মায়াবী রাজপথের রাজকুমারী
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
শরতের মেঘে ঢাকা রূপালী সে চাঁদ, না কি কোনো মায়াবী মরীচিকা?
অঙ্গসৌষ্ঠবে যার ফুটে ওঠে সুনিপুণ বিধাতার এক শ্রেষ্ঠ তুলিকা।
আভিজাত্য মিশে আছে ললাটের ভাঁজে, চোখের পাতায় শান্ত ছায়া,
অচেনা এক গাম্ভীর্যে মোড়া তার তনু, যেন বসন্তের স্নিগ্ধ মায়া।
তব চরণের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন কোনো ধ্রুপদী সেতারের তান,
মাটির বুকেও ছড়ায় শিহরণ, জাগিয়ে তোলে নিভৃত কোনো গান।
উন্নত গ্রীবায় ফুটে ওঠে আভিজাত্য, চিবুকে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা,
তোমার চলায় নেই কোনো চপলতা, শুধু এক রাজকীয় নিস্তব্ধতা।
হরিণীর ক্ষিপ্রতা নয়, বরং এক শান্ত নদীর অবলীলায় বয়ে চলা,
হিল্লোলিত প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি যেন না বলা সহস্র গল্পের মালা।
তোমার সে গাম্ভীর্য ঘেরা মদির দু'নয়ন, নীলিমার গভীরতা হার মানে,
এক পলকের চাউনিতে পুরুষ হৃদয় যেন এক অদ্ভুত দহন জানে।
ঐ আঁচলের ছায়ায় কত সহস্র বসন্ত খুঁজে পায় তাদের আসল ঠিকানা,
তোমার এক তিলে লেখা আছে কত প্রেমিকের আজীবনের দীর্ঘ সীমানা।
অধরের কোণে যখন ফুটে ওঠে এক চিলতে রহস্যময় মৃদু হাসি,
অরণ্যের নির্জনতা ছিঁড়ে বেজে ওঠে কোনো অলৌকিক বাঁশি।
পুরুষের আকর্ষণ সে তো কামনার তপ্ত শিখা নয় কোনোদিন,
তোমার আভিজাত্যের কাছে মাথা নত করে হৃদয় হয় চিরঋণ।
অঙ্গভঙ্গির সে সংহতি, আর রুচিশীল ঐ সাজের পরিপাটি বাহার,
তোমাকে সাজায় অনাগত কালের এক এক অনুপম শ্রেষ্ঠ অলংকার।
তুমি হেঁটে যাও পথের ধূলি মাড়িয়ে, যেন স্বপ্নের কোনো এক তরী,
আভিজাত্যের মূর্ত প্রতীক তুমি, হৃদয়ের নিভৃত এক সুন্দরী।
তোমার চলায় যে আভিজাত্য ফুটে ওঠে, যে রাজকীয় সম্মোহন,
যুগে যুগে পুরুষ তার পায়ে সঁপে দেয় তার ক্লান্ত বিবাগী মন।
0 Comments