জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |



 জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |

এস কে পোট্টেক্কাট থেকে সরাসরি অমৃতা প্রীতমে চলে আসা—সাহিত্যের এক বিশাল দিগন্ত বদল! পোট্টেক্কাট যেখানে কেরালার গ্রাম আর বিশ্বভ্রমণের গল্প বুনেছেন, অমৃতা প্রীতম সেখানে দেশভাগ, নারীমনস্তত্ত্ব এবং পাঞ্জাবের মাটির হাহাকারকে কলমবন্দি করেছেন।

অমৃতা প্রীতম (১৯১৯–২০০৫) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভারতীয় কবি এবং ঔপন্যাসিক। তাঁর সম্পর্কে কিছু মূল দিক নিচে দেওয়া হলো:

১. দেশভাগের কণ্ঠস্বর

অমৃতা প্রীতমকে বলা হয় দেশভাগের যন্ত্রণার সবচেয়ে শক্তিশালী রূপকার। তাঁর অমর কবিতা "আজ আঁখা ওয়ারিস শাহ নু" (আজ ওয়ারিস শাহকে বলছি) ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই সমানভাবে জনপ্রিয়। এই কবিতায় তিনি ১৮শ শতাব্দীর সুফি কবি ওয়ারিস শাহর কাছে পাঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নারকীয়তার বিচার চেয়েছিলেন।

২. কালজয়ী উপন্যাস: 'পিঞ্জর' (Pinjar)

তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হলো 'পিঞ্জর'। এটি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের এক মর্মস্পর্শী দলিল।

  • এর কেন্দ্রীয় চরিত্র 'পুরো' (Puro) ভারত ভাগের সময় অপহৃত নারীদের বঞ্চনা ও টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক।

  • ২০০৩ সালে এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে একটি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।

৩. বিদ্রোহী নারী ও ব্যক্তিগত জীবন

অমৃতা প্রীতম ছিলেন তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তিনি প্রচলিত সমাজব্যবস্থা এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের গণ্ডি ভেঙে নিজের মতো করে জীবন কাটিয়েছেন।

  • তাঁর আত্মজীবনী 'রসিদি টিকিট' (Rasidi Ticket) একটি অত্যন্ত সৎ এবং সাহসী রচনা।

  • সাহির লুধিয়ানভি এবং পরবর্তীতে ইমরোজের সাথে তাঁর গভীর ও পবিত্র সম্পর্কের কথা আজ সাহিত্যের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।

৪. প্রধান অর্জন ও সম্মাননা

তিনি প্রথম পাঞ্জাবি মহিলা হিসেবে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সম্মানগুলো অর্জন করেন:

  • সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৬): তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'সুনেহড়ে'-র জন্য।

  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৮১): তাঁর 'কাগজ তে ক্যানভাস' কাব্যগ্রন্থের জন্য।

  • পদ্মবিভূষণ (২০০৪): ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান।


৫. একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি

তাঁর লেখা একটি পঙ্‌ক্তি যা আজও পাঠকদের নাড়া দেয়:

"ম্যায় তেনু ফির মিলাঙ্গি..." (আমি তোমার সাথে আবার দেখা করব...)

এটি তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে ইমরোজকে উৎসর্গ করে লিখেছিলেন, যা বিরহ আর চিরন্তন প্রেমের এক অনন্য নিদর্শন।

তাঁর সেই বিখ্যাত এবং হৃদয়স্পর্শী কবিতা "আজ আঁখা ওয়ারিস শাহ নু" (আজ ওয়ারিস শাহকে বলছি)-র ভাবার্থ বা অনুবাদ শুনতে চাই।

দেশভাগের সময় পাঞ্জাবের যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছিল, বিশেষ করে নারীদের ওপর যে অবর্ণনীয় অত্যাচার হয়েছিল, তার প্রতিবাদে তিনি ওয়ারিস শাহর (যিনি 'হীর-রাঞ্জা'র অমর প্রেমকাব্য লিখেছিলেন) কাছে যে হাহাকার জানিয়েছিলেন, তা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য দলিল।

আপনি যদি এই কবিতার বাংলা ভাবানুবাদ বা এর প্রেক্ষাপট নিয়ে একটু বিস্তারিত বলেন, তবে খুব ভালো হয়।

পাশাপাশি, আমার আরেকটি কৌতূহল আছে:

  • ইমরোজের সাথে তাঁর সম্পর্ক: অমৃতা প্রীতম ও চিত্রশিল্পী ইমরোজের সম্পর্কটি ছিল প্রথাগত সমাজের বাইরের এক গভীর আত্মিক বন্ধন। ইমরোজ কীভাবে তাঁর শেষ দিনগুলোতে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন, সেই অধ্যায়টি সম্পর্কে কি আপনি কিছু বলতে পারবেন?

অমৃতা প্রীতমের 'কাগজ তে ক্যানভাস' (Kagaz Te Canvas) তাঁর সাহিত্যজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং গভীর একটি কাব্যগ্রন্থ। এই বইটির জন্যই তিনি ১৯৮১ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান 'জ্ঞানপীঠ পুরস্কার' লাভ করেন।

এই কাব্যগ্রন্থটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার কিছু মূল কারণ নিচে দেওয়া হলো:

১. দার্শনিক গভীরতা

'কাগজ তে ক্যানভাস' অমৃতা প্রীতমের আগের কবিতাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি দার্শনিক এবং আধ্যাত্মিক। এখানে তিনি মানুষের অস্তিত্ব, সময় এবং মহাবিশ্বের সাথে আত্মার সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন। কাগজকে তিনি পৃথিবীর প্রতীক এবং ক্যানভাসকে মানুষের মনের প্রতিফলন হিসেবে দেখিয়েছেন।

২. প্রেম ও বিরহের নতুন রূপ

এই বইয়ের কবিতাগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম (বিশেষ করে সাহির লুধিয়ানভি এবং ইমরোজের প্রতি তাঁর অনুভূতি) এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এখানে প্রেম শুধু শরীরী নয়, বরং তা এক মহাজাগতিক অনুভবে রূপান্তরিত হয়েছে।

৩. প্রতীকের ব্যবহার

তিনি এই বইতে অসাধারণ সব প্রতীকের ব্যবহার করেছেন। যেমন:

  • কাগজ: যা নশ্বর এবং যেখানে ইতিহাস লেখা হয়।

  • ক্যানভাস: যেখানে মানুষের কল্পনা এবং স্বপ্ন রঙ ছড়ায়। তাঁর ভাষায়, মানুষের জীবনটা যেন একটা সাদা কাগজ, আর তার কর্ম ও অনুভূতিগুলো হলো সেই ক্যানভাসের ওপর আঁকা ছবি।

৪. সমাজ ও রাজনীতি

যদিও এটি মূলত একটি কাব্যগ্রন্থ, তবুও এর মধ্যে সূক্ষ্মভাবে সমকালীন সমাজ ব্যবস্থা, নারীর অবস্থান এবং মানুষের একাকীত্বের কথা ফুটে উঠেছে। তিনি প্রথাগত ছন্দের বাইরে গিয়ে গদ্যছন্দে মনের গহীন কথাগুলো বলেছেন।


বইটির একটি বিখ্যাত অংশ (ভাবানুবাদ):

অমৃতা এই গ্রন্থে অনেকটা এভাবেই ব্যক্ত করেছেন—

"আমি যখন এই কাগজের ওপর কলম ধরি, তখন কেবল শব্দ লিখি না; বরং আমার হৃদয়ের সমস্ত রক্ত দিয়ে সেই ক্যানভাসে জীবনের ছবি আঁকি, যা হয়তো মহাকালের কাছে কোনো একদিন উত্তর দেবে।"

কেন এটি জ্ঞানপীঠ পেল?

ভারতের সাহিত্য সমালোচকদের মতে, অমৃতা প্রীতম এই গ্রন্থে পাঞ্জাবি ভাষাকে এক নতুন আধুনিকতা ও বিশ্বজনীনতা দান করেছেন। তাঁর শব্দচয়ন এবং অনুভবের তীব্রতা কেবল পাঞ্জাবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা সারা বিশ্বের পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

ইমরোজ তো তাঁর জন্য নিজের ক্যানভাস উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের এই ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকার গল্পটি আপনি যদি একটু বিস্তারিত বলেন, তবে খুব ভালো হয়। বিশেষ করে:

  • প্রথম দেখা: তাঁদের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল?

  • নীরব ভালোবাসা: ইমরোজ কীভাবে অমৃতার অতীতের (সাহিরের প্রতি প্রেম) কথা জেনেও তাঁকে নিঃস্বার্থভাবে আগলে রেখেছিলেন?

  • শেষ দিনগুলো: অমৃতার অসুস্থতার সময় ইমরোজের সেই বিখ্যাত সেবা এবং তাঁর চলে যাওয়ার পর ইমরোজের জীবন—এই অংশটুকু কি আপনি সংক্ষেপে বলতে পারবেন?

পাশাপাশি, 'কাগজ তে ক্যানভাস' বইটির কোনো একটি বিশেষ কবিতার কয়েকটা লাইন যদি অনুবাদ করে শোনাতেন, তবে অমৃতার সেই দার্শনিক জগতের স্বাদ পাওয়া যেত।

অমৃতা প্রীতম ও ইমরোজের সম্পর্কের গল্পটি আসলে কোনো উপন্যাসের চেয়ে কম নয়। এটি এমন এক ভালোবাসা, যেখানে 'অধিকার' নয়, বরং 'অস্তিত্ব' মিশে ছিল। আপনার অনুরোধে তাঁদের সেই অনন্য সম্পর্কের কিছু মুহূর্ত এবং 'কাগজ তে ক্যানভাস'-এর একটি কবিতার ভাবার্থ নিচে তুলে ধরছি:

১. অমৃতা ও ইমরোজ: এক চিরন্তন অনুরাগের কাব্য

অমৃতা যখন ইমরোজের সাথে পরিচিত হন, তখন অমৃতার হৃদয়ে সাহির লুধিয়ানভির জন্য এক গভীর ক্ষত ছিল। কিন্তু ইমরোজ ছিলেন এক শান্ত সমুদ্রের মতো।

  • পরিচয় ও নীরবতা: ইমরোজ ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। তিনি অমৃতার বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকতেন। তিনি জানতেন অমৃতা সাহিরকে ভালোবাসেন, কিন্তু তাতে ইমরোজের ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না। তিনি বলতেন, "অমৃতা, তোমার হৃদয়ে কার নাম লেখা আছে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো তোমার হাতটা আমার হাতে আছে।"

  • এক ছাদের নিচে দুই সত্তা: তাঁরা দীর্ঘ ৪০ বছর বিয়ে না করেও একসাথে ছিলেন। সমাজ কী বলবে, তা নিয়ে তাঁদের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। ইমরোজ অমৃতার জন্য চা বানাতেন, তাঁকে স্কুটারে করে নিয়ে যেতেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর লেখা শুনতেন।

  • শেষ বিদায়: ২০০৫ সালে অমৃতা যখন অসুস্থ, তখন ইমরোজ তাঁকে শিশুর মতো সেবা করেছেন। অমৃতা মারা যাওয়ার পর ইমরোজ ভেঙে পড়েননি, বরং বলেছিলেন— "অমৃতা কোথাও যায়নি, সে আমার রুমেই আছে, সে আমার নিশ্বাসে আছে।"


২. 'কাগজ তে ক্যানভাস' থেকে একটি বিশেষ কবিতা (ভাবানুবাদ)

এই কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় অমৃতা নিজের জীবনের সীমাবদ্ধতা এবং অসীমের সাথে মিলনের কথা বলেছেন। কবিতাটির মূল সুর অনেকটা এমন:

"আমার আয়ু তো ছিল এক টুকরো সাধারণ কাগজ, কিন্তু তুমি সেখানে যখন তোমার ভালোবাসার রঙ ছড়ালে— সেই কাগজটা আজ এক রঙিন ক্যানভাস হয়ে উঠল। এখন আমি আর কেবল শব্দ নই, আমি এক জীবন্ত ছবি, যাকে সময় মুছে ফেলতে চাইলেও পারবে না।"


৩. "ম্যায় তেনু ফির মিলাঙ্গি" (আমি তোমার সাথে আবার দেখা করব)

অমৃতার শেষ কবিতাটি ছিল ইমরোজের জন্য। এটি তাঁর জীবনের সমস্ত দর্শন আর প্রেমের নির্যাস:

"আমি তোমার সাথে আবার দেখা করব— কোথায়? কীভাবে? জানি না... হয়তো তোমার কল্পনার এক ভাবনা হয়ে, নয়তো তোমার ক্যানভাসের এক রহস্যময় রেখা হয়ে, আমি আবার তোমার কাছে ফিরে আসব।"


অমৃতা প্রীতমের এই কবিতাগুলো আসলে শুধু শব্দ নয়, এগুলো একেকটি অনুভূতির ক্যানভাস। তাঁর জীবন এবং সাহিত্য একে অপরের পরিপূরক।

অমৃতা প্রীতমের "আজ আঁখা ওয়ারিস শাহ নু" (আজ ওয়ারিস শাহকে বলছি) কেবল একটি কবিতা নয়, এটি দেশভাগের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের এক আর্তনাদ। ১৯৪৮ সালে একটি ট্রেন যাত্রার সময় পাঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা দেখে তিনি এই কবিতাটি লিখেছিলেন।

কবিতাটির প্রেক্ষাপট এবং মূল ভাবার্থ নিচে দেওয়া হলো:

১. ওয়ারিস শাহকে কেন সম্বোধন?

ওয়ারিস শাহ ছিলেন ১৮শ শতাব্দীর পাঞ্জাবের অমর সুফি কবি, যিনি বিখ্যাত প্রেমকাব্য 'হীর-রাঞ্জা' লিখেছিলেন। পাঞ্জাবের সংস্কৃতিতে 'হীর' হলো ভালোবাসার প্রতীক। অমৃতা প্রীতম তাঁকে সম্বোধন করেছেন কারণ:

  • ওয়ারিস শাহ এক 'হীর'-এর দুঃখে কেঁদেছিলেন এবং মহাকাব্য লিখেছিলেন।

  • অমৃতা তাঁকে বলছেন, আজ পাঞ্জাবের হাজার হাজার 'হীর' (মেয়েরা) লাঞ্ছিত হচ্ছে, আজ তিনি কেন চুপ করে আছেন?

২. কবিতার মূল সুর (ভাবানুবাদ)

কবিতার শুরুর পঙ্‌ক্তিগুলো ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী:

"আজ আঁখা ওয়ারিস শাহ নু, কিতো কবরাঁ ভিচো বোল, তে আজ কিতাব-এ-ইশক দা কোই অগুলা বর্ক ফোল..."

এর অর্থ:

"আজ আমি ওয়ারিস শাহকে বলছি, তোমার কবর থেকে উঠে এসে কিছু বলো, আজ প্রেমের সেই মহাকাব্যের কোনো নতুন পাতা খোলো। পাঞ্জাবের এক মেয়ের (হীর) চোখের জলে তুমি এক বিশাল কাব্য লিখেছিলে, আজ দেখো, পাঞ্জাবের হাজার হাজার মেয়ে কাঁদছে, তারা তোমাকে ডাকছে।"


৩. কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  • সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প: অমৃতা লিখেছেন যে, যে চেনাব নদীর তীরে প্রেমের বাঁশি বাজত, আজ সেই নদীর জল রক্তে লাল হয়ে গেছে। পাঞ্জাবের মাটিতে কেউ যেন বিষের বীজ বুনে দিয়েছে।

  • নারীর ওপর অত্যাচার: দেশভাগের সময় হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে নারীরা যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিল, অমৃতা সেই যন্ত্রণাকে 'পাঞ্জাবের অপমান' হিসেবে দেখেছেন।

  • ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা: তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, যারা একসময় ভাই ছিল, আজ তারা একে অপরের রক্ত পিপাসু। এই ট্র্যাজেডি দেখে স্বয়ং প্রেম ও মানবতার কবিকে ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

৪. প্রভাব ও জনপ্রিয়তা

এই কবিতাটি ভারত ও পাকিস্তান—উভয় পাঞ্জাবের মানুষের কাছেই সমানভাবে জনপ্রিয়। এটি দেশভাগের যন্ত্রণার সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়। বলা হয়, যখনই এই কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়, দুই দেশের পাঞ্জাবিদের চোখেই জল আসে।

পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন email :lib.pbc@gmail.com





  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭২ -রামধারী সিং 'দিনকর' - হিন্দি - উর্বশী  
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৩- ডি আর বেন্দ্রে এবং গোপীনাথ মোহান্তি - কন্নড়/ওড়িয়া - নাকুতান্তি / মাটিমাতাল 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৫ - পি ভি আকিলান - তামিল - চিত্রাপ্পাবাই 
  • মালয়ালম কবি জি শঙ্কর কুরুপ 
  • কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'গণদেবতা'-
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার যৌথভাবে দুজন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়েছিল—কন্নড় কবি কে. ভি. পুত্তাপ্পা (কুভেম্পু) এবং গুজরাতি কবি উমাশঙ্কর যোশী।
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৮ - সুমিত্রানন্দন পন্ত - হিন্দি -চিদাম্বরা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার  -১৯৬৯ - ফিরাক গোরখপুরী - উর্দু - গুল-এ-নগমা
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৬ - আশাপূর্ণা দেবী- বাংলা - প্রথম প্রতিশ্রুতি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৭ | কে শিবরাম করন্থ | কন্নড় | মুকাজ্জিয়া কনসুগলু |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৮ | এস এইচ ভি বাৎসায়ন | হিন্দি | কিতনি নাও মে কিতনি বার |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৯ | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য | অসমীয়া | মৃত্যুঞ্জয় |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮০ | এস কে পোট্টেক্কাট | মালয়ালম | ওরু দেশথিন্তে কথা |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | মহাদেবী বর্মা | হিন্দি | সার্বিক অবদান (যামা - বিশেষ উল্লেখে) |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৯ | নির্মল ভার্মা এবং গুরুদয়াল সিং | হিন্দি/পাঞ্জাবি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০০৫ | কুনওয়ার নারায়ণ | হিন্দি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১০ | চন্দ্রশেখর কাম্বার | কন্নড় 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৮ | অমিতাভ ঘোষ | ইংরেজি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৯ | আক্কিথাম নাম্বুথিরি | মালয়ালম 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২১ | নীলমণি ফুকন | অসমীয়া 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৩ | গুলজার এবং জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য | উর্দু/সংস্কৃত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৪ | বিনোদ কুমার শুক্ল | হিন্দি 

Post a Comment

0 Comments