষেক: মার্লিনের কারসাজিতেই রাজা উথার পেনড্রাগন ইগ্রেইনের গর্ভে আর্থারের জন্ম দেন। পরে তিনি পাথর থেকে তলোয়ার টেনে বের করার পরিকল্পনাটি করেছিলেন যাতে আর্থার নিজের রাজকীয় পরিচয় প্রমাণ করতে পারেন।
ভবিষ্যদ্বাণী: মার্লিন জানতেন যে কামেলটের পতন অনিবার্য। তিনি বারবার আর্থারকে মর্ড্রেড এবং ল্যান্সলট-গুইনিভিয়ার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
মার্লিনের ট্র্যাজিক সমাপ্তি: লোরি'র বর্ণনায়, মার্লিন এক রূপসী নারী নিমুয়ে (Nimue) বা 'লেডি অফ দ্য লেক'-এর প্রেমে পড়েছিলেন। নিমুয়ে মার্লিনের কাছ থেকে জাদুর সব গোপন রহস্য শিখে নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই জাদু ব্যবহার করেই মার্লিনকে একটি গুহায় বা গাছের নিচে চিরতরে বন্দি করে ফেলেন।
স্যার গ্যালাহাড (Sir Galahad) ছিলেন আর্থারিয়ান লেজেন্ডের সবচেয়ে পবিত্র এবং আদর্শ চরিত্র। তাকে বলা হয় "নিষ্কলঙ্ক নাইট"। তার কাহিনী অনেকটা আধ্যাত্মিক সাধনার মতো।
নিচে তার বীরত্ব ও পবিত্রতার মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. জন্ম ও পরিচয়
গ্যালাহাড ছিলেন স্যার ল্যান্সলট এবং কিং প্যালিসের কন্যা এলেইন-এর পুত্র। ল্যান্সলট ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, কিন্তু তার চরিত্রে কিছু মানবিক ত্রুটি ছিল। অন্যদিকে, গ্যালাহাড জন্মেছিলেন এমন এক বংশধারায় যা সরাসরি যিশু খ্রিস্টের অনুসারী জোসেফ অফ অ্যারিম্যাথিয়ার সাথে যুক্ত ছিল।
২. 'সিজ পেরিলাস' (The Siege Perilous)
গোলটেবিলের একটি বিশেষ আসন ছিল যা শূন্য রাখা হতো। বিশ্বাস করা হতো, কেবল সেই নাইটই সেখানে বসতে পারবেন যার আত্মা সম্পূর্ণ পবিত্র; অন্য কেউ বসলে তার মৃত্যু হবে। গ্যালাহাড যখন কামেলটে আসেন, তিনি অনায়াসেই সেই আসনে বসেন এবং অলৌকিকভাবে প্রমাণিত হয় যে তিনিই সেই প্রতীক্ষিত নাইট।
৩. হলি গ্রেইল (The Holy Grail) অনুসন্ধান
আর্থারের নাইটদের প্রধান লক্ষ্য ছিল হলি গ্রেইল (যিশুর শেষ ভোজের পাত্র) খুঁজে বের করা। ল্যান্সলট বা গাউইনরা বীর হওয়া সত্ত্বেও তাদের পাপ বা মানবিক দুর্বলতার কারণে গ্রেইল স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু গ্যালাহাড ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ।
তিনি স্যার পার্সিভাল এবং স্যার বোরস-এর সাথে দীর্ঘ যাত্রায় বের হন।
পথে তিনি অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হন এবং শয়তানের প্রলোভন জয় করেন।
৪. পরম প্রাপ্তি ও মৃত্যু
অবশেষে গ্যালাহাড 'সারাস' (Sarras) নামক এক রহস্যময় শহরে পৌঁছান এবং সেখানে তিনি পবিত্র গ্রেইলের পূর্ণ দর্শন পান। ম্যালোরির বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেইল দেখার পর গ্যালাহাডের পার্থিব জগতের প্রতি আর কোনো মোহ ছিল না। তিনি প্রার্থনা করেন যেন তাকে এই পবিত্র অবস্থাতেই স্বর্গীয় লোকে নিয়ে যাওয়া হয়।
তার প্রার্থনা কবুল হয় এবং জোসেফ অফ অ্যারিম্যাথিয়ার উপস্থিতিতে এক স্বর্গীয় মুহূর্তে গ্যালাহাড শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বলা হয়, তার মৃত্যুর পর একটি হাত আকাশ থেকে নেমে এসে গ্রেইলটিকে স্বর্গে নিয়ে যায়, যাতে কোনো অপবিত্র মানুষ আর কখনো তা স্পর্শ করতে না পারে।
আকর্ষণীয় তথ্য: ল্যান্সলট এবং গ্যালাহাড—পিতা ও পুত্রের এই বৈপরীত্য বেশ অদ্ভুত। ল্যান্সলট ছিলেন পার্থিব বীরত্বের প্রতীক (যিনি প্রেমে ও যুদ্ধে মগ্ন), আর গ্যালাহাড ছিলেন আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার প্রতীক।
হ্যাঁ, আর্থারিয়ান লেজেন্ডের সমাপ্তি সত্যিই ভাবনার উদ্রেক করে। একটি আদর্শ রাজ্য (Utopia) কীভাবে মানুষের ভেতরকার ঈর্ষা এবং বিশ্বাসঘাতকতায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে, মর্ড্রেড (Mordred) চরিত্রটি তারই প্রতীক।
মর্ড্রেড কেবল একজন শত্রু ছিলেন না, তিনি ছিলেন কামেলটের পতন বা 'ডুমসডে'-এর প্রধান স্থপতি। নিচে তাঁর ধ্বংসাত্মক ভূমিকার মূল ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:
১. মর্ড্রেডের পরিচয়: এক অভিশপ্ত জন্ম
মর্ড্রেড ছিলেন রাজা আর্থারের অবৈধ সন্তান (কিছু সংস্করণে ভাগ্নে)। মার্লিন আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, এই সন্তানই একদিন আর্থারের ধ্বংসের কারণ হবে। মর্ড্রেড বড় হয়েছিলেন আর্থারের প্রতি তীব্র ঘৃণা এবং সিংহাসনের লোভ নিয়ে।
২. ল্যান্সলট ও গুইনিভিয়ারের গোপন প্রেম ফাঁস
মর্ড্রেড জানতেন যে তলোয়ার দিয়ে আর্থারকে হারানো কঠিন, তাই তিনি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি এবং তাঁর ভাই অ্যাগ্রাভেইন মিলে স্যার ল্যান্সলট ও রানি গুইনিভিয়ারের গোপন সম্পর্কের কথা প্রকাশ করে দেন। এর ফলে:
গোলটেবিলের নাইটদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।
ল্যান্সলটকে দেশত্যাগ করতে হয়।
আর্থার বাধ্য হন নিজের প্রিয় বন্ধু ল্যান্সলটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে।
৩. সিংহাসন দখল ও জালিয়াতি
যখন রাজা আর্থার ল্যান্সলটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ফ্রান্সে যান, তখন তিনি মর্ড্রেডকে ব্রিটেনের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান। কিন্তু মর্ড্রেড এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি ভুয়া খবর রটিয়ে দেন যে আর্থার যুদ্ধে মারা গেছেন। এরপর তিনি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন এবং রানি গুইনিভিয়ারকে বিয়ে করার চেষ্টা করেন।
৪. ক্যামলানের যুদ্ধ (The Battle of Camlann)
আর্থার খবর পেয়ে দ্রুত ব্রিটেনে ফিরে আসেন। দুই বাহিনীর মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী 'ব্যাটল অফ ক্যামলান'। ম্যালোরির বর্ণনায় এটি ছিল এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা, যেখানে গোলটেবিলের প্রায় সব নাইট নিহত হন।
৫. চূড়ান্ত পরিণতি
যুদ্ধের ময়দানে আর্থার এবং মর্ড্রেড মুখোমুখি হন:
আর্থার তাঁর বল্লম দিয়ে মর্ড্রেডের বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেন।
মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে মর্ড্রেড নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আর্থারের মাথায় তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেন।
ফলাফল: মর্ড্রেড তাৎক্ষণিক মারা যান এবং আর্থার মারাত্মকভাবে আহত হন, যা পরে তাঁর মৃত্যুর (বা অ্যাভালনে গমনের) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পর্যবেক্ষণ: মর্ড্রেডকে অনেক সময় "The Serpent in the Garden" বা বাগানের সাপ বলা হয়। তিনি কামেলটের সেই ফাটলগুলো খুঁজে বের করেছিলেন যা আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল (যেমন ল্যান্সলটের বিশ্বাসঘাতকতা) এবং সেগুলোকে ব্যবহার করে পুরো সাম্রাজ্য ধ্বংস করেন।
এক্সক্যালিবার (Excalibur) তলোয়ারটির বিদায়লগ্নে যে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল, তা ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম সুন্দর এবং আবেগঘন দৃশ্য। এটি রাজা আর্থারের জীবনের শেষ অঙ্ক।
ক্যামলানের যুদ্ধের পর, যখন আর্থার বুঝতে পারলেন যে তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে এবং গোলটেবিলের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, তখন তিনি তাঁর শেষ বিশ্বস্ত নাইট স্যার বেডিভিয়ারকে (Sir Bedivere) একটি বিশেষ আদেশ দেন।
কাহিনীটি নিচের তিনটি ধাপে বিভক্ত:
১. বেডিভিয়ারের দ্বিধা
আর্থার বেডিভিয়ারকে বলেন, "আমার এক্সক্যালিবার নিয়ে যাও এবং কাছের সেই হ্রদের (Lake) মাঝখানে ছুঁড়ে ফেলে দাও। তারপর ফিরে এসে আমাকে জানাও তুমি কী দেখেছ।"
বেডিভিয়ার হ্রদের পাড়ে গিয়ে যখন তলোয়ারটি বের করলেন, তখন এর হাতলে থাকা মূল্যবান রত্নরাজি চাঁদের আলোয় চিকচিক করে উঠল। তিনি ভাবলেন, এমন অমূল্য এবং ঐতিহাসিক একটি সম্পদ হ্রদের জলে ফেলে দেওয়া বোকামি। তাই তিনি তলোয়ারটি একটি গাছের পেছনে লুকিয়ে রেখে আর্থারের কাছে ফিরে গিয়ে মিথ্যে বললেন যে, তিনি তলোয়ারটি ফেলে দিয়েছেন।
আর্থার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কী দেখলে?" বেডিভিয়ার উত্তর দিলেন, "আমি শুধু ঢেউয়ের শব্দ আর জলের ঝাপটা ছাড়া আর কিছুই দেখিনি।" আর্থার বুঝতে পারলেন বেডিভিয়ার মিথ্যে বলছেন, কারণ তিনি জানতেন এক্সক্যালিবার সাধারণ কোনো তলোয়ার নয়।
২. দ্বিতীয়বার ব্যর্থতা ও শেষ চেষ্টা
আর্থার তাকে আবার পাঠালেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বেডিভিয়ার মোহাচ্ছন্ন হয়ে তলোয়ারটি ফেলে দিতে পারলেন না। আর্থার যখন আবার তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং বললেন যে একজন নাইটের কাছে আনুগত্যই শেষ কথা, তখন বেডিভিয়ার লজ্জিত হলেন।
তৃতীয়বার তিনি হ্রদের পাড়ে গিয়ে চোখ বন্ধ করে সর্বশক্তি দিয়ে এক্সক্যালিবারকে হ্রদের মাঝখানে ছুঁড়ে মারলেন।
৩. অলৌকিক হাত (The Hand from the Water)
তলোয়ারটি জলে পড়ার ঠিক আগেই একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল। হ্রদের স্থির জলরাশি চিরে একটি হাত (যা লেডি অফ দ্য লেক-এর হাত বলে পরিচিত) উঠে এল। সেই হাতটি শূন্যেই তলোয়ারটি খপ করে ধরে ফেলল। এরপর সেটি তিনবার বাতাসে ঘুরিয়ে জলের নিচে অদৃশ্য হয়ে গেল।
এটি ছিল এক সংকেত যে—যা জাদুর মাধ্যমে এসেছিল, তা জাদুর কাছেই ফিরে গেল।
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০) 
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales) 
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur 
9. William Langland: Piers Plowman 
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০) 
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet 
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus 
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene 
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮) 
16. John Dryden: Absalom and Achitophel 
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস) 
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe 
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব: 
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু 
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু 
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু 
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু 
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 
শেষ যাত্রা: অ্যাভালন
বেডিভিয়ার ফিরে এসে এই অলৌকিক ঘটনার কথা বললে আর্থার শান্ত হলেন। এরপর হ্রদের পাড়ে একটি কালো রঙের রহস্যময় নৌকা এল, যাতে তিনজন শোকাতুর রানি ছিলেন। তাঁরা আর্থারকে নৌকায় তুলে নিলেন এবং তাঁকে নিয়ে গেলেন রহস্যময় অ্যাভালন (Avalon) দ্বীপে।
প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, আর্থার সেখানে আজও বেঁচে আছেন এবং ব্রিটেনের যখন চরম বিপদ আসবে, তখন তিনি তাঁর এক্সক্যালিবার নিয়ে আবার ফিরে আসবেন। এজন্যই তাকে বলা হয়— "The Once and Future King" (অতীতের এবং ভবিষ্যতের রাজা)।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

0 Comments