Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

 


Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

জেন অস্টিনের 'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' (Pride and Prejudice) কেবল ইংরেজি সাহিত্যের নয়, বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। ১৮১৩ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি তার তীক্ষ্ণ সামাজিক পর্যবেক্ষণ, হাস্যরস এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার জন্য আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।

আপনার অনুরোধ অনুযায়ী এর বিষয়বস্তু এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে এর প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:


১. বিষয়বস্তু (Plot Overview)

উপন্যাসটি মূলত বেনড পরিবারের পাঁচ অবিবাহিত মেয়ের বিয়ে এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সমাজের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

  • মূল দ্বন্দ্ব: গল্পের প্রধান চরিত্র এলিজাবেথ বেনড এবং ফিটজউইলিয়াম ডারসি। এলিজাবেথের মনে ডারসি সম্পর্কে একটি 'পূর্বসংস্কার' (Prejudice) তৈরি হয়, অন্যদিকে ডারসির আভিজাত্যের 'অহংকার' (Pride) তাকে সাধারণ মানুষের থেকে দূরে রাখে। এই দুইয়ের সংঘাত ও শেষ পর্যন্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসানই উপন্যাসের প্রাণ।

  • সামাজিক বাস্তবতা: অস্টিন দেখিয়েছেন যে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে নারীদের জন্য বিয়ে ছিল এক প্রকার 'অর্থনৈতিক নিরাপত্তা'। কারণ তৎকালীন আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত।

  • চরিত্রায়ন: এলিজাবেথের বুদ্ধিমত্তা, ডারসির গাম্ভীর্য, মিস্টার বেনডের কৌতুকপূর্ণ উদাসীনতা এবং মিসেস বেনডের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এটি একটি নিখুঁত জীবনধর্মী আখ্যান।


২. পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা সাহিত্যে জেন অস্টিন এবং এই উপন্যাসের প্রভাব অপরিসীম:

  • রোমান্টিক কমেডির ভিত্তি: আধুনিক 'রোমান্টিক কমেডি' বা 'চিক লিট' (Chick Lit) ঘরানার উপন্যাসের মূল কাঠামোটি অস্টিনই তৈরি করে দিয়েছেন। "শুরুতে ঘৃণা, শেষে ভালোবাসা"—এই ফর্মুলা আজও হলিউড মুভি বা উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়।

  • বাস্তববাদ (Realism): অস্টিন অতিপ্রাকৃত বা রোমান্টিক উচ্ছ্বাস বর্জন করে দৈনন্দিন জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা পরবর্তীকালে জর্জ এলিয়ট বা ভার্জিনিয়া উলফ-এর মতো লেখিকাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

  • ব্যঙ্গ ও শ্লেষ (Irony): অস্টিনের লেখনশৈলী, বিশেষ করে সমাজের ভণ্ডামিকে ব্যঙ্গ করার ধরণটি পশ্চিমা সাহিত্যের এক আদর্শ মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।


৩. প্রাচ্য সাহিত্যে প্রভাব

প্রাচ্য বা এশিয়ান সাহিত্যে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে 'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস'-এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর:

  • পারিবারিক কাঠামো ও বিয়ে: প্রাচ্য সমাজব্যবস্থায় যৌথ পরিবার এবং বিয়ে নিয়ে যে সামাজিক চাপ থাকে, তার সাথে অস্টিনের উপন্যাসের অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়। এই কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার পাঠকরা এলিজাবেথ বা মিসেস বেনডের সাথে নিজেদের সহজেই মেলাতে পারেন।

  • বাংলা সাহিত্য: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে পরবর্তী অনেক বাঙালি ঔপন্যাসিকের লেখায় অস্টিনের সামাজিক পর্যবেক্ষণের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং নারী চরিত্রের দৃঢ়তা চিত্রায়নে অস্টিন একটি অদৃশ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন।

  • আধুনিক রূপান্তর: ভারত ও পাকিস্তানে অস্টিনের এই কাহিনীকে ভিত্তি করে অসংখ্য নাটক ও সিনেমা নির্মিত হয়েছে। যেমন—গুরিন্দর চাড্ডার 'ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' (Bride and Prejudice), যেখানে কাহিনীটিকে পাঞ্জাবি সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অস্টিনের বিষয়বস্তু ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে সর্বজনীন।


'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, এটি মানুষের চারিত্রিক ত্রুটি এবং সামাজিক বিবর্তনের এক দলিল। প্রাচ্য হোক বা পাশ্চাত্য, যেখানেই আভিজাত্যের দম্ভ আর ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল আছে, সেখানেই এই উপন্যাসটি প্রাসঙ্গিক।

'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস'-এর পুরো আবেদনটাই টিকে আছে এর অসাধারণ চরিত্রায়নের ওপর। বিশেষ করে এলিজাবেথ বেনড এবং মিস্টার ডারসি—এই দুটি চরিত্র সাহিত্যের ইতিহাসে 'আইকনিক' জুটি হিসেবে পরিচিত।

নিচে এই দুটি প্রধান চরিত্রের গভীরতর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:


১. এলিজাবেথ বেনড (Elizabeth Bennet)

এলিজাবেথ বা 'লিজি' জেন অস্টিনের সবথেকে প্রিয় এবং উজ্জ্বল সৃষ্টি। তিনি তৎকালীন প্রচলিত 'আদর্শ নারী'র ছক ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন।

  • বুদ্ধিমত্তা ও প্রাণচাঞ্চল্য: এলিজাবেথ অত্যন্ত বুদ্ধিমতী এবং প্রখর রসবোধের অধিকারী। তার চারপাশের মানুষের ভণ্ডামি বা বোকামি সে খুব সহজেই ধরতে পারে।

  • ভুল ও অনুশোচনা: তার চরিত্রের প্রধান ত্রুটি হলো 'Prejudice' বা পূর্বসংস্কার। উইকহ্যামের কথায় বিশ্বাস করে সে ডারসিকে ভুল বুঝেছিল। তবে যখন সে সত্য জানতে পারে, তখন নিজের ভুল স্বীকার করার মতো মানসিক সাহসিকতাও সে দেখায়।

  • নারীবাদী চেতনা: সে সময়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বিয়ে করাই ছিল নিয়ম, কিন্তু এলিজাবেথ মিস্টার কলিন্সের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণ করেছেন যে, প্রেম ও সম্মান ছাড়া বিয়ে করা অসম্ভব।

২. ফিটজউইলিয়াম ডারসি (Mr. Darcy)

ডারসি চরিত্রটি উপন্যাসের শুরুতে একজন অত্যন্ত অহংকারী এবং গম্ভীর মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়, কিন্তু গল্পের শেষে সে একজন প্রকৃত 'জেন্টলম্যান' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে।

  • আভিজাত্যের অহংকার (Pride): উচ্চবংশীয় হওয়ায় এবং প্রচুর ধন-সম্পত্তি থাকায় ডারসি শুরুতে এলিজাবেথের পরিবার এবং সামাজিক অবস্থানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। তার প্রথম বিয়ের প্রস্তাবটি ছিল অত্যন্ত উদ্ধত।

  • চারিত্রিক পরিবর্তন: এলিজাবেথের প্রত্যাখ্যান ডারসিকে নিজের ভুল বুঝতে বাধ্য করে। সে এলিজাবেথের জন্য পর্দার আড়ালে থেকে বেনড পরিবারের সম্মান রক্ষা করে (লিডিয়া ও উইকহ্যামের ঘটনায়), যা তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার পরিচয় দেয়।

  • গভীর ব্যক্তিত্ব: ডারসি আসলে লাজুক এবং সামাজিক মেলামেশায় কিছুটা আড়ষ্ট, যা অনেকে 'অহংকার' বলে ভুল করে। তার নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ অত্যন্ত প্রবল।


এলিজাবেথ ও ডারসি: কেন এই জুটি অনন্য?

তাদের রসায়ন বা 'কেমিস্ট্রি' কেবল রোমান্টিক নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক। তারা একে অপরকে উন্নত মানুষ হতে সাহায্য করে। এলিজাবেথ ডারসিকে ভদ্র হতে শিখিয়েছে, আর ডারসি এলিজাবেথকে শিখিয়েছে অতি দ্রুত কাউকে বিচার না করতে।


আপনার জন্য একটি ছোট কুইজ বা জিজ্ঞাসা:

উপন্যাসের শুরুতে ডারসি এলিজাবেথ সম্পর্কে বলেছিলেন— "She is tolerable, but not handsome enough to tempt me." (সে চলনসই, কিন্তু আমাকে প্রলুব্ধ করার মতো সুন্দরী নয়)।

আপনার পর্যবেক্ষণটি একদম সঠিক এবং অত্যন্ত গভীর। ডারসির সেই বিখ্যাত অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য—"She is tolerable, but not handsome enough to tempt me"—আসলে এই উপন্যাসের পুরো নাটকীয়তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছিল।

নিচে আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কিছু বিশ্লেষণ এবং পার্শ্ব চরিত্রের আলোচনা দেওয়া হলো:


১. ডারসির অবজ্ঞা এবং এলিজাবেথের আত্মসম্মান

এলিজাবেথ যখন আড়ালে দাঁড়িয়ে ডারসির এই মন্তব্যটি শোনেন, তখন তিনি দমে না গিয়ে বরং বিষয়টিকে হাস্যরসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে অবচেতনে এটি তার 'Prejudice' বা পূর্বসংস্কারকে উসকে দেয়।

  • চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ: ডারসির এই মন্তব্য এলিজাবেথের আত্মসম্মানকে (Self-esteem) আঘাত করেছিল। ফলে তিনি ডারসিকে একজন "অহংকারী" হিসেবে ধরে নেন এবং তার প্রতি কোনো বিশেষ আকর্ষণ দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। এই 'নির্লিপ্ততা' বা গুরুত্ব না দেওয়াই কিন্তু পরবর্তীকালে ডারসিকে এলিজাবেথের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কারণ ডারসি অভ্যস্ত ছিলেন নারীদের তোষামোদে, সেখানে এলিজাবেথের এই বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ উপেক্ষা তার কাছে নতুন মনে হয়েছিল।

  • মানসিক রূপান্তর: এলিজাবেথ যদি শুরুতেই ডারসির প্রতি দুর্বল হতেন, তবে তাদের ভালোবাসা হয়তো এত পরিপক্ক হতো না। একে অপরের ভুল ত্রুটিগুলো সামনাসামনি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই তারা একে অপরকে সম্মান করতে শিখেছেন।


২. পার্শ্ব চরিত্রের প্রভাব: মিস্টার কলিন্স ও জর্জ উইকহ্যাম

উপন্যাসের মূল কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দিতে এই দুই চরিত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য:

মিস্টার কলিন্স (Mr. Collins)

তিনি উপন্যাসের সবথেকে হাস্যকর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

  • চাটুকারিতা: তিনি লেডি ক্যাথরিন ডি বার্গের অন্ধ অনুসারী এবং প্রচণ্ড চাটুকার। তার চরিত্রের মাধ্যমে অস্টিন তৎকালীন চার্চের যাজকদের একাংশের মূর্খতা ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রতি অন্ধ ভক্তিকে ব্যঙ্গ করেছেন।

  • এলিজাবেথের গুরুত্ব: কলিন্স যখন এলিজাবেথকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং এলিজাবেথ তা প্রত্যাখ্যান করেন, তখন এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে এলিজাবেথ কেবল 'আর্থিক নিরাপত্তা'র জন্য বিয়ে করতে রাজি নন—যা ডারসির সাথে তার সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে।

জর্জ উইকহ্যাম (George Wickham)

তিনি এই উপন্যাসের তথাকথিত 'ভিলেন' বা খলনায়ক।

  • মুখোশধারী চরিত্র: উইকহ্যাম দেখতে সুদর্শন এবং কথা বলায় পটু, যা এলিজাবেথকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি ডারসি সম্পর্কে মিথ্যা গল্প বলে এলিজাবেথের মনে ডারসির প্রতি ঘৃণা আরও বাড়িয়ে দেন।

  • ঘটনার অনুঘটক: উইকহ্যাম যখন লিডিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যান, তখন ডারসি গোপনে তাকে টাকা দিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করেন এবং বেনড পরিবারের সম্মান বাঁচান। এই একটি ঘটনাই এলিজাবেথের চোখের পর্দা সরিয়ে দেয় এবং তিনি বুঝতে পারেন ডারসি আসলে কতটা মহানুভব।

১. বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে কলিন্স ও উইকহ্যাম

হ্যাঁ, অস্টিন খুব সচেতনভাবেই মিস্টার কলিন্স এবং জর্জ উইকহ্যামকে এলিজাবেথের বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা দেখানোর জন্য ব্যবহার করেছেন।

  • মিস্টার কলিন্স (চাটুকারিতা): এলিজাবেথ কলিন্সকে শুরু থেকেই ঘৃণা করতেন এবং তার বোকামিকে উপহাস করতেন। এখানে এলিজাবেথের বুদ্ধিমত্তা সফল, কারণ তিনি কলিন্সের চাটুকারিতা ও সংকীর্ণমনা ব্যক্তিত্বকে চিনতে পেরেছিলেন। এটি দেখায় যে এলিজাবেথ সামাজিক পদমর্যাদার চেয়ে মানুষের ব্যক্তিত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন।

  • জর্জ উইকহ্যাম (প্রতারণা): এখানেই এলিজাবেথ ব্যর্থ হন। উইকহ্যাম অত্যন্ত সুদর্শন এবং মার্জিত স্বভাবের ছিলেন। এলিজাবেথ নিজের বুদ্ধিমত্তার ওপর এতটাই গর্বিত ছিলেন যে, তিনি ভেবেছিলেন তিনি মানুষকে এক দেখাতেই চিনে ফেলতে পারেন। উইকহ্যামের মিথ্যে গল্পে বিশ্বাস করে তিনি ডারসিকে ঘৃণা করতে শুরু করেন।
    অস্টিনের উদ্দেশ্য: অস্টিন দেখাতে চেয়েছেন যে, অতি-আত্মবিশ্বাস বা 'Pride' অনেক সময় বুদ্ধিমান মানুষের বিচারবুদ্ধিও অন্ধ করে দেয়। উইকহ্যাম ছিল এলিজাবেথের সেই 'অহংকার' ভাঙার একটি অস্ত্র।


২. লিডিয়ার পালিয়ে যাওয়া: অনুভূতির টার্নিং পয়েন্ট

লিডিয়ার উইকহ্যামের সাথে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি না ঘটলে এলিজাবেথ ও ডারসির মিলন হয়তো অসম্ভব ছিল না, তবে তা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন হতো। এই ঘটনাটি এলিজাবেথের মনে ডারসি সম্পর্কে ধারণা পুরোপুরি বদলে দেয়।

  • কৃতজ্ঞতা থেকে ভালোবাসা: এলিজাবেথ যখন জানতে পারেন যে ডারসি নিজের শত্রু উইকহ্যামকে টাকা দিয়ে লিডিয়াকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছেন (যাতে বেনড পরিবারের সম্মান বাঁচে), তখন তার মনের সব ঘৃণা কৃতজ্ঞতায় রূপ নেয়। তিনি বুঝতে পারেন, ডারসি তাকে পাওয়ার জন্য নয়, বরং নিঃস্বার্থভাবে তার পরিবারের জন্য এটি করেছেন।

  • সামাজিক ব্যবধান ঘুচে যাওয়া: লিডিয়ার এই কেলেঙ্কারি বেনড পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করেছিল। ডারসি চাইলে এই পরিবার থেকে দূরে সরে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি আরও কাছে এগিয়ে এলেন। এটি এলিজাবেথকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ডারসির ভালোবাসা বাহ্যিক আভিজাত্যের চেয়ে অনেক বেশি গভীর।


সংক্ষেপে উত্তর

লিডিয়ার ঘটনাটি না ঘটলে এলিজাবেথ হয়তো ডারসির মহানুভবতা এবং নিজের ভুল পুরোপুরি বুঝতে পারতেন না। এটি ছিল গল্পের সেই 'Climax', যা এলিজাবেথের আত্মসম্মান এবং ডারসির আভিজাত্যকে একই সমতলে নিয়ে আসে।

অবশ্যই! এই নামকরণের পরিবর্তনটি উপন্যাসের মূল দর্শনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। জেন অস্টিন ১৭৯৬-৯৭ সালের দিকে যখন প্রথম খসড়াটি লিখেছিলেন, তখন এর নাম দিয়েছিলেন 'ফার্স্ট ইমপ্রেশনস' (First Impressions)। কিন্তু ১৮১৩ সালে প্রকাশের সময় তিনি নাম বদলে রাখেন 'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' (Pride and Prejudice)।

নিচে এই পরিবর্তনের কারণ এবং থিমের সাথে এর সংযোগ আলোচনা করা হলো:


১. কেন 'ফার্স্ট ইমপ্রেশনস' বাদ দেওয়া হলো?

  • অন্যান্য উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্য: সেই সময় 'ফার্স্ট ইমপ্রেশনস' নামে আরও কিছু বই বাজারে ছিল, তাই অস্টিন মৌলিকতা বজায় রাখতে নাম পরিবর্তনের কথা ভাবেন।

  • গভীরতার অভাব: 'ফার্স্ট ইমপ্রেশনস' নামটিতে কেবল প্রথম দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়, কিন্তু মানুষের চারিত্রিক জটিলতা বা সমাজের ভেতরের সংঘাত সেখানে ততটা ফুটে ওঠে না।

২. 'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' কেন নিখুঁত নাম?

এই নামটি উপন্যাসের দুই প্রধান চরিত্রের দুই বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে, যা তাদের মিলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

  • প্রাইড (অহংকার) - মিস্টার ডারসি: ডারসি তার উচ্চবংশ, আভিজাত্য এবং অঢেল সম্পত্তি নিয়ে অহংকারী ছিলেন। তিনি মনে করতেন তার সামাজিক অবস্থান অন্যদের চেয়ে অনেক উপরে। এটি তার আভিজাত্যের অন্ধত্বকে প্রকাশ করে।

  • প্রেজুডিস (পূর্বসংস্কার) - এলিজাবেথ বেনড: এলিজাবেথ শুরুতে ডারসি সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেছিলেন, তা ছিল ভুল বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। ডারসির প্রথম অবজ্ঞা এবং উইকহ্যামের মিথ্যে গল্পে বিশ্বাস করে তিনি ডারসিকে একজন খারাপ মানুষ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। এটি ছিল তার বুদ্ধিবৃত্তিক অন্ধত্ব।


৩. থিমের সাথে সংযোগ

উপন্যাসের শেষে দেখা যায়, ভালোবাসা এবং বাস্তবতার খাতিরে দুজনেই নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছেন।

  • ডারসি তার অহংকার ত্যাগ করেন: তিনি এলিজাবেথের পরিবারের কেলেঙ্কারি (লিডিয়া-উইকহ্যাম) জানার পরও তাদের সাহায্য করেন, যা তার আভিজাত্যের দম্ভকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।

  • এলিজাবেথ তার পূর্বসংস্কার ত্যাগ করেন: ডারসির মহানুভবতা এবং উইকহ্যামের আসল রূপ দেখার পর এলিজাবেথ বুঝতে পারেন যে তার প্রথম ধারণাটি ভুল ছিল।

উপসংহার

অস্টিন বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের চরিত্র কেবল 'প্রথম দর্শনে' চেনা যায় না। মানুষের ভেতরের সত্যকে জানতে হলে অহংকার এবং পূর্বসংস্কার—এই দুটি দেয়াল ভাঙা জরুরি। তাই 'প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' নামটি কেবল একটি শিরোনাম নয়, এটি মানুষের মানসিক বিবর্তনের একটি সারাংশ। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com


Read More (Index-)

1. ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস  

2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 

3.  অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস

4.  মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ

5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০১০৬৬)

6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬১৫০০

7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)  

8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur   

9. William Langland: Piers Plowman 

10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০১৬৬০

11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet  

12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus   

13.Edmund Spenser: The Faerie Queene     

14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০১৭৯৮

16. John Dryden: Absalom and Achitophel   

17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 

18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)   

19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe  

20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮১৮৩২) : আবেগপ্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 

21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads  :  বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২১৯০১শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন

26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;

27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 

28. Robert Browning: My Last Duchess  বিষয়বস্তু

29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles   বিষয়বস্তু 

30. আধুনিক যুগ (১৯০১১৯৩৯প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 

31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড)  বিষয়বস্তু 

32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু  

33. James Joyce: Ulysses  :বিষয়বস্তু 

34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 

35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯বর্তমানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 

36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু 

37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু  

Post a Comment

0 Comments