ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই সময়কালটি মূলত জার্মানি থেকে আসা বিভিন্ন উপজাতির আগমনের মাধ্যমে শুরু হয় এবং ১০৬৬ সালে নরম্যান বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়।
নিচে এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং উল্লেখযোগ্য দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
## ঐতিহাসিক পটভূমি
৫ম শতাব্দীতে রোমানরা ব্রিটেন ত্যাগ করলে অ্যাঙ্গলস (Angles), স্যাক্সন (Saxons) এবং জুটস (Jutes) নামক তিনটি জার্মানিক উপজাতি সেখানে বসতি স্থাপন করে। তাদের মুখের ভাষাই কালক্রমে ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন ভাষায় রূপান্তরিত হয়।
## সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য
এই যুগের সাহিত্য মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল: মৌখিক (Oral) এবং লিখিত (Written)।
বীরত্বগাথা (Heroic Poetry): যুদ্ধ, বীরত্ব এবং সাহসিকতা ছিল এই সাহিত্যের মূল উপজীব্য।
ধর্মীয় প্রভাব: প্রথম দিকে সাহিত্য পৌত্তলিক (Pagan) বিশ্বাসে ভরপুর থাকলেও, পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্মের প্রসারের ফলে কবিতায় বাইবেলের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
অলঙ্কার (Literary Devices): এই যুগের কবিতায় অন্ত্যমিলের (Rhyme) চেয়ে Alliteration (অনুপ্রাস) এবং Kennings (রূপকধর্মী শব্দচয়ন, যেমন: সমুদ্রকে বলা হতো 'Whale-road') বেশি ব্যবহৃত হতো।
## উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম ও লেখক
## যুগের সমাপ্তি
১০৬৬ সালে Battle of Hastings-এ নরম্যানরা (ফরাসি ভাষী) ইংল্যান্ড জয় করলে ওল্ড ইংলিশ যুগের অবসান ঘটে। এরপর থেকে ইংরেজি ভাষায় ফরাসি প্রভাব শুরু হয় এবং 'মিডল ইংলিশ' (Middle English) যুগের সূচনা হয়।
একটি মজার তথ্য: ওল্ড ইংলিশ ভাষা আজকের আধুনিক ইংরেজি ভাষা থেকে এতটাই আলাদা যে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন আধুনিক মানুষের পক্ষে এটি পড়া বা বোঝা প্রায় অসম্ভব।
ওল্ড ইংলিশ সাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাট হলো বেওউলফ (Beowulf)। এটি কেবল একটি বীরত্বগাথা নয়, বরং এটি সেই সময়ের সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং বীরত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল।
নিচে বেওউলফ মহাকাব্যের মূল বিষয়গুলো সহজভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
## বেওউলফ: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়
ধরণ: এটি একটি Epic Poem বা মহাকাব্য।
রচনাকাল: এর সঠিক সময় জানা না গেলেও ধারণা করা হয় ৭ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এটি লেখা হয়েছিল।
লেখক: মহাকাব্যটির লেখক অজ্ঞাত (Anonymous)।
প্রেক্ষাপট: কবিতাটি ইংল্যান্ডে লেখা হলেও এর কাহিনী গড়ে উঠেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়া (বর্তমান ডেনমার্ক ও সুইডেন) অঞ্চলকে কেন্দ্র করে।
## কাহিনী সংক্ষেপ (The Plot)
মহাকাব্যটি মূলত তিনটি প্রধান যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:
গ্রেন্ডেল বনাম বেওউলফ: ডেনমার্কের রাজা রোদগারের (Hrothgar) রাজপ্রাসাদ 'হেওরোট' (Heorot)-এ গ্রেন্ডেল নামক এক রাক্ষস আক্রমণ করে। গিটস (Geats) বংশের বীর বেওউলফ তাকে পরাজিত করতে এগিয়ে আসেন এবং খালি হাতে গ্রেন্ডেলকে মেরে ফেলেন।
গ্রেন্ডেলের মা বনাম বেওউলফ: ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গ্রেন্ডেলের মা আক্রমণ করলে বেওউলফ জলের নিচে তার গুহায় গিয়ে তাকেও হত্যা করেন।
ড্রাগন বনাম বেওউলফ: কাহিনীর অনেক বছর পর, বেওউলফ যখন তার নিজের দেশের রাজা, তখন একটি ড্রাগন তার রাজ্যে তাণ্ডব চালায়। বৃদ্ধ বয়সেও বেওউলফ ড্রাগনটিকে মারতে সক্ষম হন, কিন্তু নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
## প্রধান থিমসমূহ
বীরত্ব ও সম্মান (Comitatus): একজন বীর তার রাজার প্রতি কতটা অনুগত এবং সাহসী হতে পারে, তা এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
খ্রিস্টধর্ম বনাম পৌত্তলিকতা: কবিতাটিতে একদিকে যেমন ভাগ্য (Wyrd) এবং দানবদের কথা আছে, অন্যদিকে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুরও পাওয়া যায়।
মৃত্যুর অনিবার্যতা: বেওউলফের মৃত্যু দেখায় যে, যত বড় বীরই হোক না কেন, সময়ের কাছে সবাইকে হার মানতে হয়।
## কেন এটি আজও গুরুত্বপূর্ণ?
বেওউলফ মহাকাব্যটি ওল্ড ইংলিশ ভাষার শব্দভাণ্ডার এবং ছন্দ বোঝার জন্য সবচেয়ে বড় উৎস। জে.আর.আর. টলকিন (J.R.R. Tolkien), যিনি The Lord of the Rings লিখেছেন, তিনি এই বেওউলফ দ্বারাই দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
## ১. ওল্ড ইংলিশ 'কেনিং' (Kenning): শব্দের জাদুকরী রূপক
অ্যাংলো-স্যাক্সন কবিরা সরাসরি কোনো শব্দ ব্যবহার না করে দুটি শব্দ মিলিয়ে একটি নতুন রূপক তৈরি করতেন। একেই বলা হয় Kenning। এটি অনেকটা ধাঁধার মতো ছিল, যা কবিতাকে আরও কাব্যিক এবং গম্ভীর করত।
কিছু বিখ্যাত উদাহরণ:
## ২. 'The Seafarer' (দ্য সিফেয়ারার): একাকীত্বের গান
এটি ওল্ড ইংলিশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ Elegy বা বিলাপমূলক কবিতা। এতে একজন নাবিকের সমুদ্রযাত্রার কঠিন অভিজ্ঞতা এবং তার আধ্যাত্মিক উপলব্ধির কথা বলা হয়েছে।
বিমর্ষ বাস্তবতা: কবিতায় বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে প্রচণ্ড শীতে বরফজমা সমুদ্রে একজন নাবিক একাকী যুদ্ধ করেন। সমুদ্রের গর্জন আর পাখির ডাকই ছিল তার একমাত্র সঙ্গী।
দ্বন্দ্ব: একদিকে সমুদ্রের কষ্ট ও বিপদ, অন্যদিকে ডাঙ্গার আয়েশি জীবনের প্রতি তার বিতৃষ্ণা। সমুদ্র তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় এক অজানা গন্তব্যে।
আধ্যাত্মিকতা: কবিতার শেষ অংশে কবি পার্থিব জীবনের নশ্বরতা এবং ঈশ্বরের কাছে ফিরে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এটি দেখায় যে এই পৃথিবী আমাদের স্থায়ী ঠিকানা নয়, সমুদ্রের মতো এটিও এক অনিশ্চিত যাত্রা।
## আপনার জন্য একটি ছোট প্রশ্ন
আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আধুনিক ইংরেজিতেও আমরা অনেক সময় কেনিং-এর মতো শব্দ ব্যবহার করি? যেমন: 'Bookworm' (বইপোকা) বা 'Skyscraper' (আকাশচুম্বী অট্টালিকা)।
আপনার আগ্রহের ধারাবাহিকতায় আমরা এখন ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের গদ্য (Prose) এবং এই গদ্যের প্রাণপুরুষ কিং আলফ্রেড দ্য গ্রেট (King Alfred the Great) সম্পর্কে আলোচনা করতে পারি।
কবিতার চেয়ে গদ্যের বিকাশ কিছুটা দেরিতে হলেও, আলফ্রেডের হাত ধরেই ইংরেজি ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাহন হয়ে ওঠে।
## ১. কিং আলফ্রেড দ্য গ্রেট: ইংরেজি গদ্যের জনক
কিং আলফ্রেড (রাজত্বকাল: ৮৭১–৮৯৯) শুধুমাত্র একজন দক্ষ যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষানুরাগী। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ডেনিশ আক্রমণের ফলে ল্যাটিন শিক্ষার অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন করা জরুরি।
তাঁর প্রধান অবদানসমূহ:
অনুবাদ কর্ম: তিনি ল্যাটিন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো ওল্ড ইংলিশে অনুবাদ করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পোপ গ্রেগরির Pastoral Care এবং বোয়েথিয়াসের Consolation of Philosophy।
শিক্ষার প্রসার: তিনি নির্দেশ দেন যে, ইংল্যান্ডের প্রতিটি স্বাধীন যুবককে যেন ওল্ড ইংলিশ ভাষায় পড়তে শেখানো হয়।
The Anglo-Saxon Chronicle: এটি আলফ্রেডের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবদান। এটি ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাসের একটি ধারাবাহিক দিনলিপি, যা পরবর্তী কয়েকশ বছর ধরে লেখা হয়েছিল।
## ২. ওল্ড ইংলিশ গদ্যের অন্যান্য দিকপাল
আলফ্রেডের পরবর্তী সময়ে আরও দুইজন প্রখ্যাত গদ্য লেখক ওল্ড ইংলিশ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন:
Aelfric (অ্যালফ্রিক): তিনি তাঁর 'Sermons' বা ধর্মোপদেশের জন্য বিখ্যাত। তাঁর গদ্য ছিল অনেকটা কবিতার মতো ছন্দময় (Alliterative Prose)।
Wulfstan (উলফস্তান): তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো Sermo Lupi ad Anglos। এতে তিনি অ্যাংলো-স্যাক্সনদের পাপ এবং ডেনিশদের আক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
## ওল্ড ইংলিশ বনাম মিডল ইংলিশ: একটি ছোট তুলনা
গদ্যের এই উন্নতির পথ ধরেই ইংরেজি সাহিত্য পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ মিডল ইংলিশ (Middle English) যুগে প্রবেশ করে। নিচে একটি ছোট সারণী দেওয়া হলো:
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন (কনকপুর)পাঁশকুড়া : পূর্বমেদিনীপুর : email :lib.pbc@gmail.com
Read More (Index-)
2. অ্যাংলো স্যাক্সন যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
3. অ্যাংলো নরম্যান যুগ : ইংরাজী সাহিত্যের ইতিহাস
4. মিডল ইংলিশ পিরিয়ড এবং চসারের যুগ
5. ওল্ড ইংলিশ বা অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগ (৪৫০–১০৬৬)
6.মিডল ইংলিশ বা মধ্যযুগ (১০৬৬–১৫০০)
7. জেফ্রি চসারের 'দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস' (The Canterbury Tales)
8. Sir Thomas Malory: Le Morte d'Arthur
9. William Langland: Piers Plowman
10. রেনেসাঁ বা নবজাগরণ যুগ (১৫০০–১৬৬০)
11. William Shakespeare: Hamlet, Macbeth, Romeo and Juliet
12. Christopher Marlowe: Doctor Faustus
13.Edmund Spenser: The Faerie Queene
14. John Milton: Paradise Lost (প্যারাডাইস লস্ট)
15.নিও-ক্লাসিক্যাল যুগ (১৬৬০–১৭৯৮)
16. John Dryden: Absalom and Achitophel
17. Alexander Pope: The Rape of the Lock
18. Jonathan Swift: Gulliver's Travels (গালিভার্স ট্রাভেলস)
19. Daniel Defoe: Robinson Crusoe
20. রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮–১৮৩২) : আবেগ, প্রকৃতি এবং কল্পনার জয়গান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
21. William Wordsworth & S.T. Coleridge: Lyrical Ballads : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব:
22. John Keats: Ode to a Nightingale : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
23. P.B. Shelley: Ode to the West Wind : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
24. Jane Austen: Pride and Prejudice : বিষয়বস্তু আলোচনা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে প্রভাব
25. ভিক্টোরিয়ান যুগ (১৮৩২–১৯০১) শিল্প বিপ্লব এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন
26. Charles Dickens: David Copperfield, A Tale of Two Cities;
27. Lord Tennyson: In Memoriam: বিষয়বস্তু
28. Robert Browning: My Last Duchess বিষয়বস্তু
29. Thomas Hardy: Tess of the d'Urbervilles বিষয়বস্তু
30. আধুনিক যুগ (১৯০১–১৯৩৯) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ
31. T.S. Eliot: The Waste Land (দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড) বিষয়বস্তু
32. Virginia Woolf: Mrs Dalloway: বিষয়বস্তু
33. James Joyce: Ulysses :বিষয়বস্তু
34. George Bernard Shaw: Pygmalion: বিষয়বস্তু
35. উত্তর-আধুনিক যুগ (১৯৩৯–বর্তমান) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যে অনিশ্চয়তা

0 Comments