Daniel Defoe: Robinson Crusoe
দানিয়েল ডিফো-র কালজয়ী উপন্যাস 'রবিনসন ক্রুসো' (Robinson Crusoe) বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমাঞ্চকর কাহিনী। নিচে এর বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
উপন্যাসের মূল কাহিনী
১. সমুদ্রযাত্রার নেশা ও দুর্ভাগ্য
রবিনসন ক্রুসো ছিলেন একজন ইংরেজ যুবক, যার প্রবল ইচ্ছা ছিল সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো। তার বাবার অমত থাকা সত্ত্বেও তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে জাহাজযাত্রায় নামেন। বেশ কিছু ছোটখাটো বিপদের পর, একবার একটি ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ে তার জাহাজটি ধ্বংস হয়ে যায়। ক্রুসো বাদে জাহাজের সব যাত্রী মারা যান।
২. জনমানবহীন দ্বীপে একাকী জীবন
ক্রুসো ঢেউয়ের তোড়ে একটি নির্জন দ্বীপে গিয়ে পৌঁছান। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি ভাঙা জাহাজ থেকে কিছু খাবার, বন্দুক, বারুদ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। এই দ্বীপে তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর কাটান।
ঘর তৈরি: তিনি গুহার পাশে একটি সুরক্ষিত আস্তানা তৈরি করেন।
বেঁচে থাকার সংগ্রাম: তিনি চাষাবাদ শুরু করেন, বন্য ছাগল পালন করেন এবং নিজের জন্য কাপড় ও আসবাবপত্র তৈরি করতে শেখেন।
ধর্ম ও দর্শন: একাকীত্বের এই সময়ে তিনি বাইবেল পাঠ শুরু করেন এবং নিজের জীবনের ভুলগুলো বুঝতে পেরে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেন।
৩. ফ্রাইডে-র আগমন
দীর্ঘদিন একাকী থাকার পর, ক্রুসো একদিন দ্বীপে কিছু নরখাদকের পায়ের ছাপ দেখতে পান। তিনি এক বন্দিকে নরখাদকদের হাত থেকে রক্ষা করেন। সেই দিনটি ছিল শুক্রবার, তাই ক্রুসো তার নাম রাখেন 'ফ্রাইডে' (Friday)। ক্রুসো তাকে ইংরেজি ভাষা এবং সভ্য জগতের রীতিনীতি শেখান। ফ্রাইডে তার অনুগত সঙ্গী হয়ে ওঠে।
৪. মুক্তি ও প্রত্যাবর্তন
অবশেষে একটি ইংরেজ জাহাজ সেই দ্বীপের কাছে আসে। জাহাজের নাবিকরা বিদ্রোহ করেছিল, কিন্তু ক্রুসো এবং ফ্রাইডে মিলে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে সাহায্য করেন এবং জাহাজটি উদ্ধার করেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ক্রুসো আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন তার ব্যবসা থেকে প্রচুর সম্পদ অর্জিত হয়েছে।
মূল উপজীব্য বিষয় (Themes)
মানুষের ইচ্ছাশক্তি: প্রতিকূল পরিবেশে একা থেকেও মানুষ কীভাবে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে টিকে থাকতে পারে, এটিই উপন্যাসের মূল শিক্ষা।
উপনিবেশবাদ: ক্রুসো যেভাবে দ্বীপটিকে নিজের সম্পত্তি মনে করতেন এবং ফ্রাইডেকে নিজের ভৃত্য বানিয়েছিলেন, তা তৎকালীন ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের প্রতিফলন।
আধ্যাত্মিক রূপান্তর: একাকীত্ব ও বিপদের মুখে ক্রুসোর নাস্তিক্যবাদ থেকে আস্তিকতায় ফেরার যাত্রা।
অবশ্যই, আপনি যদি এই কালজয়ী উপন্যাসের চরিত্র বা বিশেষ কোনো দিক নিয়ে আরও জানতে চান, তবে নিচের বিশ্লেষণগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে:
১. রবিনসন ক্রুসোর চরিত্র বিশ্লেষণ
ক্রুসো কোনো সাধারণ মহাপুরুষ নন, বরং তিনি একজন বাস্তববাদী মানুষের প্রতিফলন।
অদম্য কৌতূহল: আরামদায়ক জীবন ছেড়ে বারবার বিপদের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়া তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
মানসিক দৃঢ়তা: ২৮ বছর একাকী দ্বীপে থেকেও তিনি পাগল হয়ে যাননি। বরং সময় পরিমাপের জন্য একটি কাঠে দাগ কাটা, দিনলিপি (Diary) লেখা এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে তিনি মানসিক ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
আধ্যাত্মিক বিবর্তন: শুরুতে তিনি উদ্ধত থাকলেও, বিপদের মুখে তিনি বিনয়ী হয়ে ওঠেন এবং ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।
২. 'ফ্রাইডে' (Friday): বিশ্বস্ততার প্রতীক
ফ্রাইডে চরিত্রটি উপন্যাসে এক নতুন মোড় নিয়ে আসে।
সে ক্রুসোর প্রতি ছিল অগাধ বিশ্বাসী এবং অনুগত।
ক্রুসো তাকে 'সভ্য' করার চেষ্টা করলেও, ফ্রাইডের সারল্য এবং সাহসিকতা অনেক সময় ক্রুসোকেও মুগ্ধ করেছে।
তবে আধুনিক সমালোচনায় ফ্রাইডেকে প্রায়ই উপনিবেশবাদের শিকার হিসেবে দেখা হয়, কারণ ক্রুসো তাকে নিজের সমান মর্যাদা না দিয়ে 'ভৃত্য' বা 'শিষ্য' হিসেবে দেখেছিলেন।
৩. উপন্যাসের একটি বিশেষ অধ্যায়: প্রথম পদাঙ্ক আবিষ্কার
উপন্যাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলোর একটি হলো যখন ক্রুসো বালির ওপর একটি অপরিচিত পায়ের ছাপ দেখতে পান।
দীর্ঘ ১৫ বছর একা থাকার পর সেই একটি ছাপ তাকে প্রচণ্ড আতঙ্কিত করে তুলেছিল।
এটি আমাদের শেখায় যে, মানুষ সামাজিক প্রাণী; একাকীত্ব যেমন কষ্টের, তেমনি অপরিচিত মানুষের উপস্থিতিও অনেক সময় ভয়ের কারণ হতে পারে।
৪. ক্রুসোর উদ্ভাবনী শক্তি (Survival Skills)
তিনি দ্বীপে সম্পূর্ণ শূন্য থেকে সবকিছু তৈরি করেছিলেন:
মাটির পাত্র: রোদে পুড়িয়ে হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করা।
নৌকা তৈরি: একটি বিশাল গাছ কেটে তিনি একক প্রচেষ্টায় একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করেছিলেন (যদিও সেটি সাগরে নামাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন)।
পশুপালন: বুনো ছাগল ধরে সেগুলোকে গৃহপালিত করা।
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা
36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু
37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

0 Comments