John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

 


John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

জন মিল্টনের মহাকাব্য 'প্যারাডাইস লস্ট' (Paradise Lost) ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এর মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের আদি পাপ এবং স্বর্গ থেকে পতনের কাহিনী। নিচে এর মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:


মূল বিষয়বস্তু (Core Subject Matter)

এই মহাকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিল্টন নিজেই বলেছেন— "To justify the ways of God to men" অর্থাৎ মানুষের কাছে ঈশ্বরের কাজের যৌক্তিকতা তুলে ধরা। কাহিনীটি মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত:

১. শয়তানের বিদ্রোহ ও পতন

কাব্যের শুরুতে দেখা যায়, ঈশ্বর ও তাঁর পুত্র (যিশু)-র শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে দেবদূত লুসিফার (শয়তান) স্বর্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শয়তান তার অনুসারীদের নিয়ে নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। নরকের আগুনে দগ্ধ হয়েও শয়তান তার দম্ভ ত্যাগ করে না এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

২. মানুষের সৃষ্টি ও প্রলোভন

ঈশ্বর পৃথিবী এবং প্রথম মানব আদম (Adam) ও মানবী হাওয়াকে (Eve) সৃষ্টি করেন। তাঁদের বসবাসের জন্য দেওয়া হয় পরম সুখের স্থান 'ইডেন উদ্যান'। ঈশ্বর তাঁদের একটিই শর্ত দেন— উদ্যানের মাঝখানে থাকা 'জ্ঞানবৃক্ষ' (Tree of Knowledge)-র ফল তাঁরা কখনোই ভক্ষণ করতে পারবেন না।

৩. পতন ও অভিশাপ

শয়তান সর্পবেশে ইডেন উদ্যানে প্রবেশ করে এবং হাওয়াকে প্রলুব্ধ করে সেই নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য। হাওয়া ফলটি খাওয়ার পর আদমকেও তা খেতে প্ররোচিত করেন। ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করার ফলে তাঁদের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং তাঁরা নশ্বর মানুষে পরিণত হন। শাস্তি হিসেবে তাঁদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করা হয়।

৪. ভবিষ্যৎবাণী ও আশার আলো

স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হওয়ার সময় আদম ও হাওয়া অত্যন্ত শোকার্ত ছিলেন। তবে প্রধান দেবদূত মাইকেল তাঁদের ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখান। তিনি জানান যে, ভবিষ্যতে ঈশ্বরের পুত্র (যিশু) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন এবং নিজের বলিদানের মাধ্যমে মানবজাতিকে পাপমুক্ত করবেন। এই আশার বাণী নিয়েই আদম ও হাওয়া অশ্রুসিক্ত চোখে ইডেন ত্যাগ করে পৃথিবীর কঠিন পথে পা বাড়ান।


প্রধান চরিত্রসমূহ

চরিত্র

ভূমিকা

ঈশ্বর (God)

সর্বশক্তিমান এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা।

শয়তান (Satan)

বিদ্রোহী দেবদূত, যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায়।

আদম (Adam)

প্রথম পুরুষ, যাকে ঈশ্বর তাঁর প্রতিচ্ছবিতে সৃষ্টি করেছেন।

হাওয়া (Eve)

প্রথম নারী, আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্ট।

যিশু (The Son)

ঈশ্বরের পুত্র, যিনি মানবজাতির মুক্তির জন্য আত্মত্যাগ করেন।


সংক্ষেপে: 'প্যারাডাইস লস্ট' কেবল একটি হারানো স্বর্গের গল্প নয়, এটি মানুষের অবাধ্যতা, দম্ভ, পতন এবং শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের করুণার মাধ্যমে পুনরায় মুক্তির এক বিশাল ক্যানভাস।

নিশ্চয়ই! জন মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট'-এর শয়তান (Satan) চরিত্রটি বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জটিল এবং বিতর্কিত চরিত্র। মিল্টন তাকে এমনভাবে চিত্রিত করেছেন যে, অনেক সমালোচক তাকে এই মহাকাব্যের 'অঘোষিত নায়ক' (Unconventional Hero) বলে মনে করেন।

শয়তানের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:


শয়তানের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য (Character Analysis of Satan)

১. অদম্য সাহস ও দম্ভ (Indomitable Courage and Pride)

শয়তানের চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো তার দম্ভ। নরকের আগুনে পড়ে থেকেও সে ভেঙে পড়েনি। তার বিখ্যাত উক্তিটি এর প্রমাণ দেয়:

"Better to reign in Hell, than serve in Heaven." (স্বর্গে দাসত্ব করার চেয়ে নরকে রাজত্ব করা অনেক ভালো।)

সে পরাজয় মেনে নিতে রাজি নয় এবং ঈশ্বরের অসীম ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়।

২. বাগ্মিতা ও প্ররোচনা (Eloquence and Persuasion)

শয়তান একজন অসাধারণ বক্তা। সে তার অনুসারীদের (পতিত দেবদূত) উজ্জীবিত করতে পটু। আবার ইডেন উদ্যানে সে অত্যন্ত চতুরতার সাথে হাওয়াকে প্রলুব্ধ করে। তার কথা বলার ধরন এতই যুক্তিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ছিল যে, হাওয়া নিষিদ্ধ ফল খেতে বাধ্য হন।

৩. ট্র্যাজিক হিরো বা বিষাদময় নায়ক (Tragic Hero)

কাব্যের শুরুর দিকে (বিশেষ করে Book I ও II-এ) শয়তানকে একজন মহান বীরের মতো মনে হয়। তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ভঙ্গি তাকে মহাকাব্যিক বীরের মর্যাদা দেয়। তবে কাহিনী যত এগোয়, তার এই 'বীরত্ব' ততই হিংসা ও নিচতায় রূপান্তরিত হয়।

৪. প্রতিহিংসা ও ঈর্ষা (Revenge and Envy)

শয়তানের বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল ঈশ্বরের পুত্রের (The Son) প্রতি ঈর্ষা। সে ঈশ্বরকে সরাসরি হারাতে পারবে না জেনে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি 'মানুষ'কে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করে। এটি তার চরিত্রের নৈতিক অধঃপতন ও কুটিলতা প্রকাশ করে।


মহাকাব্যের ১২টি বইয়ের বিন্যাস (Structure of the 12 Books)

'প্যারাডাইস লস্ট' মোট ১২টি খণ্ডে বা বইয়ে (Books) বিভক্ত। সংক্ষেপে মূল ঘটনাপ্রবাহ নিচে দেওয়া হলো:

  • Book 1 & 2: শয়তান ও তার অনুসারীদের নরকে পতন, শয়তানের বিখ্যাত ভাষণ এবং মানুষের ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র।

  • Book 3: স্বর্গে ঈশ্বরের সভা এবং যিশুর মানবজাতিকে বাঁচানোর প্রস্তাব।

  • Book 4: শয়তানের ইডেন উদ্যানে প্রবেশ এবং আদম-হাওয়াকে প্রথম দেখা।

  • Book 5 - 8: দেবদূত রাফায়েলের আগমন, স্বর্গের যুদ্ধের বর্ণনা এবং মহাবিশ্ব সৃষ্টির কাহিনী আদমকে শোনানো।

  • Book 9: শয়তানের প্রলোভন এবং আদম-হাওয়ার নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ (The Fall of Man)।

  • Book 10: পাপ ও মৃত্যুর পৃথিবীতে প্রবেশ এবং আদম-হাওয়ার অনুশোচনা।

  • Book 11 & 12: দেবদূত মাইকেলের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঝিলিক দেখানো এবং স্বর্গ থেকে বিদায়।

শয়তান কি প্যারাডাইস লস্ট-এর নায়ক?' (Satan as a Hero)—এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সমালোচক, বিশেষ করে রোমান্টিক যুগের কবিরা (যেমন উইলিয়াম ব্ল্যাক এবং পি. বি. শেলি) মনে করতেন যে মিল্টন অনিচ্ছাসত্ত্বেও শয়তানকে একজন নায়কের মতো চিত্রিত করেছেন।

নিচে এই বিতর্কের মূল পয়েন্টগুলো এবং কিছু বিখ্যাত উদ্ধৃতি (Quotes) দেওয়া হলো যা আপনি আপনার উত্তরে ব্যবহার করতে পারেন:


শয়তান কি একজন নায়ক? (Satan as a Heroic Figure)

১. বীরোচিত গুণাবলি (Heroic Qualities)

মহাকাব্যের প্রথম দুটি বইতে (Book I & II) শয়তানকে একজন মহান যোদ্ধার মতো মনে হয়। তার পরাজয় মেনে না নেওয়ার মানসিকতা এবং অটল সংকল্প তাকে বীরের মর্যাদা দেয়।

Quote: "What though the field be lost? All is not lost; the unconquerable will..." (অর্থ: যুদ্ধক্ষেত্রে হারলেও সব হারাইনি; আমাদের অদম্য ইচ্ছা তো এখনো আছে...)

২. স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই (Rebel against Tyranny)

শয়তান নিজেকে একজন মুক্তিকামী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে। সে ঈশ্বরের শাসনকে 'স্বৈরাচার' (Tyranny) হিসেবে গণ্য করে এবং স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে।

Quote: "Better to reign in Hell, than serve in Heaven." (অর্থ: স্বর্গে দাসত্ব করার চেয়ে নরকে রাজত্ব করা অনেক ভালো।)

৩. ট্র্যাজিক বীর (Tragic Hero)

শয়তানের চরিত্রে অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞায়িত 'ট্র্যাজিক ফ্ল' (Tragic Flaw) বা চারিত্রিক ত্রুটি আছে—যা হলো তার অহংকার (Pride)। তার এই বিশাল পতন এবং যন্ত্রণার কারণে পাঠকদের মনে তার প্রতি এক ধরনের করুণা বা সহমর্মিতা তৈরি হয়।


কেন সে শেষ পর্যন্ত 'খলনায়ক' (Why he is ultimately the Villain)

যদিও শুরুতে তাকে বীরের মতো লাগে, কিন্তু ধীরে ধীরে তার চরিত্রের অবনতি ঘটে:

  • ছদ্মবেশ ও ধূর্ততা: একজন প্রকৃত বীর কখনো সাপের মতো নিচ ছদ্মবেশ ধরে আক্রমণ করে না।

  • ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা: সে তার পরাজয়ের বদলা নিতে নিষ্পাপ মানুষকে (আদম-হাওয়া) ধ্বংস করতে চায়, যা বীরত্ব নয় বরং নিচতা।

  • নৈতিক অধঃপতন: কাব্যের শেষে শয়তান তার মহিমা হারিয়ে একটি তুচ্ছ সর্পে পরিণত হয়, যা তার চূড়ান্ত পরাজয়।


পরীক্ষার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি উদ্ধৃতি (Important Quotes)

পরীক্ষায় এই উদ্ধৃতিগুলো ইংরেজিতে লিখলে নম্বর বেশি পাওয়া যায়:

  1. শয়তানের মানসিক শক্তি নিয়ে:
    "The mind is its own place, and in itself can make a heaven of hell, a hell of heaven." (মন নিজের জায়গায় স্বাধীন; এটি নরককে স্বর্গ এবং স্বর্গকে নরক বানিয়ে দিতে পারে।)

  2. ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিল্টনের ঘোষণা:
    "That to the highth of this great argument / I may assert eternal providence, / And justify the ways of God to men." (মানুষের কাছে ঈশ্বরের কাজের যৌক্তিকতা তুলে ধরাই এই কাব্যের মূল লক্ষ্য।)

  3. আদম ও হাওয়ার স্বর্গত্যাগ নিয়ে:
    "The world was all before them, where to choose / Their place of rest, and Providence their guide: / They hand in hand with wandering steps and slow, / Through Eden took their solitary way."

আদম (Adam) এবং হাওয়া (Eve) এই মহাকাব্যের কেন্দ্রীয় মানব চরিত্র। মিল্টন তাঁদের কেবল প্রথম মানব-মানবী হিসেবেই নয়, বরং তাঁদের আবেগ, ভুল এবং অনুশোচনার মাধ্যমে এক গভীর মানবিক রূপ দিয়েছেন।

নিচে আদম ও হাওয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং 'প্যারাডাইস লস্ট'-এর একটি সামারি চার্ট দেওয়া হলো:


Read More (Index-)

1. ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস  

2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস 

3.  অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস

4.  মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ

5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০১০৬৬)

6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬১৫০০

7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)  

8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur   

9. William Langland: Piers Plowman 

10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০১৬৬০

11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet  

12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus   

13.Edmund Spenser: The Faerie Queene     

14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)

15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০১৭৯৮

16. John Dryden: Absalom and Achitophel   

17. Alexander Pope: The Rape of the Lock 

18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)   

19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe  

20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮১৮৩২) : আবেগপ্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য 

21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads  :  বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব

22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা  প্রাচ্য  পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব 

25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২১৯০১শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন

26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;

27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু 

28. Robert Browning: My Last Duchess  বিষয়বস্তু

29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles   বিষয়বস্তু 

30. আধুনিক যুগ (১৯০১১৯৩৯প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ 

31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড)  বিষয়বস্তু 

32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু  

33. James Joyce: Ulysses  :বিষয়বস্তু 

34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু 

35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯বর্তমানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা 

36. Samuel Beckett: Waiting for Godot: বিষয়বস্তু 

37. George Orwell: 1984, Animal Farm: বিষয়বস্তু  

১. আদম (Adam) - বিচারবুদ্ধি ও ভালোবাসার দ্বন্দ্ব

আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবিতে। তিনি ছিলেন জ্ঞান ও যুক্তিবোধে সমৃদ্ধ।

  • যুক্তিবাদী সত্তা: আদম হাওয়ার চেয়ে বেশি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন। তিনি জানতেন নিষিদ্ধ ফল খাওয়া মানেই মৃত্যু ও পতন।

  • অন্ধ ভালোবাসা (Domestic Love): আদমের পতনের মূল কারণ ছিল হাওয়ার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা। যখন তিনি দেখলেন হাওয়া ফলটি খেয়ে ফেলেছেন, তখন তিনি একা স্বর্গে থাকার চেয়ে হাওয়ার সাথে মৃত্যু বা নরক বরণ করাকেই শ্রেয় মনে করলেন।

  • অনুশোচনা: পতনের পর আদম ভেঙে পড়লেও তিনি শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী হন।

২. হাওয়া (Eve) - সৌন্দর্য ও কৌতুহল

হাওয়া ছিলেন সৌন্দর্যের প্রতীক, কিন্তু তাঁর চরিত্রে কিছুটা চপলতা ও আত্মমুগ্ধতা (Vanity) ছিল।

  • আত্মমুগ্ধতা: সৃষ্টির পর জলাশয়ে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে তিনি নিজেই নিজের প্রেমে পড়েছিলেন, যা তাঁর চরিত্রের একটি দুর্বল দিক।

  • প্রলোভন: শয়তান তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তাঁকে সহজেই প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল। তিনি 'দেবতুল্য' হওয়ার লোভে নিষিদ্ধ ফলটি খেয়েছিলেন।

  • মাতৃত্ব ও ক্ষমা: হাওয়াই প্রথম আদমের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে ঈশ্বরের দিকে ফিরে যাওয়ার পথ দেখান।


'প্যারাডাইস লস্ট' সামারি চার্ট (Summary Chart)

এই চার্টটি আপনাকে পুরো মহাকাব্যের কাঠামো একনজরে বুঝতে সাহায্য করবে:

পর্যায় (Phase)

প্রধান ঘটনা (Key Events)

স্থান (Setting)

মূল চরিত্র

বিদ্রোহ ও পতন

শয়তানের পরাজয় এবং নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়া।

নরক (Hell)

শয়তান ও বিদ্রোহী দেবদূত

পরিকল্পনা

ঈশ্বর ও যিশুর আলোচনা; শয়তানের পৃথিবী যাত্রার সিদ্ধান্ত।

স্বর্গ (Heaven)

ঈশ্বর, যিশু, শয়তান

ইডেন উদ্যান

আদম-হাওয়ার সুখের জীবন এবং শয়তানের প্রবেশ।

পৃথিবী (Eden)

আদম, হাওয়া, শয়তান

প্রলোভন (The Fall)

সাপের বেশে শয়তানের প্ররোচনা; নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ।

ইডেন উদ্যান

হাওয়া, আদম, শয়তান

শাস্তি ও অভিশাপ

ঈশ্বর কর্তৃক বিচার; মৃত্যু ও পাপের আগমন।

পৃথিবী ও স্বর্গ

ঈশ্বর, আদম, হাওয়া

ভবিষ্যৎ ও বিদায়

মানবজাতির ভবিষ্যৎ দর্শন এবং স্বর্গ ত্যাগ।

পৃথিবীর প্রান্ত

দেবদূত মাইকেল, আদম, হাওয়া


আদম ও হাওয়ার পতনের মধ্যে একটি পার্থক্য আছে যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। হাওয়ার পতন ছিল 'Deceived' (প্রতারিত হওয়া), কারণ তিনি শয়তানের মিথ্যে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু আদমের পতন ছিল 'Undone by female charm' (নারীর মোহে পতন), কারণ তিনি জানতেন তিনি ভুল করছেন, তবুও হাওয়ার সঙ্গ ছাড়তে চাননি। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com

Post a Comment

0 Comments