মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)

 



  মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)

ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে মিডল ইংলিশ পিরিয়ড (Middle English Period) বা মধ্যযুগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১০৬৬ সালে নরম্যান বিজয়ের (Norman Conquest) মাধ্যমে এই যুগের সূচনা হয় এবং ১৫০০ সালের দিকে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের আগমনের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।

এই সময়ের মূল বৈশিষ্ট্য এবং উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:


১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১০৬৬ সালে উইলিয়াম দ্য কনকারার (William the Conqueror) ইংল্যান্ড জয় করেন। এর ফলে ইংরেজিতে ফরাসি ও ল্যাটিন ভাষার ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

  • আভিজাত্যের ভাষা: ফরাসি (French)

  • ধর্ম ও শিক্ষার ভাষা: ল্যাটিন (Latin)

  • সাধারণ মানুষের ভাষা: ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন।

এই তিন ভাষার সংমিশ্রণে ধীরে ধীরে মিডল ইংলিশ গড়ে ওঠে।

২. প্রধান উপ-বিভাগ

এই সময়কালকে সাধারণত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

  • Before Chaucer (১০৬৬–১৩৪০): এই সময়ে বেশিরভাগ সাহিত্য ছিল বেনামী এবং ধর্মীয় উপদেশমূলক।

  • The Age of Chaucer (১৩৪০–১৪০০): জেফ্রি চসার ছিলেন এই যুগের প্রাণপুরুষ। তাকে "ইংরেজি কবিতার জনক" বলা হয়।

৩. সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • Romance: বীরত্বগাথা ও প্রেমের কাহিনী (যেমন: কিং আর্থারের গল্প)।

  • Allegory: রূপক ধর্মী লেখা, যেখানে চরিত্রের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হতো।

  • Religious Themes: গির্জার প্রভাব থাকায় ধর্মীয় বিষয়বস্তু প্রাধান্য পেত।

  • Chivalry: নাইটদের বীরত্ব ও নৈতিকতার আদর্শ।

৪. উল্লেখযোগ্য লেখক ও কর্ম

লেখক

উল্লেখযোগ্য কর্ম

Geoffrey Chaucer

The Canterbury Tales

John Gower

Confessio Amantis

William Langland

Piers Plowman

Sir Thomas Malory

Le Morte d'Arthur

Wycliffe

The Bible (ইংরেজি অনুবাদ)


৫. ভাষাগত পরিবর্তন

এই যুগে ইংরেজি ভাষা অনেকটা সহজ হতে শুরু করে। ওল্ড ইংলিশের জটিল গ্রামার বাদ গিয়ে আধুনিক ইংরেজির কাঠামো তৈরি হতে থাকে। এই রূপান্তরের পেছনে চসারের লেখনী এবং ১৫শ শতাব্দীর শেষের দিকে উইলিয়াম ক্যাক্সটনের (William Caxton) মুদ্রণ যন্ত্রের (Printing Press) আবিষ্কার বড় ভূমিকা পালন করে।


মনে রাখার মতো তথ্য: ১৩৪৮ সালের "ব্ল্যাক ডেথ" (প্লেগ মহামারী) এবং ১৩৮১ সালের কৃষক বিদ্রোহ সামাজিক ও সাহিত্যিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এনেছিল।

মিডল ইংলিশ পিরিয়ডের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র জেফ্রি চসার (Geoffrey Chaucer) এবং তার অমর সৃষ্টি 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।


জেফ্রি চসার (Geoffrey Chaucer: ১৩৪০–১৪০০)

চসারকে বলা হয় "Father of English Literature" (ইংরেজি সাহিত্যের জনক)। তার আগে ইংরেজি কেবল সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ছিল, কিন্তু চসারই প্রথম দেখান যে এই ভাষায় উঁচু মানের সাহিত্য রচনা সম্ভব।

দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস (The Canterbury Tales)

এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংকলন। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • গল্পের কাঠামো (Framing Device): একদল তীর্থযাত্রী (২৯ জন যাত্রী এবং লেখক নিজে) লন্ডন থেকে ক্যান্টারবেরি ক্যাথেড্রালে অবস্থিত সেন্ট টমাস বেকেটের সমাধিতে যাচ্ছিলেন। পথে সময় কাটানোর জন্য তারা প্রত্যেকে দুটি করে গল্প বলার সিদ্ধান্ত নেন।

  • চরিত্রায়ন: এই কাব্যের মাধ্যমে চসার তৎকালীন মধ্যযুগীয় সমাজের একটি জীবন্ত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। এখানে নাইট, নান, সন্ন্যাসী, রাঁধুনি, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার উপস্থিতি আছে।

  • লন্ডন উপভাষা (London Dialect): চসার লন্ডন উপভাষায় লিখতেন, যা পরবর্তীকালে আধুনিক ইংরেজি ভাষার ভিত্তি তৈরি করে।


অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও তাদের প্রভাব

চসার ছাড়াও এই যুগে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন যারা ইংরেজি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন:

১. উইলিয়াম ল্যাংল্যান্ড (William Langland)

তার শ্রেষ্ঠ কাজ হলো 'Piers Plowman'। এটি একটি রূপকধর্মী (Allegorical) কবিতা। এতে মধ্যযুগের দুর্নীতিগ্রস্ত ধর্মীয় ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

২. জন উইক্লিফ (John Wycliffe)

তাকে বলা হয় "The Morning Star of the Reformation"। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ল্যাটিন থেকে বাইবেলকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার উদ্যোগ নেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রথমবার নিজের ভাষায় ধর্মগ্রন্থ পড়ার সুযোগ পায়।

৩. স্যার থমাস ম্যালরি (Sir Thomas Malory)

তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'Le Morte d'Arthur'। এটি কিং আর্থারের কিংবদন্তি এবং বীরত্বগাথা নিয়ে রচিত। ইংরেজি গদ্য সাহিত্যের (Prose) বিকাশে এই বইটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।


কেন এই যুগটি গুরুত্বপূর্ণ?

১. ভাষার বিবর্তন: ওল্ড ইংলিশের কর্কশ সুর থেকে বেরিয়ে ইংরেজি ভাষা একটি মার্জিত ও সংগীতময় রূপ পায়। ২. মানবিকতা: ধর্মীয় কাঠামোর বাইরে মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ, হাসি-কান্না এবং ভুল-ত্রুটিগুলো সাহিত্যে স্থান পেতে শুরু করে। ৩. মুদ্রণ যন্ত্রের প্রভাব: ১৪৭৬ সালে উইলিয়াম ক্যাক্সটন মুদ্রণ যন্ত্র প্রবর্তন করায় বই মানুষের কাছে সহজলভ্য হতে শুরু করে।

'The Canterbury Tales' এর চরিত্রগুলো ঠিক যেন একটা জীবন্ত জাদুঘর, যেখানে মধ্যযুগীয় সমাজের প্রতিটি স্তরকে চসার খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আসুন, এই মহাকাব্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিপরীতধর্মী দুটি চরিত্র— The Knight (নাইট) এবং The Wife of Bath (ওয়াইফ অফ বাথ) সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নিই:


১. দ্য নাইট (The Knight) – আভিজাত্য ও আদর্শের প্রতীক

চসার তার বইয়ে প্রথম যে চরিত্রটির বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি হলেন এই নাইট। তিনি মধ্যযুগের 'Chivalry' বা বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ।

  • চরিত্র: তিনি একজন অত্যন্ত বিনয়ী, সাহসী এবং ধার্মিক ব্যক্তি। অনেক যুদ্ধ জয় করলেও তিনি কখনো অহংকার করতেন না।

  • পোশাক: তার পোশাক ছিল সাধারণ এবং যুদ্ধের চিহ্নে দাগযুক্ত (stained fustian tunic), যা প্রমাণ করে তিনি প্রদর্শনীতে নয়, বরং কর্তব্য পালনে বিশ্বাসী ছিলেন।

  • তাৎপর্য: তিনি সামন্ততান্ত্রিক সমাজের (Feudal System) সবচেয়ে উঁচু এবং সম্মানিত স্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।

২. দ্য ওয়াইফ অফ বাথ (The Wife of Bath) – বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার প্রতীক

চসারের তৈরি সবচেয়ে স্মরণীয় এবং বিতর্কিত চরিত্র হলো 'অ্যালিসন', যাকে আমরা ওয়াইফ অফ বাথ নামে চিনি। তিনি তৎকালীন নারী চরিত্রের চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন।

  • ব্যক্তিত্ব: তিনি ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, স্পষ্টভাষী এবং কিছুটা জেদি। তিনি একজন দক্ষ কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

  • অভিজ্ঞতা: তিনি মোট ৫ বার বিয়ে করেছিলেন! তার মতে, ধর্মীয় তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা (Experience) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

  • দর্শন: তার মূল দাবি ছিল— দাম্পত্য জীবনে নারীদের হাতেই কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা থাকা উচিত (Sovereignty)।

  • তাৎপর্য: তাকে মধ্যযুগীয় সাহিত্যের অন্যতম প্রথম 'নারীবাদী' বা স্বাধীনচেতা নারী চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।


৩. মধ্যযুগের ব্যাল্যাড (Ballads) বা লোকগাঁথা

যদি আপনি বীরত্বের গল্প পছন্দ করেন, তবে এই সময়ের 'Ballads' আপনার ভালো লাগবে। এগুলো ছিল মূলত সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরা গান বা কবিতা।

  • রবিন হুড (Robin Hood): মধ্যযুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাল্যাড ছিল রবিন হুডকে নিয়ে। ধনীদর লুণ্ঠন করে গরিবদের সাহায্য করার এই কাহিনীগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপ্লবের রসদ জোগাত।

  • বৈশিষ্ট্য: এই কবিতাগুলোতে খুব সহজ ভাষা এবং পুনরাবৃত্তি (Refrain) ব্যবহার করা হতো যাতে সবাই সহজে মুখস্থ রাখতে পারে।


একটি মজার তথ্য: চসার পরিকল্পনা করেছিলেন যে প্রত্যেক তীর্থযাত্রী ৪টি করে গল্প বলবেন (যাওয়ার সময় ২টো, আসার সময় ২টো), অর্থাৎ মোট ১২০টি গল্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি জীবদ্দশায় মাত্র ২৪টি গল্প শেষ করতে পেরেছিলেন।

মধ্যযুগে যখন সাধারণ মানুষের কাছে বই পড়ার সুযোগ ছিল না, তখন এই ব্যাল্যাড বা লোকগাঁথাগুলোই ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম।


১. রবিন হুড: গণমানুষের নায়ক

রবিন হুড কোনো একক ব্যক্তি ছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মধ্যযুগের সাহিত্যে তিনি এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী চরিত্র। তার গল্পের মূল ভিত্তি ছিল 'Social Justice' বা সামাজিক ন্যায়বিচার।

  • শর্উড ফরেস্ট (Sherwood Forest): রবিন হুড এবং তার অনুসারীরা (Merry Men) এই বনের গভীরে বাস করতেন।

  • বিখ্যাত সহযোগী: লিটল জন (Little John), ফ্রায়ার টাক (Friar Tuck) এবং তার প্রেমিকা মেইড মারিয়ান (Maid Marian)।

  • দর্শন: তার মূল মন্ত্র ছিল— "ধনী ও অত্যাচারীদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া।"

  • শত্রু: নটিংহ্যামের শেরিফ (Sheriff of Nottingham), যিনি ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত এবং প্রজাপীড়ক।

রবিন হুডের ব্যাল্যাডের বৈশিষ্ট্য:

এই গল্পগুলো বীরত্ব, তীরন্দাজি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতীক। এগুলো ল্যাটিন বা ফরাসি নয়, বরং সাধারণ মানুষের সহজ ইংরেজিতে গাওয়া হতো।


২. মধ্যযুগের অন্যান্য জনপ্রিয় লোকগাঁথা (Popular Ballads)

রবিন হুড ছাড়াও এই সময়ে আরও কিছু বিখ্যাত ব্যাল্যাড প্রচলিত ছিল, যা মূলত বিয়োগান্তক প্রেম বা অতিপ্রাকৃত কাহিনী নিয়ে রচিত:

  1. Sir Patrick Spens: এটি একটি সামুদ্রিক দুর্যোগের কাহিনী। রাজা স্কটল্যান্ডের এক শ্রেষ্ঠ নাবিক স্যার প্যাট্রিককে এক বিপজ্জনক অভিযানে পাঠান, যেখানে ঝড়ের কবলে পড়ে সবাই মৃত্যুবরণ করে। এটি আভিজাত্য বনাম কর্তব্যের সংঘাত দেখায়।

  2. The Wife of Usher's Well: এটি একটি ভুতুড়ে বা অতিপ্রাকৃত ব্যাল্যাড। এক মা তার মৃত তিন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন এবং এক রাতে তারা ফিরে আসে, কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই তাদের আবার কবরে ফিরে যেতে হয়।

  3. Lord Randall: এটি বিশ্বাসঘাতকতার গল্প। এক যুবক তার প্রেমিকার হাতে বিষপ্রয়োগের শিকার হয়। পুরো গল্পটি মা এবং ছেলের কথোপকথনের মাধ্যমে এগিয়ে যায়।


কেন এই লোকগাঁথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

  • সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর: চসারের লেখায় সমাজের সব স্তরের মানুষের দেখা মিললেও, ব্যাল্যাডগুলোতে সরাসরি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং প্রতিবাদের ভাষা ফুটে উঠত।

  • সংগীতময়তা: এগুলো মূলত গাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তাই এগুলোর ছন্দ ও তাল (Rhyme and Rhythm) খুব চমৎকার।

  • ঐতিহাসিক দলিল: তৎকালীন ইংল্যান্ডের গ্রাম্য জীবন, কুসংস্কার এবং সাহসিকতার এক অকৃত্রিম চিত্র পাওয়া যায় এই লোকগাঁথাগুলোতে।


একটি দারুণ তথ্য: আপনি জানলে অবাক হবেন যে, ১৫শ শতাব্দীতে মুদ্রণ যন্ত্র আসার পর প্রথম যে বইগুলো সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিল, তার মধ্যে রবিন হুডের এই কাহিনীগুলো ছিল অন্যতম।

স্যার প্যাট্রিক স্পেন্স (Sir Patrick Spens)-এর সেই করুণ অথচ বীরত্বগাথাটি শুনি। এটি মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'স্কটিশ ব্যাল্যাড' (Scottish Ballad), যেখানে ভাগ্য, আনুগত্য এবং সমুদ্রের ভয়াবহতার এক অপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে।

গল্পটি শুরু হয় রাজা এবং তার এক আদেশ দিয়ে:

১. রাজার আদেশ

স্কটল্যান্ডের রাজা ডানফার্মলিন (Dunfermline) শহরে বসে মদ্যপান করছেন। তার একটি বিশেষ কাজের জন্য একজন দক্ষ নাবিকের প্রয়োজন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আমার এই জাহাজ চালানোর মতো সবচেয়ে সাহসী নাবিক কে?" তখন এক বৃদ্ধ সভাসদ উত্তর দিলেন, "স্যার প্যাট্রিক স্পেন্স হলেন এই রাজ্যের সেরা নাবিক।"

২. কঠিন সময়

রাজা তখনই প্যাট্রিককে একটি চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে আদেশ দেওয়া হলো— নরওয়ে থেকে রাজকন্যাকে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সমস্যা ছিল আবহাওয়া। তখন ছিল শীতকাল, আর উত্তর সাগরের (North Sea) আবহাওয়া এই সময়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক থাকে।

স্যার প্যাট্রিক যখন চিঠিটি পড়লেন, তিনি প্রথমে জোরে হেসে উঠলেন (ভাবলেন হয়তো মজা করা হচ্ছে), কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখে জল এল। তিনি জানতেন, এই সময়ে সমুদ্রে যাওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু। তিনি বিড়বিড় করে বললেন:

"এই শীতের দিনে আমাকে সমুদ্রে পাঠাতে কার মাথায় এই বুদ্ধি এল?"

৩. অশুভ লক্ষণ

তার অনুগত নাবিকরা ভয় পাচ্ছিল। একজন নাবিক বলল, "মালিক, আমি গতকাল রাতে নতুন চাঁদের কোলের ভেতর পুরনো চাঁদকে (New moon with the old moon in her arm) দেখেছি। এটা বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস।" কিন্তু রাজার আদেশ অমান্য করার উপায় নেই। তারা যাত্রা শুরু করলেন।

৪. ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্তক পরিণতি

নরওয়ে থেকে ফেরার পথে ঠিক যা হওয়ার ছিল তাই হলো। বিশাল এক ঝড় উঠল। সাগরের ঢেউ পাহাড়ের মতো আছড়ে পড়তে লাগল জাহাজের ওপর। প্যাট্রিক এবং তার সাহসী নাবিকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেন জাহাজ বাঁচাতে, কিন্তু সমুদ্রের শক্তির কাছে তারা হেরে গেলেন।

জাহাজের তলা ফেটে জল ঢুকতে শুরু করল। আভিজাত্য বা বীরত্ব কোনো কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারল না।

৫. শেষ দৃশ্য (The Final Image)

কবিতার শেষটা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। লেখক বর্ণনা করছেন:

  • সমুদ্রের পাড়ে স্কটল্যান্ডের অভিজাত মহিলারা বসে আছেন, হাতে তাদের সোনার চিরুনি। তারা তাদের স্বামী বা প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

  • কিন্তু তারা আর ফিরবে না।

  • অনেক গভীরে, সমুদ্রের তলদেশে হাঁটু সমান বালির ওপর শুয়ে আছেন স্যার প্যাট্রিক স্পেন্স, আর তার পায়ের কাছে পড়ে আছে তার অনুগত নাবিকদের মৃতদেহ।


কেন এই কাহিনীটি এত বিখ্যাত?

১. আনুগত্য: স্যার প্যাট্রিক জানতেন তিনি মারা যাবেন, তবুও রাজার আদেশের প্রতি তিনি অনুগত ছিলেন। ২. শ্রেণী বৈষম্য: শেষে দেখা যায়, দামী পোশাক পরা লর্ডরা (Lords) যখন ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের আভিজাত্য কোনো কাজে আসেনি। মৃত্যুর কাছে সবাই সমান। ৩. আবেগ: অপেক্ষারত নারীদের বর্ণনা পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।


একটি নোট: এই ব্যাল্যাডটি মূলত মৌখিকভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এসেছে। তাই এর অনেকগুলো ভার্সন বা সংস্করণ পাওয়া যায়।

রবিন হুডের অনেক গল্পের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মজার একটি হলো— "রবিন হুড এবং লিটল জনের প্রথম সাক্ষাৎ"।

এই গল্পটি দেখায় যে, কীভাবে একজন শত্রুও রবিনের পরম বন্ধু হয়ে উঠতে পারে।


রবিন হুড এবং লিটল জন (The Encounter at the Bridge)

একদিন রবিন হুড তার দলবল নিয়ে বনের গভীরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি সরু কাঠের পুল বা সেতুর সামনে এসে থামলেন। সেতুটি এতটাই সরু ছিল যে একসঙ্গে দুজন মানুষ পার হওয়া সম্ভব ছিল না।

১. অচেনা দীর্ঘকায় মানুষ: রবিন যখন সেতুর এক প্রান্ত থেকে পার হতে শুরু করলেন, ঠিক তখনই অন্য প্রান্ত থেকে এক বিশালদেহী মানুষ (প্রায় ৭ ফুট লম্বা!) সেতুতে উঠে পড়লেন। রবিন তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, "পিছিয়ে যাও বন্ধু, আগে আমাকে পার হতে দাও।"

২. দ্বন্দ্বের শুরু: সেই বিশালদেহী মানুষটি মুচকি হেসে বললেন, "আমি কেন পিছিয়ে যাব? যদি তুমি আমাকে সরাতে চাও, তবে তোমার ধনুক চালাও।" রবিন রেগে গিয়ে নিজের ধনুক বের করতে চাইলেন, কিন্তু পরক্ষণেই ভাবলেন— একজনের হাতে লাঠি আর অন্যজনের হাতে ধনুক, এটা তো বীরের লড়াই হতে পারে না। তাই রবিন তার ধনুক নামিয়ে রেখে একটি শক্ত ও লম্বা ওক গাছের ডাল (Quarterstaff) তুলে নিলেন।

৩. সেতুর ওপর যুদ্ধ: শুরু হলো লড়াই! সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দুজন দুজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। রবিন খুব দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু সেই দীর্ঘকায় লোকটিও ছিলেন অজেয়। প্রায় এক ঘণ্টা লড়াই চলার পর, সেই বিশালদেহী মানুষটি এক প্রচণ্ড আঘাতে রবিন হুডকে সরাসরি নদীর ঠান্ডা জলে ফেলে দিলেন!

৪. বন্ধুত্বের শুরু: রবিন জল থেকে ভিজে একাকার হয়ে উঠে এলেন। তার অনুসারীরা (Merry Men) তলোয়ার বের করে সেই লোকটিকে আক্রমণ করতে চাইল। কিন্তু রবিন তাদের থামিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললেন:

"থামো! লোকটা সত্যিই একজন বীর। ও আমাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে।"

রবিন সেই লোকটির হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং তার পরিচয় জানতে চাইলেন। লোকটি তার নাম বললেন 'জন লিটল'। রবিন হোহো করে হেসে উঠলেন এবং বললেন, "তোমার নাম জন লিটল? কিন্তু তুমি তো পাহাড়ের মতো বিশাল! আজ থেকে তোমার নাম হবে 'লিটল জন' (Little John)।"


এই গল্পের মূল শিক্ষা:

রবিন হুড কেবল একজন যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মনের মানুষ। নিজের পরাজয়কে তিনি হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই সাহস দেখে লিটল জন সারাজীবনের জন্য রবিনের প্রধান সেনাপতি এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে রইলেন।


Read More (Index-)

1. ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস  

2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 

3.  অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস

4.  মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ

5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০১০৬৬)

6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬১৫০০

7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)  

8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur   

9. William Langland: Piers Plowman 

10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০১৬৬০

11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet  

12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus   

13.Edmund Spenser: The Faerie Queene     

14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০১৭৯৮

16. John Dryden: Absalom and Achitophel   

17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 

18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)   

19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe  

20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮১৮৩২) : আবেগপ্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 

21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads  :  বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২১৯০১শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন

26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;

27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 

28. Robert Browning: My Last Duchess  বিষয়বস্তু

29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles   বিষয়বস্তু 

30. আধুনিক যুগ (১৯০১১৯৩৯প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 

31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড)  বিষয়বস্তু 

32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু  

33. James Joyce: Ulysses  :বিষয়বস্তু 

34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 

35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯বর্তমানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 

36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু 

37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু  

মধ্যযুগের অবসান (The End of Middle Ages)

রবিন হুডের এই সব রোমাঞ্চকর কাহিনীগুলো যখন লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ইংল্যান্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছিল:

  • ১৪৫৩ সাল: কনস্টান্টিনোপলের পতন (যা রেনেসাঁর পথ প্রশস্ত করে)।

  • ১৪৭৬ সাল: উইলিয়াম ক্যাক্সটন ইংল্যান্ডে প্রথম Printing Press স্থাপন করেন।

  • ১৪৮৫ সাল: টিউডর রাজবংশের সূচনা।

পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

Post a Comment

0 Comments